অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
আলাস্কার সিনেট নির্বাচনের ফল আটকে দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আদালতে মামলা
আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হারলে ফল অনুমোদন স্থগিত রাখার আবেদন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দুই প্রার্থীর নামের মিল নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আইনি বিরোধ।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন নিয়ে আদালতে মামলা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান হেরে গেলে এবং ভোটারদের বিভ্রান্তির কারণে ফল প্রভাবিত হয়ে থাকলে নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন স্থগিত রাখার নির্দেশ চেয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। ২২ অক্টোবর দায়ের করা এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্তৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছেন একই রকম নামের দুই প্রার্থী। বর্তমান সিনেটর ড্যান এস সুলিভান রিপাবলিকান দলের প্রার্থী। অন্যদিকে, ড্যানিয়েল জে সুলিভান জুনিয়র নামের আরেক ব্যক্তি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি আলাস্কার পিটার্সবার্গ এলাকার একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, দুই প্রার্থীর নামের মিলের কারণে কিছু ভোটার ভুল করে বর্তমান সিনেটরের পরিবর্তে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের দাবি, এই নামের মিল নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বর্তমান সিনেটর হেরে গেলে এবং ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেলে যে নামের বিভ্রান্তি ফল পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে, সে ক্ষেত্রে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফল অনুমোদন স্থগিত রাখার নির্দেশ চেয়েছে সরকার। তবে এটি প্রশাসনের আদালতে করা আবেদন; আদালত নির্বাচনের ফল বাতিল করেছে বা কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়।
এই নির্বাচনে ড্যান সুলিভানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক কংগ্রেস সদস্য মেরি পেলটোলা। নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কোন দলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে আলাস্কার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ব্যালটে দুই প্রার্থীর নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান সিনেটরকে “ড্যান এস সুলিভান” নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর নামের সঙ্গে রিপাবলিকান দলের পরিচয় ও বর্তমান সিনেটর হওয়ার তথ্য যুক্ত রয়েছে। অন্য প্রার্থীকে “ড্যানিয়েল জে সুলিভান জুনিয়র” নামে দেখানো হয়েছে। তবে এই পার্থক্য ভোটারদের বিভ্রান্তি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।
এ বিরোধ নতুন নয়। এর আগে আলাস্কার নির্বাচনী কর্মকর্তারা ড্যানিয়েল জে সুলিভানকে ব্যালট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, নামের মিল ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। তবে আলাস্কার সুপ্রিম কোর্ট জুন মাসে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। ফলে দুই প্রার্থীর নামই ব্যালটে থাকার সুযোগ পায়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, বিচার বিভাগকে এই মামলা করার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন। তাঁর প্রশাসনের বক্তব্য, নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং ভোটারদের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। তবে ড্যানিয়েল জে সুলিভান ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন—এমন অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। ওই প্রার্থীও ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
মামলাটি নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলার প্রচারশিবির এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকোস্কিও মামলাটির সমালোচনা করেছেন। নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটারদের সম্ভাব্য বিভ্রান্তির অভিযোগের ভিত্তিতে ফেডারেল সরকার অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনের ফল অনুমোদন আটকে রাখার নির্দেশ আদায় করতে পারবে কি না। তাঁদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি এবং বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে।
আলাস্কায় ভোট গণনার পদ্ধতিও এই বিরোধকে জটিল করেছে। অঙ্গরাজ্যটিতে বিকল্প পছন্দভিত্তিক ভোট গণনা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পরবর্তী ধাপে ভোট গণনা হয় এবং বাদ পড়া প্রার্থীদের ভোটের পরবর্তী পছন্দ বিবেচনা করা হয়। ফলে দুই প্রার্থীর নামের মিলের কারণে ভোটের ফল কতটা পরিবর্তিত হতে পারে, তা নির্ধারণ করা সহজ নয়।
এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। আদালত সরকারের আবেদন গ্রহণ করবে কি না, তদন্তের নির্দেশ দেবে কি না কিংবা নির্বাচনের ফল অনুমোদনের বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করবে কি না, তা পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। তাই এই ঘটনাকে নির্বাচনের ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না।
আলাস্কার এই বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটারদের বিভ্রান্তি ঠেকানো, ভোটাধিকার রক্ষা এবং অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী ক্ষমতার সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর ভোটের ফল ও আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে দেশটির রাজনৈতিক মহলের।

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও চাকরির বাজার নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

ভোটার তালিকা নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ, আদালতে মামলা

ফ্লোরিডায় আগাম ভোট ট্রাম্পের, সব রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা জানালেন



মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।