অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ভোটার তালিকা নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ, আদালতে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ বেড়েছে। সন্দেহভাজন ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই ও ডাকযোগে পাঠানো ভোট গণনা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আইনি লড়াই।
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে। ফেডারেল সরকার দাবি করছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় এমন ২০ হাজারের বেশি মানুষের নাম রয়েছে, যাঁরা সম্ভবত মার্কিন নাগরিক নন। এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই এবং তাঁদের ডাকযোগে পাঠানো ভোট গণনার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অঙ্গরাজ্যটির নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি ইতিমধ্যে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করে। বিচার বিভাগের অভিযোগ, সম্ভাব্য অযোগ্য ভোটারদের বিষয়ে উদ্বেগ জানানোর পরও অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। ফেডারেল সরকার আদালতের কাছে এমন নির্দেশ চেয়েছে, যাতে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা করা না হয়। এটি সরকারের পক্ষ থেকে করা একটি দাবি; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে একে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
বিরোধের সূত্রপাত হয় ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে ফেডারেল প্রশাসনের উদ্যোগ থেকে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাঁদের বিশ্লেষণে এমন ব্যক্তিদের নাম পাওয়া গেছে, যাঁরা মার্কিন নাগরিক না হয়েও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে থাকতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ফেডারেল পর্যায়ে ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে কোনো ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় থাকা আর তিনি অবৈধভাবে ভোট দিয়েছেন—এই দুটি বিষয় এক নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্ব ও নিবন্ধনের তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
রয়টার্সের ২৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৮টি কাউন্টির নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সন্দেহভাজন ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কর্মকর্তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছিল। যাঁদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, তাঁদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট আলাদা করে রাখার অনুরোধও জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপ নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনী প্রশাসনের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা ফেডারেল সরকারের দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত নয়। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পদ্ধতি, তথ্যের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তাঁদের আশঙ্কা, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হলে যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই বিরোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা। ভোটার তালিকায় মানুষের নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারে। এসব তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে, কোন সরকারি সংস্থা সেগুলো ব্যবহার করছে এবং কীভাবে নাগরিকত্ব যাচাই করা হচ্ছে—এসব প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। ফেডারেল প্রশাসন নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও আইন মেনে ভোট নিশ্চিত করার কথা বলছে। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই ছাড়া ভোটারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিরোধিতা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৩ নভেম্বর। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা নিয়ে বিরোধ রাজনৈতিক ও আইনি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই মামলা নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের জন্যও মূল প্রশ্ন হলো, ভোটার তালিকায় সম্ভাব্য ভুল শনাক্ত করার সময় কীভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার—দুটিই রক্ষা করা যায়। কোনো ব্যক্তি ভুলভাবে তালিকাভুক্ত হলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা থাকা দরকার। একই সঙ্গে, যথাযথ প্রমাণ ছাড়া যোগ্য ভোটারের ব্যালট আটকে দেওয়া বা তাঁর ভোটাধিকার সীমিত করার ঝুঁকিও এড়ানো জরুরি।
সব মিলিয়ে, ক্যালিফোর্নিয়া ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ এখন শুধু ভোটার তালিকা যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা, অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্তৃত্ব, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নও সামনে এনেছে। আদালতের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী সরকারি পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে এই বিরোধ কোন দিকে এগোবে।

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও চাকরির বাজার নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

আলাস্কার সিনেট নির্বাচনের ফল আটকে দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আদালতে মামলা

ফ্লোরিডায় আগাম ভোট ট্রাম্পের, সব রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা জানালেন



মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।