সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুদ্ধ থামাতে নভেম্বরে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বৈঠক, জট খুলবে কি শান্তি আলোচনার?ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন মামলায় বিচারকদের কঠিন প্রশ্নে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চিত আইনি জয়ের সম্ভাবনানোবেল না পেয়ে নরওয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, অভিবাসন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড় বিশ্বরাজনীতিব্রাজিলে ডানপন্থীদের পরাজিত করে লুলার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিতইরান যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্বে নেতানিয়াহুকে ভোট দিতে ইসরায়েলিদের প্রতি ট্রাম্পের আহ্বান

নোবেল না পেয়ে নরওয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, অভিবাসন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড় বিশ্বরাজনীতি

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পেয়ে নরওয়েকে কটাক্ষ ট্রাম্পের, অভিবাসন নিয়ে মন্তব্যে বাড়ছে বিতর্ক, কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

নোবেল না পেয়ে নরওয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, অভিবাসন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড় বিশ্বরাজনীতি
নোবেল না পেয়ে নরওয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, অভিবাসন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড় বিশ্বরাজনীতি

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে নরওয়েকে লক্ষ্য করে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার, ২৫ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হুরনে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি নরওয়ে সম্পর্কে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে দেশটি থেকে আসা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রয়টার্সের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচার তীব্র হচ্ছে। সমাবেশে তিনি অভিবাসন, ইউরোপের পরিস্থিতি এবং নিজের রাজনৈতিক অর্জন নিয়ে কথা বলেন। একপর্যায়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নরওয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, নরওয়ে থেকে অভিবাসীদের তিনি স্বাগত জানাতে চান না, কারণ তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি। একই বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় তিনি নরওয়েকে অত্যন্ত অবমাননাকর শব্দে আখ্যায়িত করেন। এর ফলে তাঁর ব্যক্তিগত হতাশা, অভিবাসননীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইতিমধ্যে নরওয়ের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরওয়ের অভিবাসীদের বিষয়ে নতুন কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ নতুন নয়। এর আগেও তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য। গত ৭ অক্টোবর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেন। তবে তিনি একই সঙ্গে স্বীকার করেন, পুরস্কারটি শেষ পর্যন্ত তাঁর হাতে আসবে কি না, তা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে।

চলতি বছরের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে। তিনি জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যে কমিশন গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরস্কার ঘোষণার পর ট্রাম্প নরওয়েকে দায়ী করে মন্তব্য করেন এবং সিদ্ধান্তটিকে অপমানজনক বলে আখ্যায়িত করেন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পার্থক্য রয়েছে। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে নরওয়ের নোবেল কমিটি। এই কমিটি নরওয়ে সরকারের সমার্থক নয়। ফলে পুরস্কার না পাওয়ার জন্য নরওয়ের পুরো রাষ্ট্র বা সাধারণ নাগরিকদের দায়ী করা বাস্তব পরিস্থিতির যথাযথ প্রতিফলন নয়।

নরওয়ের নোবেল কমিটি স্বাধীনভাবে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে। মনোনয়ন পাওয়া মানেই পুরস্কার পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে কাকে সম্মানিত করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নির্বাচনী প্রেক্ষাপট। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মিশিগানের পোর্ট হুরনের সমাবেশেও ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার চালান। অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয়ের মতো বিষয়গুলো তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নরওয়ে নিয়ে মন্তব্যটি সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই এসেছে।

তবে নরওয়ের নাগরিকদের বিষয়ে তাঁর মন্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো দেশের নাগরিকদের প্রবেশ, ভিসা বা অভিবাসনের নিয়ম পরিবর্তনের জন্য সাধারণত আনুষ্ঠানিক সরকারি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হয়। রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য এবং কার্যকর সরকারি নীতির মধ্যে তাই পার্থক্য রাখা জরুরি ।

যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ে উভয়ই উত্তর আটলান্টিক জোটের সদস্য। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তাব্যবস্থায় দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য অবমাননাকর মন্তব্য কূটনৈতিক আলোচনায় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

তবে শুধু এই বক্তব্যের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বা নরওয়ে পাল্টা কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিবেদনের সময় নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নরওয়ের নোবেল কমিটির একজন প্রতিনিধির কাছ থেকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নরওয়ে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর অন্যতম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের হিসাবে দেশটি বিশ্বের সমৃদ্ধ অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিলও বিপুল সম্পদের অধিকারী। ফলে ট্রাম্পের অবমাননাকর বক্তব্য নরওয়ের অর্থনৈতিক অবস্থার কোনো নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নয়; এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ।

প্রথমত, ট্রাম্প নরওয়ে সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন এবং নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন এই তথ্য রয়টার্সের প্রতিবেদনে সমর্থিত।

দ্বিতীয়ত, নরওয়ের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন দাবি সমর্থনের মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এটিকে কার্যকর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলা যাবে না।

তৃতীয়ত, নরওয়ে সরকার সরাসরি নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে এ ধারণা সঠিক নয়। পুরস্কার নির্বাচন করে নরওয়ের নোবেল কমিটি, যা সরকার থেকে পৃথক একটি প্রতিষ্ঠান।

চতুর্থত, ট্রাম্পের বক্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্যও পাওয়া যায়নি।

নরওয়ে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের খবরটি সত্য হলেও এর সঙ্গে সরকারি অভিবাসন নিষেধাজ্ঞা বা নিশ্চিত কূটনৈতিক সংকটের দাবি জুড়ে দেওয়া বিভ্রান্তিকর হবে। ঘটনাটি মূলত নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবং নির্বাচনী সমাবেশে তাঁর কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্যের নতুন উদাহরণ। পরবর্তী সময়ে নরওয়ে সরকার বা নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।


ট্যাগ: োনাল্ড ট্রাম্পনরওয়েনোবেল শান্তি পুরস্কারযুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিআন্তর্জাতিক রাজনীতিঅভিবাসন নীতিট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যনোবেল পুরস্কার বিতর্কমার্কিন নির্বাচনবিশ্ব সংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।