যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানি নিয়ে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়
যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালতের নতুন রায়ে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে আটক অভিবাসীদের জামিনে মুক্তির শুনানি পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের জামিনে মুক্তির শুনানি পাওয়ার অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, আদালত জানিয়েছে, মার্কিন সংবিধান আটক অভিবাসীদের জামিনের শুনানির সুযোগ নিশ্চিত করে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আবেদন করার আইনি পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
নিউ অরলিন্সভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত ১০-৭ ভোটে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আগের একটি রায় পুনর্বিবেচনা করে নতুন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। এর আগে জুলাই মাসে আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ বলেছিল, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ৯০ দিনের বেশি কাউকে আটক রাখলে মুক্তির জন্য জামিন শুনানির সুযোগ দিতে হবে। নতুন রায়ে সেই অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছে অভিবাসীদের আটক রাখার সময় তাদের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক ব্যক্তিরা অনেক সময় নিজেদের বিরুদ্ধে চলা বহিষ্কার প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে থাকেন। জামিনের শুনানির সুযোগ থাকলে তারা বিচারকের কাছে যুক্তি তুলে ধরতে পারেন, কেন তাদের মামলা চলাকালে আটক না রেখে মুক্ত রাখা উচিত।
তবে নতুন রায়টি যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যের জন্য প্রযোজ্য নয়। পঞ্চম সার্কিটের এখতিয়ারভুক্ত টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। এসব অঙ্গরাজ্যে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী আটক রয়েছেন। ফলে সেখানে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য আদালতের সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মামলাটিতে দুই মেক্সিকান নাগরিক ও এক হন্ডুরাসের নাগরিকের আটক থাকার বিষয়টি উঠে আসে। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা মনে করেছেন, সংবিধান আটক অভিবাসীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জামিন শুনানির অধিকার নিশ্চিত করে না। তবে সংখ্যালঘু বিচারকেরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাদের উদ্বেগ, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাহী বিভাগের হাতে দীর্ঘ সময় মানুষকে আটক রাখার ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীরা রায়টির সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, শুনানির সুযোগ সীমিত হলে এমন ব্যক্তিরাও দীর্ঘদিন আটক থাকতে পারেন, যাদের মুক্তি জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর সিদ্ধান্তটিকে অভিবাসন আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বাগত জানিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টেও আইনি লড়াই চলছে। চলতি মাসে সর্বোচ্চ আদালত অভিবাসীদের বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখার নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি মামলা শুনতে সম্মত হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকা প্রশ্নটি মূলত অভিবাসন আইনের অধীনে জামিন শুনানি পাওয়ার অধিকার নিয়ে; পঞ্চম সার্কিটের নতুন রায়ে আলোচিত সাংবিধানিক প্রশ্নটি তার থেকে আলাদা।
তাই নতুন সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের সব অভিবাসীর জন্য জামিন শুনানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। মামলার আইনি অবস্থান, অঙ্গরাজ্য এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ার অনুযায়ী পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। পরবর্তী বিচারিক সিদ্ধান্ত এই নীতির পরিধি আরও স্পষ্ট করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরিবারের কোনো সদস্য আটক হলে তার মুক্তির আবেদন করার সুযোগ সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে। তবে কারও নির্দিষ্ট মামলায় কী অধিকার রয়েছে, তা জানতে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।





