সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মার্কিন অবরোধে ইরানের তেলের ভাসমান মজুত নিঃশেষ, চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে তেহরানযুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া জরিপের অজুহাতে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিতর্কে আইনি ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্নসৌদি আরবে হামলায় নিহত দুই, চার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাতের দাবি হুথিদেরসাজেকে গুলিবর্ষণ ও সড়ক অবরোধ, সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে ফিরলেন তিন হাজার পর্যটকট্রাম্পের সমর্থনে গভর্নর পদে অ্যান্ডি বিগস, চার অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের জয়ের ডাক

সাজেকে গুলিবর্ষণ ও সড়ক অবরোধ, সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে ফিরলেন তিন হাজার পর্যটক

রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় আটকে পড়েন প্রায় তিন হাজার পর্যটক। সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় তাঁদের খাগড়াছড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।

সাজেকে গুলিবর্ষণ ও সড়ক অবরোধ, সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে ফিরলেন তিন হাজার পর্যটক
সাজেকে গুলিবর্ষণ ও সড়ক অবরোধ, সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে ফিরলেন তিন হাজার পর্যটক

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে সড়ক অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় ব্যাপক নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় পর্যটকবাহী যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তার মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধের কারণে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকেরা আটকা পড়েন। তাঁদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে পর্যটকবাহী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তবে আলোচনার একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।

পরবর্তী সময়ে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বিবরণ অনুযায়ী, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি চালায় বলে জানানো হয়েছে। তবে গুলির সংখ্যা ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার দায় নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বক্তব্যে ইউপিডিএফের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরপূর্বক অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপিডিএফের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় সংগঠনটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কারা সহিংসতায় জড়িত ছিল, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় তিন হাজার মানুষের কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। একটি প্রতিবেদনে ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে বিশেষ নিরাপত্তায় ফিরিয়ে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য প্রতিবেদনগুলোতে সংখ্যাটি প্রায় তিন হাজার বলা হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট হিসাব হিসেবে ২ হাজার ৯৩৩ জনের তথ্য উল্লেখ করা গেলেও সব প্রতিবেদনের সংখ্যাকে একই বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

ঘটনার আগের দিন, বুধবার ২১ অক্টোবর, রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে এলাকা ছেড়ে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

অবরোধের পেছনে স্থানীয় সংগঠনগুলোর বিভিন্ন দাবি রয়েছে বলেও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। তাদের উত্থাপিত দাবির মধ্যে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের সুরক্ষার বিষয় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অবরোধের সঙ্গে জড়িত সংগঠনগুলোর পরিচয় এবং গুলিবর্ষণে কারা অংশ নিয়েছে, এ দুটি বিষয় এক করে দেখা ঠিক হবে না।

এই পরিস্থিতি সাজেকের পর্যটনশিল্পের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সাজেকের রিসোর্ট, কটেজ, পর্যটক পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গে অনেক মানুষের জীবিকা জড়িত। পর্যটনকেন্দ্র বারবার বন্ধ হওয়া এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্যও এমন পরিস্থিতি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করে।

পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অবরোধ ও সংঘর্ষের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল, জরুরি সেবা এবং জীবিকা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। সহিংসতার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, দায়ীদের শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করা পরিস্থিতি সম্পর্কে জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছ ধারণা দিতে পারে।

সবশেষে, পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও হতাহতের সংখ্যা ও ঘটনার দায় নির্ধারণের বিষয়ে সব তথ্য একমত নয়। তাই এই ঘটনার চূড়ান্ত চিত্র পেতে নিরাপত্তা বাহিনী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে নজর রাখা জরুরি।


ট্যাগ: সাজেকরাঙামাটিবাংলাদেশসংবাদপর্যটকনিরাপত্তাপার্বত্যচট্টগ্রাম

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।