অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে আগাম ভোটের জোয়ার, ক্ষমতা ধরে রাখতে চাপে ট্রাম্পের দল
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ভোট বেড়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এমন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। ভোটের এই গতি দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের জন্য নতুন হিসাব তৈরি করছে। বিশেষ করে সিনেটের কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে ফলাফল নির্ধারণে আগাম ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
২৩ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে আগাম ভোটের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। একই সংস্থার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্বাচনের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পর্যন্ত দেশজুড়ে ডাকযোগে পাঠানো ও সরাসরি কেন্দ্রে দেওয়া আগাম ভোটের সংখ্যা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় বেশি ছিল। তবে ভোটের এই বৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত কোন দলকে সুবিধা দেবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
টেক্সাসে আগাম ভোটের বৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের একই সময়ের তুলনায় এবার সেখানে আগাম ভোটের সংখ্যা ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। কানসাসে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতেও আগাম ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যে সিনেটের আসন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় ভোটের এই প্রবণতা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টেক্সাসের নির্বাচনে সিনেটের আসন ঘিরে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই লড়াইকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে টেক্সাসে আগাম ভোটের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে পৌঁছেছিল; ২০২২ সালের একই পর্যায়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। ভোটের এই বৃদ্ধি প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্ব তুলে ধরলেও, কেবল আগাম ভোটের পরিসংখ্যান দিয়ে চূড়ান্ত ফল অনুমান করা সম্ভব নয়।
কানসাসেও নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দল দুটির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানসাসে আগাম ভোটের সংখ্যা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রচেষ্টা নির্বাচনী সমীকরণকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।
মেইন ও ওহাইওতেও ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। মেইনে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন লড়ছেন। অন্যদিকে ওহাইওতে সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও গভর্নর পদ ঘিরে প্রতিযোগিতা চলছে। এই রাজ্যগুলোর ফল কংগ্রেসে দলীয় শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে বলে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের নজর সেখানে কেন্দ্রীভূত।
তবে সব অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট একই হারে বাড়েনি। মিশিগান ও জর্জিয়ায় ভোটের সংখ্যা বেশি হলেও ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় তা মোটামুটি কাছাকাছি রয়েছে। আইওয়ায় আবার আগাম ভোটের সংখ্যা আগের মধ্যবর্তী নির্বাচনের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ কম। ফলে দেশজুড়ে ভোটারদের অংশগ্রহণের চিত্র একরকম নয়; স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোট দেওয়ার পদ্ধতি এবং অঙ্গরাজ্যভেদে নিয়মের পার্থক্য এতে প্রভাব ফেলছে।
এবারের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি তেলের দাম, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। এসব বিষয় নিয়ে অসন্তোষ কিছু এলাকায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য চাপ তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাটরা সেই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসন জয়ের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরাও নিজেদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে প্রচার জোরদার করেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের আসনে ভোট হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও অন্যান্য পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ এবং হোয়াইট হাউস রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবারের ভোটের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে আগাম ভোটের সংখ্যা বাড়লেই কোনো দল জিতবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। আগাম ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দ, নির্বাচনের দিনের ভোটার উপস্থিতি এবং প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন চূড়ান্ত ফলকে প্রভাবিত করবে। তাই আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে আগাম ভোটের পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেও, নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হবে ভোট গণনা শেষে।

মামলা প্রত্যাহারের পরও ট্রাম্পের আইনজীবীদের শাস্তি, বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত চান জিম জর্ডান

মিশিগানে ওকাসিও-কর্টেজ, রাজনীতিতে টাকার প্রভাব কমাতে জোরালো প্রচার

ট্রাম্পের সমর্থনে গভর্নর পদে অ্যান্ডি বিগস, চার অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের জয়ের ডাক






