ব্রেকিং
হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক ফেরত না দিতে লেবাননের প্রেসিডেন্টকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কো রুবিওওরেগনের সিলভার রেইল স্কুলে বন্দুকধারীর তাণ্ডব, রক্তে ভিজলো শিশুদের কোমল শ্রেণিকক্ষট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে ভয়ংকর বোমা হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রেরআমেরিকায় কাজের অনুমতির নিয়মে বড় পরিবর্তন, বিপাকে গ্রিনকার্ডপ্রার্থী ও এইচ-ফোর ভিসাধারীরানিউইয়র্কে আইসিইর গুলিতে আহত অভিবাসী আদালতে, ঘাড়ে গুলি নিয়েই আটক থাকার অভিযোগ

ওরেগনের সিলভার রেইল স্কুলে বন্দুকধারীর তাণ্ডব, রক্তে ভিজলো শিশুদের কোমল শ্রেণিকক্ষ

বেন্ডের সিলভার রেইল স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় শিশুসহ বহু আহত, হামলাকারী নিহত, পুরো শহর জুড়ে শোকের ছায়া।

ওরেগনের সিলভার রেইল স্কুলে বন্দুকধারীর তাণ্ডব, রক্তে ভিজলো শিশুদের কোমল শ্রেণিকক্ষ
ওরেগনের সিলভার রেইল স্কুলে বন্দুকধারীর তাণ্ডব, রক্তে ভিজলো শিশুদের কোমল শ্রেণিকক্ষ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে অবস্থিত সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে প্রথম গুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, একজন ব্যক্তি প্রথমে স্কুলের বাইরে একটি গাড়িতে গুলি চালায়। এর পরপরই সে স্কুল ভবনের ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্কুল জুড়ে। শিক্ষকরা দ্রুত শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন এবং শিশুদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন।


বেন্ড পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র শিলা মিলার সংবাদ সম্মেলনে জানান, খবর পাওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে অর্থাৎ দুপুর ১টা ২ মিনিটে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হামলাকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কে তাকে গুলি করেছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ বলছে, পুলিশের গুলিতে নাকি কোনো সাহসী পথচারীর গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।


এই হামলায় একাধিক ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও প্রকাশ করেনি। তবে মুখপাত্র জানিয়েছেন, হতাহতদের মধ্যে শিশুরা রয়েছে। অন্তত দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় সেন্ট চার্লস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই ঘটনায় দুইজন শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষক নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ বলছে, তারা এখনও প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে আনছে।


সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলটি বেন্ড শহরের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় অবস্থিত। ওরেগন শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় চারশো উনষাটজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বেন্ড পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় স্কুলে চারশো থেকে সাড়ে চারশো শিশু এবং প্রায় চল্লিশজন শিক্ষক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। বেন্ড-লা পাইন স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে স্কুলটি লকডাউন ঘোষণা করে এবং অভিভাবকদের স্কুলের দিকে না আসার জন্য অনুরোধ জানায়।


পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনের জন্য জার্নি চার্চ নামে একটি স্থানকে নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই চার্চটি স্কুল থেকে কিছুটা দূরে মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। শত শত উদ্বিগ্ন অভিভাবক সেখানে ভিড় জমান এবং নিজেদের সন্তানের খোঁজে আকুল হয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, সবাইকে ওই পুনর্মিলন কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য, স্কুল প্রাঙ্গণে ভিড় না করার জন্য।


ঘটনার পরপরই বিশাল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বেন্ড পুলিশ ছাড়াও ডেশুটস কাউন্টি শেরিফ অফিস, ওরেগন স্টেট পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সদস্যরা তদন্তে যোগ দিয়েছেন। ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ঘটনাস্থলে থাকা প্রথম সাড়াদানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মার্কিন সিনেটর জেফ মার্কলিও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, কোনো শিশুরই স্কুলে সহিংসতার ভয় নিয়ে থাকা উচিত নয়।


বেন্ড শহরটি ওরেগনের মধ্যাঞ্চলে ডেশুটস নদীর তীরে ক্যাসকেড পর্বতমালার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। পোর্টল্যান্ড শহর থেকে প্রায় একশো পঁয়ষট্টি মাইল দক্ষিণ-পূর্বে এই শহরের জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ সাত হাজার। শান্ত ও নিরিবিলি এই শহরে এমন ভয়াবহ ঘটনায় পুরো সম্প্রদায় স্তব্ধ হয়ে গেছে। পুলিশ মুখপাত্র শিলা মিলার কান্না চেপে রেখে বলেন, আমরা কখনই ভাবিনি বেন্ডে এমন কিছু ঘটবে, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।


ফ্যাক্ট চেক অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর দুপুরে ঘটেছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ইউএসএ টুডে, নিউইয়র্ক পোস্টসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম নিশ্চিত করেছে। হামলাকারী নিহত হয়েছে, অন্তত দুইজন হাসপাতালে ভর্তি এবং হতাহতদের মধ্যে শিশু রয়েছে এই তথ্যগুলো পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দ্বারা সমর্থিত। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু বিভ্রান্তিকর দাবি যেমন হামলাকারীকে একজন বাবা গুলি করেছেন এমন দাবি এখনও পুলিশ নিশ্চিত করেনি। পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে এবং সঠিক তথ্য যাচাই না করে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।


বর্তমানে স্কুল ভবনটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং তদন্তকারীরা আলামত সংগ্রহ করছেন। শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তার জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুল জেলার সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন কুক বলেছেন, আমরা এই অর্থহীন ট্র্যাজেডিতে হতবাক এবং গভীরভাবে শোকাহত। নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। আমাদের এখন প্রধান অগ্রাধিকার হলো শিক্ষার্থী ও কর্মীদের যত্ন নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা। এই ঘটনা আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

ট্যাগ: ওরেগনবেন্ডসিলভার রেইল স্কুলস্কুলে গুলিশিশু হতাহতবন্দুক হামলামার্কিন যুক্তরাষ্ট্রপুলিশতদন্ত

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।