সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
গাজা শান্তিচুক্তিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের দাবি, নতুন চুক্তির সত্যতা নিয়ে বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নঝড় নেই, তবু ডুবছে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল, অস্বাভাবিক জোয়ারে বাড়ছে বিপর্যয়ের ভয়াবহ আশঙ্কাসৌদির তেলপথ ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দাবি হুতিদের, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘোষণা জোটেরক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ডাকব্যালট নিয়ে আদালতে কঠিন প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনট্রাম্পের কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধে বাড়ছে মূল্যচাপ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপাকে রিপাবলিকানরা

ট্রাম্পের কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধে বাড়ছে মূল্যচাপ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপাকে রিপাবলিকানরা

কানাডার পণ্যে উচ্চ শুল্ক, পাল্টা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে উদ্বেগ; মধ্যবর্তী নির্বাচনে চাপে ট্রাম্পের দল।

ট্রাম্পের কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধে বাড়ছে মূল্যচাপ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপাকে রিপাবলিকানরা
ট্রাম্পের কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধে বাড়ছে মূল্যচাপ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপাকে রিপাবলিকানরা

কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বিরোধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কানাডীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ, পাল্টা শুল্কের প্রতিক্রিয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে মার্কিন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মিশিগান, মেইন ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে বাণিজ্যনীতি নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প মিশিগানের পোর্ট হিউরনে এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেছেন, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ শিগগিরই মিটে যেতে পারে। তবে সম্ভাব্য সমঝোতার শর্ত, সময়সীমা কিংবা দুই দেশের মধ্যে কী ধরনের ছাড় দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। একই সমাবেশে তিনি কানাডার বিরুদ্ধে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেন।

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা নির্বাচনী বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ককে দেশীয় শিল্প রক্ষা, উৎপাদন ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশি বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু সমালোচকদের বক্তব্য, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ালে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত আমদানিকারক, উৎপাদক ও ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর নতুন শুল্ক কার্যকর হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে পড়ে। তবে সব কানাডীয় পণ্যের ওপর একই হারে শুল্ক প্রযোজ্য নয়; পণ্যের ধরন, বিদ্যমান বাণিজ্যিক বিধি এবং নির্দিষ্ট শুল্কনীতির ওপর প্রকৃত হার নির্ভর করে।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। বিশেষ করে মোটরগাড়ি, যন্ত্রাংশ, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ এবং কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। সীমান্তের দুই পাশে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হওয়ায় একই পণ্য তৈরির উপকরণ একাধিকবার সীমান্ত অতিক্রম করতে পারে। ফলে শুল্ক বাড়লে শুধু বিদেশি পণ্যের দাম নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কারখানার উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।

মিশিগানের পরিস্থিতি এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যটির অর্থনীতির সঙ্গে মোটরগাড়ি শিল্প ও কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিবিড়ভাবে জড়িত। কানাডা থেকে যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপকরণ আমদানির খরচ বাড়লে গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো সেই ব্যয়ের একটি অংশ নিজেরা বহন করতে পারে, আবার কিছু অংশ পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। এতে নতুন গাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরির আশঙ্কা থাকে।

মিশিগানে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সও এই দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ট্রাম্পের শুল্কনীতির কিছু দিককে সমর্থন করলেও মোটরগাড়ি খাতে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, দেশীয় উৎপাদনে বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনা থাকলেও কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের জটিলতা শিল্পের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। ফলে ট্রাম্পের নীতিকে সমর্থন করা এবং নিজ রাজ্যের ব্যবসা ও ভোটারদের উদ্বেগ মোকাবিলা করার মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে।

মেইন অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। সেখানকার রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স কানাডার ওপর নতুন শুল্ক আরোপের সমালোচনা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের জন্য ছাড় চেয়েছেন। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর ঘোষণার পর কানাডীয় পণ্যের নয়টি শ্রেণিকে উচ্চ শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সামনে আসে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের প্যাকেজিং সামগ্রী, শীতলীকরণ যন্ত্রপাতি, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্র এবং অন্যান্য শিল্পপণ্য রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দেখায়, নির্বাচনের আগে ব্যবসায়িক চাপ সামলাতে প্রশাসন কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক শিথিল করতেও আগ্রহী।

তবে সীমিত পণ্যে ছাড় দেওয়া মানেই দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধের অবসান নয়। বিভিন্ন শিল্পে শুল্কের প্রভাব আলাদা, আর পাল্টা শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকরাও কানাডার বাজারে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। কৃষি, উৎপাদন, পরিবহন ও সীমান্তবর্তী ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতির স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ভবিষ্যৎ শুল্কহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারে, তাহলে নতুন বিনিয়োগ, কর্মী নিয়োগ এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারে।

ওয়াশিংটনের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক পরিষদের অক্টোবরের বিশ্লেষণেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্থাটির জরিপে ৭৫ শতাংশ মার্কিন উত্তরদাতা খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বহন করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আর ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, শুল্কের প্রধান প্রভাব হলো পণ্যের দাম বৃদ্ধি। এই ফলাফল থেকে বোঝা যায়, শুল্কনীতি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ দুই দলের ভোটারদের মধ্যেই রয়েছে।

তবে শুল্কই যুক্তরাষ্ট্রের সব মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ এমন দাবি সঠিক হবে না। জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন ব্যয়, শ্রমমূল্য, সরবরাহব্যবস্থার সমস্যা এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও পণ্যের দামে প্রভাব ফেলে। একইভাবে কোনো নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের পর মূল্য কতটা বেড়েছে, তা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারদর ও অন্যান্য কারণ আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ তাই এখন কেবল অর্থনৈতিক নীতির প্রশ্ন নয়; এটি নির্বাচনী কৌশলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ককে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, এই নীতির ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। নির্বাচনে ভোটাররা কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেবেন, তা নির্ভর করবে তাঁদের ব্যক্তিগত আর্থিক অভিজ্ঞতা, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং প্রার্থীদের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।

কানাডার সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে ট্রাম্পের আশাবাদী বক্তব্য নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নিশ্চিত হয়নি। আগামী দিনগুলোতে শুল্কের ছাড় কতটা বিস্তৃত হয়, দুই দেশের আলোচনা কোন দিকে এগোয় এবং ব্যবসা ও ভোক্তাদের ব্যয় কতটা কমে এসব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে, তাঁদের বাণিজ্যনীতি বাস্তবে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়াচ্ছে, নাকি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে ভোটারদের কাছে সেই প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দেওয়া।


ট্যাগ: কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধডোনাল্ড ট্রাম্পশুল্কনীতিমার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনরিপাবলিকান দলমার্কিন রাজনীতিকানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিজীবনযাত্রার ব্যয়মিশিগান নির্বাচনমার্কিন অর্থনীত

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।