আমেরিকায় স্বাস্থ্যবিমা নবায়নের সময় আসছে, বাংলাদেশি পরিবারগুলোর এখনই প্রস্তুতি জরুরি
নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার আবেদন ও নবায়ন। যোগ্যতা, মাসিক প্রিমিয়াম ও সরকারি সহায়তা যাচাই করে পরিবারগুলোর এখনই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার জন্য আবেদনপর্ব শুরু হওয়ার আগে কেন্দ্রীয় সরকার এমন কিছু নিয়ম নির্ধারণ করেছে, যার ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি অভিবাসী শ্রেণির মানুষ সরকারি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন। এতে যাঁরা বর্তমানে স্বাস্থ্যবিমার মাসিক প্রিমিয়াম কমানোর জন্য সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন, তাঁদের নতুন বছরের বিমা পরিকল্পনা নিয়ে আগেভাগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা মার্কেটপ্লেস হেলথকেয়ার ডট গভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম কমানোর ফেডারেল সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসী শ্রেণি সীমিত হচ্ছে। নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কিউবান ও হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং চুক্তিভুক্ত কয়েকটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের নির্দিষ্ট অভিবাসীরা এই সহায়তার যোগ্য হতে পারেন। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীকে অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।
এই পরিবর্তনের ফলে শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, সাময়িক সুরক্ষার মর্যাদা থাকা ব্যক্তি এবং কাজের অনুমতি বা শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের মতো কিছু অভিবাসী, যাঁরা আগে নির্দিষ্ট শর্তে সরকারি প্রিমিয়াম সহায়তা পেতেন, তাঁরা ২০২৭ সালে সেই সহায়তার যোগ্য নাও থাকতে পারেন। তবে স্বাস্থ্যবিমা কেনার যোগ্যতা এবং বিমার খরচ কমানোর সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা এক বিষয় নয়। কোনো ব্যক্তি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা হারালেও তাঁর অভিবাসন অবস্থা ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী মার্কেটপ্লেস থেকে বিমা কেনার সুযোগ থাকতে পারে।
এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী অনেক অভিবাসী পরিবার নিজেদের আয় ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমানোর সহায়তা নিয়ে থাকেন। নতুন নিয়মে কারও সহায়তা বন্ধ হলে তাঁকে বিমার পুরো প্রিমিয়াম দিতে হতে পারে। তবে কারও ক্ষেত্রে ঠিক কত টাকা খরচ বাড়বে, তা তাঁর বিমা পরিকল্পনা, বসবাসের অঙ্গরাজ্য, পরিবারের আয় এবং প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
২০২৭ সালের জন্য হেলথকেয়ার ডট গভ ব্যবহারকারী অঙ্গরাজ্যগুলোতে উন্মুক্ত আবেদনপর্ব শুরু হবে ১ নভেম্বর ২০২৬। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন বা পরিকল্পনা পরিবর্তন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় প্রিমিয়াম পরিশোধ করলে সাধারণত ১ জানুয়ারি থেকে বিমার আওতায় আসা যায়। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন বা পরিকল্পনা পরিবর্তন করলে সাধারণত কভারেজ শুরু হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে সময়সীমা ও আবেদনব্যবস্থায় পার্থক্য থাকতে পারে।
বর্তমানে স্বাস্থ্যবিমা থাকা অভিবাসীদের উচিত মার্কেটপ্লেসের চিঠি, অনলাইন অ্যাকাউন্টের বিজ্ঞপ্তি এবং নতুন বছরের যোগ্যতা নির্ধারণের তথ্য ভালোভাবে পরীক্ষা করা। বিশেষ করে যাঁদের অভিবাসন অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে, যাঁদের নথি যাচাই করা হয়নি অথবা যাঁরা বর্তমানে সরকারি প্রিমিয়াম সহায়তা পাচ্ছেন, তাঁদের আবেদন হালনাগাদ করা জরুরি। যোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে অনুমান করে বিমা বাতিল না করে অনুমোদিত স্বাস্থ্যবিমা পরামর্শদাতা বা অভিবাসন আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
স্বাস্থ্যবিমার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর জন্য আরেকটি বিষয় জানা জরুরি। কিছু নিম্ন আয়ের ব্যক্তি ও পরিবার মেডিকেইড অথবা শিশুদের জন্য চিপ কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসাসহায়তা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। এসব কর্মসূচির নিয়ম স্বাস্থ্যবিমা মার্কেটপ্লেসের প্রিমিয়াম সহায়তা থেকে আলাদা। যোগ্যতা নির্ভর করে আয়, বসবাসের অঙ্গরাজ্য, পরিবারের পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্তের ওপর। মার্কেটপ্লেস বিমার যোগ্যতা না থাকলেও কিছু কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আয় অনুযায়ী কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট https://www.healthcare.gov/immigrants/immigration-status/ থেকে অভিবাসনভিত্তিক যোগ্যতার নিয়ম এবং https://www.healthcare.gov/ থেকে আবেদন ও নবায়নের তথ্য যাচাই করা যাবে। নতুন নিয়মে নিজের পরিবার প্রভাবিত হবে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।





