যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি নির্মাণ কমেছে, ঋণের সুদ ও বাড়তি খরচে বিপাকে সাধারণ পরিবারগুলো
বন্ধকী ঋণের উচ্চ সুদ, বাড়ির দাম বৃদ্ধি ও নির্মাণব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের অনুমোদন কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সামর্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি কমে গেছে। বন্ধকী ঋণের উচ্চ সুদ, নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রমিকসংকটের কারণে আবাসন খাত চাপের মুখে পড়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণ কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নির্মাণকাজ শুরুর জন্য অনুমোদিত বাড়ির সংখ্যাও কমেছে। এতে বাড়ি কিনতে আগ্রহী পরিবার, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণের বার্ষিকীকৃত হার আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৮ লাখ ৫৯ হাজারে দাঁড়ায়। এই হার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে একক পরিবারের নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন ৪ শতাংশ কমে বার্ষিকীকৃত ৮ লাখ ৪৫ হাজারে নেমে আসে, যা সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়।
এখানে বার্ষিকীকৃত হার বলতে এক মাসের গতিকে ধরে পুরো বছর চললে সম্ভাব্য মোট সংখ্যা কত হতে পারে, তার হিসাব বোঝায়। এটি ওই মাসে বাস্তবে নির্মিত বাড়ির মোট সংখ্যা নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একক পরিবারের বাড়ির পাশাপাশি সামগ্রিক আবাসন নির্মাণেও পতন দেখা গেছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আবাসন নির্মাণের বার্ষিকীকৃত হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১২ লাখ ২১ হাজারে দাঁড়ায়। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই হার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ কম। পাঁচ বা তার বেশি ইউনিটের আবাসন প্রকল্পগুলোর নির্মাণও মাসিক হিসাবে কমেছে।
আবাসন খাতে চাপের অন্যতম কারণ বন্ধকী ঋণের উচ্চ সুদ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্ধকী ঋণের সুদের হার গড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছিল। সুদের হার বেশি থাকলে বাড়ি কেনার জন্য নেওয়া ঋণের মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে একই দামের বাড়ি কিনতেও ক্রেতাদের আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। অনেক পরিবার তখন বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয় বা কম দামের বাড়ি খোঁজে।
অন্যদিকে, বাড়ির দাম এবং নির্মাণসামগ্রীর ব্যয়ও আবাসন খাতের ওপর চাপ তৈরি করছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও পরিবহনের খরচ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি নির্মাণশ্রমিকের ঘাটতি থাকলে প্রকল্প শেষ করতে বেশি সময় লাগে এবং ব্যয়ও বেড়ে যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে অভিবাসনবিষয়ক কঠোর পদক্ষেপের প্রভাবেও নির্মাণশ্রমিকের সংকট বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, কারণ একদিকে বাড়ি নির্মাণের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে উচ্চ ঋণব্যয়ের কারণে ক্রেতাদের চাহিদা সীমিত হচ্ছে। নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন কমে যাওয়া ভবিষ্যতের নির্মাণ কার্যক্রমে দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে শুধু একটি মাসের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও ভাড়া সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নতুন বাড়ির সরবরাহ কমে গেলে কিছু এলাকায় ক্রেতাদের বিকল্প সীমিত হতে পারে। তবে নির্মাণ কমার কারণে সব শহরে বাড়ির দাম বা ভাড়া একই হারে বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। স্থানীয় চাহিদা, বিদ্যমান বাড়ির মজুত, কর্মসংস্থান এবং সুদের ভবিষ্যৎ গতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়ি কেনার সামর্থ্য এবং অর্থনীতির অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ জনআলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আবাসন খাতের এই পরিসংখ্যান সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে নতুন বাড়ি নির্মাণ কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে দেশজুড়ে সব ধরনের আবাসন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।





