ব্রেকিং
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: আবেগ নয়, বাস্তবতা ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন জরুরিক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, আইনি লড়াই তীব্র নির্বাচনের আগেইরানে নারী নিরাপত্তা কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বাড়ছে অস্থিরতানিউইয়র্কে শীতের জ্বালানি বিলে ৯৯০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা, আবেদন শুরু ২ নভেম্বরজুলাই সনদের সংস্কার কি থমকে যাচ্ছে? ২৩ অধ্যাদেশ ঘিরে নতুন প্রশ্ন

ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, আইনি লড়াই তীব্র নির্বাচনের আগে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশ হাজারের বেশি ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের বিরোধ তীব্র হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, আইনি লড়াই তীব্র নির্বাচনের আগে
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, আইনি লড়াই তীব্র নির্বাচনের আগে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, বিশ হাজারের বেশি এমন ব্যক্তির কাছে ডাকযোগে ভোটের ব্যালট পাঠানো হয়েছে, যাঁরা মার্কিন নাগরিক নাও হতে পারেন। এসব ব্যালট গণনা করা হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তারা ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

১৭ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিরোধ মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, ভোটারদের অধিকার এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপসহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রেন্ট ম্যাককটারের পাঠানো একটি চিঠিতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, যাঁরা নাগরিক নন, তাঁদের ভোট গণনা করার বিষয়ে কর্মকর্তারা জেনেশুনে সহযোগিতা করলে ফেডারেল অপরাধে সহায়তার দায়ে পড়তে পারেন।

বিচার বিভাগের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে চলছে। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার ক্যালিফোর্নিয়াকে সন্দেহভাজন ভোটারদের একটি তালিকা যাচাই করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল। সেই সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগ রাজ্যটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে।

মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, যেসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের পাঠানো ব্যালট গণনা বন্ধ রাখতে হবে। তবে তালিকায় থাকা প্রত্যেক ব্যক্তি অনাগরিক কিংবা বেআইনিভাবে ভোট দিয়েছেন এমন প্রমাণ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার বিভাগের চিঠি প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাগারে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর প্রশাসনের বক্তব্য, নির্বাচনে নাগরিকত্বের শর্ত নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য ভোট জালিয়াতি ঠেকানো জরুরি।

অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। রাজ্যটির নির্বাচনবিষয়ক প্রধান শার্লি ওয়েবার বলেছেন, সুরক্ষিত ভোটারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং ভোটার তালিকা থেকে ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচেষ্টা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ জনসাধারণের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থা দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করে।

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আইনবিষয়ক কর্মকর্তারাও কেন্দ্রীয় সরকারের সরবরাহ করা তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তালিকাটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং কোন পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়েছে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে যাচাই ছাড়াই ব্যালট আটকে দেওয়ার দাবি মানা কঠিন বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগ অভিবাসনসংক্রান্ত সরকারি নথি এবং বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে মিলিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে। তবে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিভিন্ন পদ্ধতিতে আগে ভুল শনাক্তকরণের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বৈধভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া কিছু ব্যক্তিকেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুল করে অনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এখানেই বিরোধটির গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব সম্পর্কে সন্দেহ থাকা এবং সেই ব্যক্তি বেআইনিভাবে ভোট দিয়েছেন দুটি আলাদা বিষয়। ভোটার তালিকায় সম্ভাব্য ভুল থাকলে তা যাচাই করা প্রয়োজন, কিন্তু সন্দেহের ভিত্তিতে বৈধ ভোটারের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকত্ব প্রয়োজন। তবে কোনো ব্যক্তি নাগরিক নন বলে অভিযোগ উঠলেই তিনি ভোট দিয়েছেন বা অপরাধ করেছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ, প্রযোজ্য আইন এবং আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে জানিয়েছিল, তাদের কাছে আড়াই লাখের বেশি অনাগরিকের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত থাকার সম্ভাব্য তথ্য রয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে কতজন বাস্তবে নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। নাগরিকত্ব ছাড়া ভোট দেওয়ার ঘটনা নিয়ে তদন্ত ও মামলা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে বিচার বিভাগ।

আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বিরোধের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। নভেম্বরের ভোটে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের জন্য ভোট হবে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে ভোটারদের অংশগ্রহণ, নির্বাচনী নিয়মের প্রতি আস্থা এবং ভোট গণনার স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের জন্যও এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রশাসনে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের সীমা এবং রাজ্যগুলোর নিজস্ব দায়িত্বের প্রশ্ন সামনে এসেছে। আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করতে পারে।

তবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ভোটারদের তালিকায় থাকা বিশ হাজারের বেশি ব্যক্তি বেআইনিভাবে ভোট দিয়েছেন এমন চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একইভাবে আদালত সব সংশ্লিষ্ট ব্যালট বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও এই প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত করা যায় না।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার ডাকযোগে ভোট নিয়ে বিরোধ এখন আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভাব্য অনিয়ম ঠেকানোর কথা বলছে, অন্যদিকে রাজ্য কর্তৃপক্ষ নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া ভোটারদের অধিকার সীমিত করার ঝুঁকি তুলে ধরছে। আগামী দিনে আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইপ্রক্রিয়া এই বিরোধের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রেরনির্বাচনমার্কিননির্বাচনডাকযোগেভোটট্রাম্প

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।