জন্মদিনেই ইতিহাস গড়ার পথে নেতানিয়াহু, ৭৭ বছর বয়সে ইসরায়েলের ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই
একসময় ইসরায়েলের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, এবার ৭৭ বছর বয়সে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার পথে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জন্মদিনের ছয় দিন পরই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মুখোমুখি হবেন তিনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২১ অক্টোবর নিজের ৭৭তম জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন। জন্মদিনে দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা শহর সফরের সময় তাঁকে কেক দেওয়া হয়। তবে এবারের জন্মদিনের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন। নির্বাচনে অংশ নিলে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী পদের সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রার্থী হওয়ার নতুন রেকর্ড গড়বেন। খবর ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের।
১৯৪৯ সালের ২১ অক্টোবর তেল আবিবে জন্মগ্রহণ করেন নেতানিয়াহু। ১৯৯৬ সালে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন। প্রায় তিন দশক পর এবার বয়সের দিক থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত একটি রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।
এর আগে ১৯৯২ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়িৎসহাক শামিরের বয়স ছিল ৭৬ বছর আট মাস। আগামী ২৭ অক্টোবর নেতানিয়াহুর বয়স হবে ৭৭ বছর ছয় দিন। ফলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বয়সের হিসাবে তিনি শামিরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবেন। তবে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করার রেকর্ড এখনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারনের। ২০০৬ সালের এপ্রিলে দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক অবসানকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৮ বছর এক মাস।
নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রথমবার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসেন এবং ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৯ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা দায়িত্বে ছিলেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এবার তাঁর সামনে রয়েছে কঠিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আগামী নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন লিকুদ দলের পাশাপাশি বিরোধী পক্ষের নেতারাও সরকার গঠনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকট। নির্বাচনের ফলাফলে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনে রাজনৈতিক জোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জন্মদিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, নতুন সরকার গঠন করতে পারলে তাঁর দলই সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিকুদ দল থেকে হওয়া উচিত। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অবস্থান জানান। তবে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নাম প্রকাশ করেননি।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গাজা যুদ্ধ নিয়ে সরকারের ভূমিকা, ইরান নীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকেরা নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় তাঁর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ইসরায়েলি রাজনীতিতে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলাও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। নেতানিয়াহু তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
৭৭তম জন্মদিন নেতানিয়াহুর জন্য শুধু ব্যক্তিগত উদ্যাপনের উপলক্ষ নয়; এটি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তাঁর দল কেমন ফল করে এবং তিনি আবারও সরকার গঠন করতে পারেন কি না, সেটিই এখন ইসরায়েলের রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি।





