২১ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে কিয়েভে রাশিয়ার তাণ্ডব, নিহত দুই, আহত ৩৪, বিপর্যস্ত জনজীবন
রাতভর ইউক্রেনের ১২টি অঞ্চলে রুশ হামলা। কিয়েভে আবাসিক ভবন, জ্বালানি স্থাপনা, রেলস্টেশন, মেট্রো ও মঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির ১২টি অঞ্চলে রাতভর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা থেকে তিন দফায় কিয়েভ লক্ষ্য করে ২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবন, জ্বালানি স্থাপনা, পরিবহন অবকাঠামো, বিপণিবিতান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, জরুরি সেবাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও সহায়তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের বিবৃতি অনুযায়ী, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাধারণ মানুষের বসবাসের ভবন ছাড়াও জ্বালানি স্থাপনা এবং একটি রেলস্টেশন ও মেট্রোর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি শপিং মল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও আঘাত হেনেছে হামলা। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি মঠও রয়েছে।
শহরের একাধিক স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে কাজ করতে হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে পরিস্থিতি যাচাইয়ের কাজও চলছে।
জেলেনস্কির অভিযোগ, নতুন দফার আলোচনা শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই রাশিয়া এই হামলা চালিয়েছে। তাঁর মতে, আলোচনার পরও মস্কোর অবস্থানে বাস্তব কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কার্যকর সমাধান খুঁজতে আগ্রহী। কিন্তু আলোচনার জবাবে যখন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, তখন রাশিয়ার ওপর আরও কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
জেলেনস্কি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ এবং রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করার সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, রুশ হামলা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক চাপ ও সামরিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইউক্রেনের পাশে থাকা দেশ ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় আরও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। আলোচনা চললেও বেসামরিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার মতো আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন।
তবে হামলার পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি, সব লক্ষ্যবস্তুর অবস্থা এবং রাশিয়ার পক্ষ থেকে ঘটনার ব্যাখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। পরিস্থিতির আরও তথ্য পাওয়া গেলে হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।





