সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মার্কিন অবরোধে ইরানের তেলের ভাসমান মজুত নিঃশেষ, চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে তেহরানযুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া জরিপের অজুহাতে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিতর্কে আইনি ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্নসৌদি আরবে হামলায় নিহত দুই, চার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাতের দাবি হুথিদেরসাজেকে গুলিবর্ষণ ও সড়ক অবরোধ, সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে ফিরলেন তিন হাজার পর্যটকট্রাম্পের সমর্থনে গভর্নর পদে অ্যান্ডি বিগস, চার অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের জয়ের ডাক

যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া জরিপের অজুহাতে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিতর্কে আইনি ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া নির্বাচনী জরিপ প্রচার নিয়ে সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানের সতর্কবার্তায় নতুন বিতর্ক, আইনি ক্ষমতার সীমা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া জরিপের অজুহাতে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিতর্কে আইনি ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া জরিপের অজুহাতে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিতর্কে আইনি ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী জনমত জরিপ সম্প্রচার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান ব্রেন্ডন কার সতর্ক করেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া নির্বাচনী জরিপ প্রচার কিংবা ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি তথ্য সম্প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারকেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সংবাদ বিকৃতির অভিযোগ উঠলেই যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। এ ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত প্রতারণা, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং প্রমাণের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় বিবেচনা করতে হয়।

বুধবার, ২১ অক্টোবর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভুয়া জরিপ সম্প্রচারের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন কার। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্প্রচারকেন্দ্রগুলো জেনেশুনে মিথ্যা জরিপ প্রচার করলে তা জনস্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব এবং সংবাদ বিকৃতি প্রতিরোধসংক্রান্ত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে কোন কোন জরিপকে তিনি ভুয়া বলে বিবেচনা করছেন, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে সুস্পষ্ট তালিকা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাও প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত করা হয়নি।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল যোগাযোগ কমিশনের সংবাদ বিকৃতিবিষয়ক নীতি। সংস্থাটি বেতার ও টেলিভিশন সম্প্রচারকেন্দ্রের লাইসেন্স এবং সম্প্রচারসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিবিধান তদারক করে। জনস্বার্থে সম্প্রচার পরিচালনা করা লাইসেন্সধারীদের দায়িত্বের অংশ। তবে এই দায়িত্বের অর্থ এই নয় যে সরকার সংবাদমাধ্যমের প্রতিটি বক্তব্য, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কিংবা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নিজের পছন্দ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংবাদ বিকৃতির অভিযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু সংবাদে ভুল থাকা যথেষ্ট নয়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক সংবাদ ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে, এমন প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। সংবাদকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার লিখিত বা মৌখিক নির্দেশনা, মূল ধারণকৃত দৃশ্য কিংবা ঘুষের মতো সম্প্রচারের বাইরের প্রমাণ এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য হতে পারে। ভুলবশত প্রকাশিত তথ্য, সাধারণ তথ্যগত অসংগতি কিংবা মতপার্থক্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইচ্ছাকৃত সংবাদ বিকৃতি হিসেবে গণ্য করা যায় না।

এই পার্থক্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জনমত জরিপে ফলাফলের ভিন্নতা থাকা অস্বাভাবিক নয়। বিভিন্ন জরিপ সংস্থা ভিন্ন সময়ে তথ্য সংগ্রহ করে, ভিন্ন জনগোষ্ঠীর মতামত নেয় এবং ভিন্ন পদ্ধতিতে ফলাফল বিশ্লেষণ করে। ফলে দুটি জরিপে ভিন্ন ফল পাওয়া গেলেই একটি জরিপ জাল বা প্রতারণামূলক হয়ে যায় না। নমুনার আকার, প্রশ্নের ধরন, তথ্য সংগ্রহের সময়, নমুনা নির্বাচনের পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা যাচাই করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি জেনেশুনে অস্তিত্বহীন জরিপের ফল তৈরি করে, বাস্তবে না হওয়া সমীক্ষাকে সত্য বলে প্রচার করে কিংবা নির্বাচনে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য ছড়ায়, তাহলে বিষয়টি সাধারণ জরিপগত ভুলের চেয়ে গুরুতর হতে পারে। তবে এমন অভিযোগের ক্ষেত্রেও প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইনের শর্ত পূরণ করা জরুরি।

সাম্প্রতিক বিতর্কে ওয়েজউড পোলস নামের একটি গোষ্ঠীর কথাও উঠে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি মধ্যবর্তী নির্বাচনসংক্রান্ত কিছু কাল্পনিক জরিপ প্রকাশের বিষয়টি স্বীকার করে এবং জানায়, সংবাদমাধ্যম কীভাবে সেসব তথ্য গ্রহণ করে তা পরীক্ষা করাই ছিল তাদের পরীক্ষার উদ্দেশ্য। এই ঘটনা ভুয়া জরিপ যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক সম্প্রচারকেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভেঙেছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রমাণ আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

কমিশনের ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। কমিশনার আনা গোমেজের বক্তব্যের সারমর্ম হলো, জনমত জরিপের তথ্য সৎ উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা কিংবা কোনো তথ্যের যথার্থতা নিয়ে ভুল হওয়া মাত্রই সংবাদ বিকৃতির অপরাধ প্রতিষ্ঠিত হয় না। ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিকৃত করার অভিযোগ এবং সাধারণ সাংবাদিকতাগত ভুলের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

এর আগে ২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনামূলক সংবাদ পরিবেশন এবং গভীর রাতের হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্কের সময়ও কার সংবাদ বিকৃতির নীতি প্রয়োগের কথা বলেছিলেন। এবিসি সম্প্রচারিত জিমি কিমেলের অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি বিরোধে তাঁর মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সাবেক কমিশনপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি দ্বিদলীয় গোষ্ঠী পরে এই নীতি বাতিলের দাবি জানায়। তাঁদের আশঙ্কা, অস্পষ্টভাবে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হতে পারে এবং সরকারবিরোধী সংবাদ প্রকাশে ভীতি তৈরি হতে পারে।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সীমা রয়েছে। ফেডারেল যোগাযোগ কমিশন মূলত লাইসেন্সধারী বেতার ও টেলিভিশন সম্প্রচারকেন্দ্রের ওপর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে। কেবল টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন সংবাদমাধ্যম কিংবা সব ধরনের সংবাদপ্রতিষ্ঠান একইভাবে এই লাইসেন্সব্যবস্থার আওতায় পড়ে না। ফলে কমিশনের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের সম্প্রচার করে, তা নির্দিষ্টভাবে বিবেচনা করা জরুরি।


ট্যাগ: ব্রেন্ডনকারযুক্তরাষ্ট্রসংবাদমাধ্যমসংবাদবিকৃতিভুয়াজরিপনির্বাচনতথ্যযাচাইগণমাধ্যমেরস্বাধীনতা

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।