ব্রেকিং
মিশিগানে নির্বাচনে ৩৭ ভোট গণনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ ১২ ভোটে এগিয়েপুকুরে ডুবছিল দাদি ও দুই শিশু, প্রাণ বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছে দুই কিশোর ভাইমাত্র পাঁচ দিনেই বিদায়ের মুখে কেটি, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে নতুন বিতর্কনতুন প্রশাসনই যথেষ্ট! যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের বড় দাবিমিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠক, বাংলাদেশের সীমান্তে কী প্রভাব পড়বে?

পুকুরে ডুবছিল দাদি ও দুই শিশু, প্রাণ বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছে দুই কিশোর ভাই

যুক্তরাষ্ট্রে দাদিসহ দুই শিশুকে বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দেয় দুই কিশোর ভাই। পানির নিচে আটকে থাকা দুই বছরের শিশুটির শ্বাসও ফিরিয়ে আনে তারা।

পুকুরে ডুবছিল দাদি ও দুই শিশু, প্রাণ বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছে দুই কিশোর ভাই
পুকুরে ডুবছিল দাদি ও দুই শিশু, প্রাণ বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছে দুই কিশোর ভাই

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কারমেল শহরে দুই শিশুসহ এক দাদিকে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে দুই কিশোর ভাই। তাদের একজনের বয়স ১৫ বছর, অন্যজনের ১৪। বিপদের মুহূর্তে নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা তিনজনকে উদ্ধার করে। বিশেষ করে পানির নিচে ডুবে থাকা ঠেলাগাড়ি থেকে দুই বছরের শিশুটিকে বের করে তার শ্বাসপ্রশ্বাস ফিরিয়ে আনতে বড় ভাইয়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারমেল নগর কর্তৃপক্ষের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ১২ অক্টোবর, সোমবার, সকাল আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দুই ভাইয়ের নাম ম্যাডক্স লার্জার ও গ্র্যান্ট লার্জার। তাদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতার প্রশংসা করেছে স্থানীয় পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ।

ঘটনার সময় দুই ভাই পুকুরের কাছাকাছি মাছ ধরছিল। হঠাৎ একটি শিশুবাহী ঠেলাগাড়ি ঢাল বেয়ে গড়িয়ে পানিতে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ঠেলাগাড়িতে ছিল দুই বছরের একটি শিশু। তার চার বছরের ভাই বা বোন তখন দাদির পিঠে বাঁধা অবস্থায় ছিল। দাদি পানিতে পড়ে তাদের সামলানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তিনি নিজে সাঁতার জানতেন না। চার বছরের শিশুটিও সাঁতার জানত না। ফলে নিজের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি দুই শিশুকে রক্ষা করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

সেই দৃশ্য দেখে আর সময় নষ্ট করেনি দুই কিশোর। বড় ভাই ম্যাডক্স প্রথমে দাদির কাছে পৌঁছানোর জন্য পানিতে ঝাঁপ দেন। ছোট ভাই গ্র্যান্টও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। তারা একসঙ্গে দাদি ও চার বছরের শিশুটিকে নিরাপদে পাড়ে তুলে আনতে সক্ষম হয়। তবে তখনো বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। দুই বছরের শিশুটি ঠেলাগাড়ির ভেতরে আটকে ছিল।

প্রথমে শিশুটি যে এখনো ঠেলাগাড়ির মধ্যে রয়েছে, তা তারা বুঝতে পারেনি। দাদি ও বড় শিশুটিকে পাড়ে তোলার পর ম্যাডক্স জানতে পারেন, ছোট শিশুটি এখনো পানির নিচে থাকা ঠেলাগাড়ির ভেতরে রয়েছে। তখন তিনি আবার পানিতে নামেন। প্রায় আট ফুট গভীর পানি থেকে ঠেলাগাড়িটি টেনে পাড়ের কাছে নিয়ে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু সাঁতারে অভ্যস্ত ম্যাডক্স শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

শিশুটিকে বের করার পর দেখা যায়, সে শ্বাস নিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সে বিষয়ে স্কুলে শেখা প্রাথমিক চিকিৎসার কথা মনে পড়ে ম্যাডক্সের। তিনি শিশুটিকে উপুড় করে পিঠে চাপড় দিতে শুরু করেন। কয়েকবার এমন করার পর শিশুটি পানি বের করে দেয় এবং আবার শ্বাস নিতে শুরু করে। এই ঘটনাই উদ্ধারকাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
ম্যাডক্স কারমেল সাঁতার ক্লাবে প্রশিক্ষণ নেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত সাঁতারের অনুশীলন তাঁকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পানিতে নামতে সাহায্য করেছে। স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রাথমিক চিকিৎসার যে শিক্ষা পেয়েছিলেন, সংকটের মুহূর্তে সেটিও কাজে লাগে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শিশুটির জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
উদ্ধারকাজের পর দুই ভাই ঘটনাস্থলে আসা উদ্ধারকর্মীদের জন্য অপেক্ষা করে এবং পরিবারটিকে সহায়তা করতে থাকে। জরুরি সেবায় ফোন করা হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সহজ ছিল না। এলাকাটি সরাসরি সড়ক থেকে সহজে প্রবেশযোগ্য ছিল না। পুলিশ সদস্যদের গাছপালায় ঘেরা এলাকা, ছোট জলধারা ও খাড়া ঢাল অতিক্রম করে পুকুরের কাছে পৌঁছাতে হয়। উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর আগেই দুই ভাই দাদি ও দুই শিশুকে পানি থেকে তুলে আনতে পেরেছিল। পরে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়।
কারমেল নগর কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর সময় দুই শিশুই সচেতন ছিল এবং কাঁদছিল। তাদের পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের কর্মকর্তারা দুই কিশোরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাট কেইনসলি জানান, বিপদের মুহূর্তে তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতা একটি মর্মান্তিক পরিণতি এড়াতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে দুই বছরের শিশুটির জীবন বাঁচাতে তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারমেল অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিম গ্রিফিনের বক্তব্যও ঘটনাটির তাৎপর্য তুলে ধরে। তাঁর মতে, নায়ক হতে হলে ইউনিফর্ম বা বিশেষ পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয় না। কারও বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াই প্রকৃত সাহসিকতার পরিচয়। দুই ভাইয়ের কাজের মধ্য দিয়ে সেই কথাই আবার সামনে এসেছে।

এত বড় একটি ঘটনার পরও নিজেদের কাজকে অসাধারণ কিছু বলে মনে করতে চান না গ্র্যান্ট। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, অন্য কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়লেও একই কাজ করতেন বলে তাঁর বিশ্বাস। অপরিচিত একটি পরিবারকে বিপদের মধ্যে দেখে তারা সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। গ্র্যান্টের এই বক্তব্যে দুই ভাইয়ের বিনয় এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ঘটনার পর দুই ভাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারমেল নগর কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৬ নভেম্বর নগর পরিষদের সভায় তাদের সাহসিকতার স্বীকৃতি দেওয়া হবে বলে ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এই সম্মাননা শুধু দুই কিশোরের কাজের স্বীকৃতি নয়, বরং সংকটের সময় সাধারণ মানুষের দ্রুত পদক্ষেপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ।
ঘটনাটি থেকে শিশুদের পানির আশপাশে নিরাপদে রাখার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। পুকুরের পাড়ে ঢাল থাকলে ঠেলাগাড়ি বা শিশুর চলাচলের উপকরণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। অল্প সময়ের অসতর্কতায় বিপদ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়ে পানির কাছাকাছি চলাচলের সময় প্রাপ্তবয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে পানিতে কেউ ডুবে গেলে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের জীবনও যেন ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সেটিও মনে রাখা দরকার। সাঁতার জানা না থাকলে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী বা জরুরি সেবার সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে বয়সোপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়াও উপকারী। ম্যাডক্সের ক্ষেত্রে স্কুলে শেখা প্রাথমিক চিকিৎসা এবং সাঁতারের প্রশিক্ষণ বাস্তব সংকটে কাজে এসেছে।

সব মিলিয়ে, ১৫ ও ১৪ বছর বয়সী দুই ভাইয়ের এই ঘটনা সাহস, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং মানবিক দায়িত্ববোধের এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। একটি পরিবারের জন্য যে সকালটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শেষ হতে পারত, দুই কিশোরের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে সেটি পরিণত হয়েছে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার ঘটনায়। তাঁদের সাহসিকতার স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে শহর কর্তৃপক্ষ, আর ঘটনাটি মনে করিয়ে দিচ্ছে—বিপদের সময় এগিয়ে আসার মানসিকতা মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রইন্ডিয়ানাকারমেলদুই কিশোরের সাহসিকতাশিশু উদ্ধারপুকুরে ডুবে যাওয়াদাদিকে উদ্ধারমানবিকতাবীরত্বজরুরি উদ্ধার

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।