যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি আছে, কিন্তু নতুন নিয়োগে ধীরগতি! বেকার ভাতার আবেদন ১ লাখ ৯৯ হাজার
যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার নতুন আবেদন বেড়ে ১ লাখ ৯৯ হাজারে পৌঁছেছে, চাকরি হারানো কম থাকলেও নতুন নিয়োগের গতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। একদিকে চাকরি হারিয়ে বেকার ভাতার আবেদনকারীর সংখ্যা এখনো তুলনামূলক কম, অন্যদিকে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে চাকরিপ্রার্থী, নতুন অভিবাসী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর মধ্যে কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজারে। আগের সপ্তাহের সংশোধিত হিসাব ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার। অর্থাৎ এক সপ্তাহে আবেদন বেড়েছে এক হাজার। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে নতুন আবেদনের সংখ্যা ২ লাখের নিচে রয়েছে।
তবে এই পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে সবাই সহজে চাকরি পাচ্ছেন। নতুন আবেদন কম থাকার অর্থ সাধারণত নিয়োগকর্তারা ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করছেন না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক থাকলে চাকরি খুঁজতে থাকা মানুষের জন্য সুযোগ পাওয়া কঠিন হতে পারে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগকর্তারা মাত্র ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছেন। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার। সেপ্টেম্বরের বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের বাজার পুরোপুরি ভেঙে না পড়লেও নতুন চাকরি তৈরির গতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন নতুন চাকরিপ্রার্থী, সদ্য স্নাতক হওয়া শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবন শুরু করতে চাওয়া তরুণেরা। অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কাজের অনুমতি, পেশাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতাও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশি আমেরিকানদের জন্যও খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। যারা হোটেল-রেস্তোরাঁ, খুচরা ব্যবসা, নির্মাণ, পরিবহন, অফিস ব্যবস্থাপনা কিংবা প্রযুক্তি খাতে কাজ খুঁজছেন, তাঁদের স্থানীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত হালনাগাদ রাখা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়ানো এবং চাকরির আবেদন করার আগে কাজের অনুমতি ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শ্রমবাজারকে প্রায়ই ‘কম নিয়োগ, কম ছাঁটাই’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে কর্মী ধরে রাখছে, অন্যদিকে নতুন কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। তবে সব শিল্পে একই পরিস্থিতি নেই। দক্ষ কারিগরি কাজ, স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্দিষ্ট পেশায় কর্মীর চাহিদা থাকতে পারে, আবার অন্য খাতে নিয়োগ ধীর হতে পারে।
বেকার ভাতার আবেদন বাড়া বা কমার তথ্য দিয়ে একা পুরো অর্থনীতির অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। নতুন চাকরি সৃষ্টি, মজুরি, কর্মঘণ্টা, দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এবং শ্রমশক্তিতে মানুষের অংশগ্রহণের তথ্যও বিবেচনা করতে হয়।





