সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় মামদানি, নেতৃত্বের মানবিক দৃষ্টান্ত গড়ছেন নিউইয়র্কের মেয়রশেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে প্রবাসী আওয়ামী লীগের সমাবেশরাতভর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কাঁপল ইউক্রেন, নিহত ৪জন আহত বহু মানুষমার্কিন অবরোধে ইরানের তেলের ভাসমান মজুত নিঃশেষ, চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে তেহরানযুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া জরিপের অজুহাতে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিতর্কে আইনি ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

এইচএসসির ফল প্রকাশের অপেক্ষা, অকৃতকার্যদের জন্য আসছে নতুন সুযোগ

২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের প্রস্তাব, পাশাপাশি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত পুনঃপরীক্ষার সুযোগ চালুর উদ্যোগ।

এইচএসসির ফল প্রকাশের অপেক্ষা, অকৃতকার্যদের জন্য আসছে নতুন সুযোগ
এইচএসসির ফল প্রকাশের অপেক্ষা, অকৃতকার্যদের জন্য আসছে নতুন সুযোগ

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ১২ অক্টোবর গণমাধ্যমকে জানান, ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে যেকোনো একদিন ফল প্রকাশের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মতির পরই ফল প্রকাশের চূড়ান্ত দিন নির্ধারণ করার কথা। ফলে ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশিত হতে পারে—এমন সম্ভাবনা থাকলেও দিনটিকে নিশ্চিত তারিখ হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।

এদিকে ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টায় ফল প্রকাশের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিজ্ঞপ্তিকে ভুয়া বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফল প্রকাশের তারিখ ও সময় উল্লেখ করে প্রচারিত ওই বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডগুলোর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া এ ধরনের তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পাশাপাশি অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরবর্তী বছর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেই দীর্ঘ অপেক্ষা কমে আসতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পথে সময়ের অপচয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে নতুন ব্যবস্থার চূড়ান্ত নিয়ম, যোগ্যতা ও সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য সুযোগটি নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
১২ অক্টোবর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের বৈঠকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফল প্রকাশের পর দুই মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়া এবং ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানরা একমত হন। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর্যায়েও আলোচনা করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করিয়ে তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা ভাবা হচ্ছে। তিন বা তার বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সময়সীমা তিন মাস পর্যন্ত হতে পারে। তবে দুইয়ের বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ কতটি বিষয়ে পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় নেবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বিষয়সংখ্যা ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে।
পুনঃপরীক্ষার আগে ফল পুনর্নিরীক্ষণের কাজ শেষ করাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষার্থী মনে করলে যে তার উত্তরপত্রের নম্বর গণনা, নম্বর স্থানান্তর বা ফল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে, সে নিয়ম অনুযায়ী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারে। পুনর্নিরীক্ষণ শেষ হওয়ার পর সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হলে কারা কোন বিষয়ে অনুত্তীর্ণ রয়েছেন, তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। এরপর পুনঃপরীক্ষার সময়সূচি তৈরি এবং পরীক্ষাকেন্দ্র, প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে। এ কারণেই ফল প্রকাশের পরপরই পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের বদলে পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ায় সব জায়গায় একই সময়ে পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উত্তরপত্র মূল্যায়ন, নম্বর যাচাই এবং ফল প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করে ফল প্রকাশের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে আসায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন, তাঁদের জন্য দ্রুত পুনঃপরীক্ষার উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সুযোগ চালু হলে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য নির্দিষ্ট সময় পাবেন এবং নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার আরেকটি সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা, বিষয় নির্বাচন, আবেদনপদ্ধতি, পরীক্ষার ফি এবং ফল প্রকাশের নিয়ম সম্পর্কে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
শিক্ষাবিদদের দৃষ্টিতে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অনেক সময় অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা, মানসিক চাপ, প্রস্তুতির ঘাটতি কিংবা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফল করতে পারেন না। তাঁদের জন্য দ্রুত পুনঃপরীক্ষার সুযোগ থাকলে হতাশা কমানো এবং পড়াশোনায় ফিরে আসার পথ সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নেওয়া, শিক্ষকদের সহায়তা নেওয়া এবং নিয়মিত অনুশীলন করার প্রয়োজন থাকবে।

তবে উদ্যোগটি কার্যকর করতে হলে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে বাস্তবসম্মত সময়সূচি তৈরি করতে হবে। ফল প্রকাশ, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন, সংশোধিত ফল প্রকাশ, পুনঃপরীক্ষার আবেদন, পরীক্ষার আয়োজন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত ফল প্রকাশ—প্রতিটি ধাপের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও জনবল প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে মূল্যায়নের নির্ভুলতা কিংবা পরীক্ষার স্বচ্ছতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ ভাষায় নির্দেশনা প্রকাশ এবং সব বোর্ডে একই ধরনের নিয়ম প্রয়োগ করা জরুরি।

অভিভাবকদেরও এ সময়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ, ফল দেখার পদ্ধতি কিংবা পুনঃপরীক্ষার নিয়ম নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ছড়াতে পারে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোনো তথ্যকে চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করা উচিত নয়। ফল প্রকাশের দিন ও সময়, পুনর্নিরীক্ষণের সময়সীমা এবং পুনঃপরীক্ষার নিয়ম জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের সরকারি ওয়েবসাইট অনুসরণ করাই নিরাপদ। ফল প্রকাশের পর সরকারি ফলাফল দেখার ওয়েবসাইটেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের ফল ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ২৯ অক্টোবরকে চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে নিশ্চিত করার কোনো নির্ভরযোগ্য ঘোষণা পাওয়া যায়নি; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্দিষ্ট সময়ের বিজ্ঞপ্তিটিও ভুয়া বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত পুনঃপরীক্ষার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তাঁদের দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষার প্রয়োজন কমতে পারে। এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রধান করণীয় হলো আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের ঘোষণার অপেক্ষা করা এবং পুনঃপরীক্ষা সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা।


ট্যাগ: এইচএসসি পরীক্ষাএইচএসসি ফলাফল ২০২৬পরীক্ষার ফল প্রকাশশিক্ষা বোর্ডঢাকা শিক্ষা বোর্ডসৈয়দ আক্তারুজ্জামানপুনঃপরীক্ষাঅকৃতকার্য শিক্ষার্থীশিক্ষা মন্ত্রণালয়বাংলাদেশের শিক্ষা

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।