সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জ্বালানি তেলের চাপ ও ফেডের সুদের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারও কমল সোনার দামঅভিবাসন আবেদন অনলাইনে জমার সুযোগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কাগজপত্র পাঠানোর ঝামেলা কমবেস্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের থামাল অভিবাসন কর্মকর্তারা, নর্থ বার্গেনে ক্ষোভনিউইয়র্কে গরবার তালে মেয়র মামদানি, ভারতীয়দের উৎসবে মাতলেন নাচে!হরমুজ সংকটেও ইরাকের তেল রপ্তানি দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেল ছাড়াল, বিকল্প রুটে বাড়ছে সরবরাহ

অভিবাসন আবেদন অনলাইনে জমার সুযোগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কাগজপত্র পাঠানোর ঝামেলা কমবে

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন আবেদন অনলাইনে জমার সুযোগ বাড়াচ্ছে, ফলে যোগ্য আবেদনকারীদের কাগজপত্র ডাকযোগে পাঠানোর প্রয়োজন কমতে পারে।

অভিবাসন আবেদন অনলাইনে জমার সুযোগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কাগজপত্র পাঠানোর ঝামেলা কমবে
অভিবাসন আবেদন অনলাইনে জমার সুযোগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কাগজপত্র পাঠানোর ঝামেলা কমবে

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভিন্ন অভিবাসন ফরম অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রেখেছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী আবেদনকারীরা কাগজপত্র ডাকযোগে পাঠানোর পরিবর্তে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে পারছেন। তবে সব ধরনের আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়া যায় না। কোন আবেদনকারী কোন ফরম অনলাইনে জমা দিতে পারবেন, তা নির্ভর করে আবেদনটির ধরন, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ফরমের জন্য নির্ধারিত নিয়মের ওপর।
বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা একেবারে নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েক বছর ধরেই ধাপে ধাপে এই সেবা সম্প্রসারণ করছে। ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর জন্য পূরণ করা নথির অনুলিপি অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ চালু করেছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্রের জন্য আবেদনকারী নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে। পরবর্তী সময়ে আরও কিছু ফরম ও আবেদনশ্রেণির জন্য অনলাইন জমার ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একটি অন্তর্বর্তী চূড়ান্ত বিধি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কিছু অভিবাসন আবেদন বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো আবেদন ফরম অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু থাকার পর অন্তত ১৮০ দিন অতিক্রান্ত হলে কর্তৃপক্ষ সেটির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক অনলাইন জমার নিয়ম চালু করতে পারে। এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে সংশ্লিষ্ট ফরম সম্পর্কে জনসাধারণকে অন্তত ৬০ দিন আগে জানাতে হবে।
তবে এই বিধিকে সব অভিবাসন আবেদন ডাকযোগে জমা দেওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার ঘোষণা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। নতুন নিয়মটি কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট ফরমের ক্ষেত্রে অনলাইন জমা বাধ্যতামূলক করার সুযোগ দিয়েছে। এর অর্থ, কোন ফরমের জন্য এমন নির্দেশ কার্যকর হয়েছে, কোন আবেদনকারী এর আওতায় পড়ছেন এবং কোনো ব্যতিক্রম প্রযোজ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট ফরমের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হতে হবে। সব আবেদনকারীর জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য—এমন দাবি সঠিক নয়।

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি সাধারণত দুই ধরনের। প্রথম পদ্ধতিতে আবেদনকারী কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে নিজের হিসাব খুলে ধাপে ধাপে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফরম পূরণ করেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন দেখানো হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে আবেদনকারী আগে থেকে পূরণ করা নির্ধারিত নথির অনুলিপি এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক কাগজপত্র নিজের অনলাইন হিসাবের মাধ্যমে জমা দেন। তবে সব ফরমের জন্য উভয় পদ্ধতি চালু নেই। নির্দিষ্ট আবেদনশ্রেণির জন্য কোন পদ্ধতি অনুমোদিত, তা আগে যাচাই করা জরুরি।
অনলাইন ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো, আবেদন জমা দেওয়ার জন্য ডাকঘরে যাওয়া, কাগজপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করা কিংবা ডাকযোগে পৌঁছানোর জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমে যায়। আবেদনকারী নিজের সুবিধামতো সময়ে ফরম পূরণ করতে পারেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জমা দেওয়ার আগে খসড়া সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। কর্তৃপক্ষের অনলাইন নির্দেশনা অনুসরণ করলে সাধারণ ভুল কমানোর সুযোগও তৈরি হয়। নির্দিষ্ট ফরমের ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার নিশ্চিতকরণ ও আবেদনসংক্রান্ত নম্বর পাওয়া যেতে পারে। তবে সব ফরমে একই সময়ে একই ধরনের নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয় না।

অনলাইন হিসাবের মাধ্যমে আবেদনকারীরা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাইলে, সংশ্লিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে সেই নথি অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। আবেদনসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেখা, যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ করা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বার্তার মাধ্যমে অবস্থা জানার সুবিধাও রয়েছে। ফলে আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ ও যোগাযোগ বজায় রাখা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। অবশ্য এসব সুবিধার প্রাপ্যতা আবেদন ও হিসাবের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

বর্তমানে যেসব গুরুত্বপূর্ণ আবেদন নির্দিষ্ট শর্তে অনলাইনে জমা দেওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার আবেদন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার আবেদন, নাগরিকত্বের আবেদন, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্রের আবেদন এবং কিছু ভ্রমণসংক্রান্ত নথির আবেদন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কর্মী নিয়োগ, অস্থায়ী সুরক্ষা এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার জন্যও কিছু ফরম অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোনো একটি ফরমের নাম তালিকায় থাকলেই সব ধরনের আবেদনকারী সেটি অনলাইনে জমা দিতে পারবেন, এমন নয়। আবেদনকারীর নির্দিষ্ট শ্রেণি ও পরিস্থিতির ওপর অনুমোদিত পদ্ধতি নির্ভর করে।

স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার আবেদনকারীদের জন্যও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারী ও তাঁদের প্রতিনিধির জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সব আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়ার অনুমতি নেই। কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আবেদনটির সঙ্গে চিকিৎসা পরীক্ষা ও টিকাদানের প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। অনলাইনে আবেদন করলে নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসারে ওই প্রতিবেদনের সঠিক অনুলিপি জমা দিতে হতে পারে এবং মূল নথি সংরক্ষণ করতে হয়। তাই কেবল অনলাইন জমার সুযোগ রয়েছে শুনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নিয়ম উপেক্ষা করা যাবে না।
নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ফরমের শর্ত যাচাই করা জরুরি। নাগরিকত্বের আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম ফি চাওয়া বা ফি মওকুফের আবেদন করলে কাগজে আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ধরনের ফি মওকুফের অনুরোধ অনলাইন ব্যবস্থায় গ্রহণ করা হয় না। ফলে আবেদনকারীকে শুধু আবেদন ফরম নয়, সংশ্লিষ্ট ফি, ছাড় এবং মওকুফের নিয়মও যাচাই করতে হবে। ভুল পদ্ধতিতে আবেদন করলে অর্থ ফেরত পাওয়া বা আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত তথ্য, নামের বানান, জন্মতারিখ, পাসপোর্টের তথ্য, ঠিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণ ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা উচিত। প্রয়োজনীয় সহায়ক নথির ছবি বা অনুলিপি স্পষ্ট হতে হবে, যাতে লেখা সহজে পড়া যায়। বিদেশি ভাষায় তৈরি নথির ক্ষেত্রে মূল নথির পাশাপাশি প্রত্যয়িত ইংরেজি অনুবাদ ও অনুবাদকের প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কোন ধরনের ফাইল গ্রহণ করা হবে এবং ফাইলের আকার কত হতে পারবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা থেকে জেনে নেওয়া উচিত।
অনলাইন আবেদন ব্যবস্থার প্রসারের সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও মাথায় রাখা দরকার। অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদন করার সময় অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্টের তথ্য, ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত নথি কিংবা অর্থ তুলে দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। সরকারি আবেদনব্যবস্থা ব্যবহার করতে হলে কর্তৃপক্ষের প্রকৃত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। কেউ আবেদন দ্রুত অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিলে বা বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যমে ফল নিশ্চিত করার দাবি করলে সতর্ক থাকা উচিত। অভিবাসন বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন হলে অনুমোদিত আইনজীবী বা স্বীকৃত প্রতিনিধির সহায়তা নেওয়া ভালো।
যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদেরও মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার অনলাইন ব্যবস্থা সব ধরনের দূতাবাসসংক্রান্ত বা কনস্যুলার আবেদন পরিচালনা করে না। কিছু ভিসা আবেদন, সাক্ষাৎকার, পাসপোর্ট জমা কিংবা বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া কাজের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আবেদনকারীদের জন্য তৈরি নির্দেশনা বিদেশে থাকা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। কোন দপ্তর আবেদনটি গ্রহণ করবে, সেটি আগে নিশ্চিত করতে হবে।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রঅভিবাসন আবেদনঅনলাইন আবেদননাগরিকত্বস্থায়ী বসবাসকর্মসংস্থানের অনুমতিঅভিবাসন নীতিসরকারি সেবাঅভিবাসন আইন

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।