সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পথে যুক্তরাষ্ট্র, সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ বলে আভাস কালশির
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন কালশির বাজারের অধিকাংশ লেনদেনকারী, তবে সিদ্ধান্ত এখনো নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অক্টোবর মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন আর্থিক বাজারের অধিকাংশ লেনদেনকারী। কালশির পূর্বাভাসের বাজারে এ সম্ভাবনা প্রায় ৮৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে এটি বাজারের লেনদেনের ভিত্তিতে তৈরি পূর্বাভাস, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি নির্ধারণী কমিটির পরবর্তী বৈঠক ২৭ ও ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ২৮ অক্টোবর বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে। এই বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো, কমানো অথবা অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার এক-চতুর্থাংশ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়েছিল। এর ফলে নীতিগত সুদের হার দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা বেশি হওয়ার পেছনে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার বাড়ানো হলে ঋণ নেওয়ার ব্যয় বেড়ে যায়। এতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমাতে পারে এবং অর্থনীতিতে চাহিদার চাপ হ্রাস পেতে পারে।
অন্যদিকে, সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ব্যয় বাড়তে পারে। বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত ঋণও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হয়।
জ্বালানি তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও সুদের হার নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে ভোক্তাপর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরিবর্তে তা অপরিবর্তিত রাখা বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কালশির পূর্বাভাসের বাজারে ৮৮ শতাংশ সম্ভাবনা দেখানোর অর্থ হলো, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। তবে এই হিসাব যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। নতুন অর্থনৈতিক তথ্য, মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্য বাজারের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে।
অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকলেও ভবিষ্যতে সুদের হার কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করতে পারে। আবার শ্রমবাজার দুর্বল হলে বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা দিলে নীতিনির্ধারকেরা ভিন্ন সিদ্ধান্ত বিবেচনা করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সুদের হার বেশি থাকলে মার্কিন মুদ্রায় বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ডলারের বিনিময়মূল্য, আন্তর্জাতিক পুঁজি প্রবাহ, স্বর্ণের বাজার এবং বিভিন্ন দেশের ঋণ গ্রহণের ব্যয়ের ওপর।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির পরিবর্তন পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। ডলারের বিনিময়মূল্য, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ব্যয় এবং বৈশ্বিক পুঁজিবাজারের পরিবর্তন বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক লেনদেনকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর।
অক্টোবরের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনাই বাজারের পূর্বাভাসে এগিয়ে রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য বিবেচনা করেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।





