যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকলেও আটক, নিউইয়র্কে আইসিই নিয়ে বিতর্ক
কাজের অনুমতিপত্র ২০২৯ সাল পর্যন্ত বৈধ থাকার দাবি থাকা সত্ত্বেও নিউইয়র্কে এক সরকারি কর্মীকে আটক করেছে আইসিই। ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যটির গভর্নর।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও আটক অভিযান নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীকে আটক করার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ক্যাথি হোকুল। ২১ অক্টোবর প্রকাশিত টাইমস ইউনিয়নের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার নাগরিক জার্মান মাচাদো ১৩ অক্টোবর নিউইয়র্কের ব্যাটাভিয়ায় নিজের বাসার বাইরে আটক হন। তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের ব্রকপোর্ট ক্যাম্পাসে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
মাচাদোর স্ত্রীর দাবি, তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে এবং মাচাদোর কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত রয়েছে। এ ঘটনায় গভর্নর হোকুল প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসন যদি গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে থাকে, তাহলে মাচাদোর মতো একজন কর্মীকে কেন আটক করা হলো।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। বিভাগের একজন মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মাচাদো ২০১৬ সালে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তাঁর অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়। এরপর তিনি দেশ ছাড়েননি বলে বিভাগের দাবি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজের অনুমতিপত্র থাকা কিংবা আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন থাকা—কোনোটিই এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন-অবস্থা নিশ্চিত করে না। তাঁকে দেশ থেকে অপসারণের আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে হেফাজতে রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে। কাজ করার অনুমতি, আশ্রয়ের আবেদন এবং বৈধ অভিবাসন-অবস্থা এক বিষয় নয়। কারও কাছে কাজের অনুমতিপত্র থাকলেও তাঁর অভিবাসন মামলার অবস্থা, আদালতের নির্দেশ এবং অন্যান্য নথি আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে একটি ঘটনা দিয়ে সব অভিবাসীর ক্ষেত্রে একই পরিণতি হবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি সতর্কতার বার্তা। ভিসা, আশ্রয়ের আবেদন, কাজের অনুমতিপত্র কিংবা আদালতের কোনো নোটিশ থাকলে সংশ্লিষ্ট নথির মেয়াদ ও মামলার বর্তমান অবস্থা যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজন হলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। মাচাদোর মামলার চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।





