অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ট্রাম্পের সমর্থনে গভর্নর পদে অ্যান্ডি বিগস, চার অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের জয়ের ডাক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে অ্যান্ডি বিগসের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; চার অঙ্গরাজ্যের প্রার্থী তালিকার দাবিও যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার জোরদার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যান্ডি বিগসের প্রতি তাঁর সমর্থন এবং ভোটারদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবিতে অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা ও কলোরাডোর প্রার্থীদের জন্য ট্রাম্পের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন তালিকা প্রকাশের কথা বলা হলেও, চার অঙ্গরাজ্যকে একসঙ্গে উল্লেখ করা ওই নির্দিষ্ট দাবির সব অংশের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ট্রাম্প ২০২৬ সালের ১০ জুলাই অ্যারিজোনার কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি বিগসকে গভর্নর পদে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নের জন্য সমর্থন জানান। ওই ঘোষণায় তিনি বিগসের নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর কমানো, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদারের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। বিগস এর আগে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের মূল বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে কর হ্রাস, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।
অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে নির্বাচনী সমাবেশেও অংশ নেন। ১৪ অক্টোবরের ওই সমাবেশে বিগসসহ একাধিক রিপাবলিকান প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ট্রাম্প ভোটারদের দলটির প্রার্থীদের সমর্থন করার আহ্বান জানান। বিগসও সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় নভেম্বরের নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে, যখন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট গ্রহণ চলছিল।
ট্রাম্পের প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু গভর্নর পদ নয়, বরং ব্যালটের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পদেও রিপাবলিকান প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করার চেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর, আইনসভার সদস্য ও অন্যান্য নির্বাচিত পদে ভোট হয়। ফলে দলীয় নেতৃত্বের সমর্থন প্রার্থীদের প্রচারে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো প্রার্থীর প্রতি প্রেসিডেন্টের সমর্থন থাকলেই তাঁর জয় নিশ্চিত হয় না; ভোটারদের সিদ্ধান্ত, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রচারের অর্থায়ন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের জনপ্রিয়তাও ফলাফলে প্রভাব ফেলে।
অ্যারিজোনায় বিগসের পাশাপাশি ট্রাম্প আরও কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। প্রকাশিত সমর্থন-তালিকা অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে এলি ক্রেইন, হুয়ান সিসকোমানি, জে ফিলি, আব্রাহাম হামাদেহ ও পল গোসারের নাম রয়েছে। মার্ক ল্যাম্ব এবং অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য পদের প্রার্থীদের প্রতিও তাঁর সমর্থনের তথ্য পাওয়া যায়। তবে এসব সমর্থন বিভিন্ন সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই সব নামকে একই দিনের নতুন ঘোষণার অংশ হিসেবে দেখানো সঠিক হবে না।
জর্জিয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে পৃথক তথ্য রয়েছে। ২০২৬ সালের ২২ জুলাই প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, তিনি গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসনের প্রতি সমর্থন জানান। এর আগে তিনি বার্ট জোন্সকেও সমর্থন দিয়েছিলেন। জোন্স রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জ্যাকসনের কাছে পরাজিত হন। পরে ট্রাম্প জ্যাকসনের প্রতি সমর্থন জানান। এ ঘটনা দেখায়, কোনো প্রার্থীর প্রতি আগের সমর্থন পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো তালিকা ব্যবহার করে বর্তমান সমর্থনের অবস্থা নির্ধারণ করা উচিত নয়।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় গভর্নর পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ট্রাম্প ২০২৬ সালের ২৯ মে অঙ্গরাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর পামেলা এভেটের প্রতি সমর্থন জানান বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে কলোরাডোতে তিনি কয়েকজন প্রতিনিধি পরিষদের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন বলে প্রকাশিত তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। তবে কলোরাডোর সব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের নিয়ে একই সময়ে প্রকাশিত একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকার প্রমাণ এই অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। সুতরাং চার অঙ্গরাজ্যের সব প্রার্থীর জন্য একযোগে সমর্থন ঘোষণার দাবি নিশ্চিত বলে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে ভোটারদের গভর্নর, সিনেটর, কংগ্রেস সদস্য এবং ব্যালটের অন্যান্য পদে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি দলীয় প্রচারণার ভাষা; নিরপেক্ষ সংবাদ প্রতিবেদনে একে ট্রাম্পের সমর্থকদের প্রতি রাজনৈতিক আহ্বান হিসেবে বর্ণনা করাই যথাযথ। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটাররা প্রতিটি পদের জন্য আলাদাভাবে প্রার্থী বেছে নিতে পারেন। কোনো দলের সব প্রার্থীকে ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
ট্রাম্পের সমর্থন বিগসের প্রচারে জাতীয় পর্যায়ের পরিচিতি ও রাজনৈতিক সমর্থন এনে দিতে পারে। তবে অ্যারিজোনার গভর্নর নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ভোটারদের রায়ের ওপর। একইভাবে জর্জিয়া, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা ও কলোরাডোর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলও স্থানীয় পরিস্থিতি ও ভোটের ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক সমর্থনের খবর এবং ভোটের ফলাফলকে এক বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

দুর্নীতির অভিযোগ, ট্রাম্পের সমর্থন ঘিরে মিনেসোটার সিনেট লড়াইয়ে চাপে দুই প্রার্থী

বুশকন্যা বারবারার ২৫০০ ডলারের অনুদানে টালারিকোর সিনেট লড়াইয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন চমক

পুরুষ ভোটারদের সমর্থন হারাচ্ছেন ট্রাম্প, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উদ্বেগ




