নিউইয়র্কে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভের ডাক, যানজটের আশঙ্কায় সতর্ক নগরবাসী
নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকায় আজ প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজকেরা। সম্ভাব্য যানজট এড়াতে বাসিন্দাদের আগাম যাতায়াত পরিকল্পনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন আয়োজকেরা। ‘নো কিংস’ নামে পরিচিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য হিসেবে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটদানে মানুষকে উৎসাহিত করার কথা জানানো হয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে মানুষের সমাগম হতে পারে। ফলে ব্যস্ত সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন এবং গণপরিবহনে বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে। তবে প্রতিবাদের কারণে নিউইয়র্কের সব রাস্তা বন্ধ থাকবে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ফাইভ নিউইয়র্কের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর নিউইয়র্ক নগরী এবং আশপাশের এলাকায় একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। ম্যানহাটনের ময়নিহান স্টেশন এলাকা, ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, জ্যাকসন হাইটস ও ওয়াশিংটন হাইটসে কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিউ জার্সি এবং লং আইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানেও সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রতিটি কর্মসূচির সময়, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট সড়কের ওপর প্রভাব এক নয়। তাই কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ঠিক কতক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবারের কর্মসূচির নাম ‘নো কিংস: ভোট আর্লি’। এর অর্থ আগাম ভোটদানে উৎসাহিত করা এবং নাগরিকদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ বাড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আয়োজকেরা বলছেন, নাগরিকদের নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি। সমাবেশ, পদযাত্রা এবং ভোটারদের তথ্য দেওয়ার মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁরা এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান।
নিউইয়র্কে জাপানের কনস্যুলেটের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বড় সমাবেশের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী এই সময়সূচি দেওয়া হয়েছে। একই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নগরীর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও পদযাত্রার কারণে যানজট তৈরি হতে পারে এবং বাসসহ গণপরিবহনের চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই সতর্কতা সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে; এটি সব সড়ক বন্ধ থাকার ঘোষণা নয়।
সড়ক বন্ধের বিষয়ে নিউইয়র্ক নগরীর পরিবহন বিভাগের প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিজ্ঞপ্তি আলাদাভাবে যাচাই করা হয়েছে। ১৭ থেকে ২৩ অক্টোবরের জন্য প্রকাশিত তালিকায় নির্মাণকাজ ও বিভিন্ন অনুমোদিত অনুষ্ঠানের কারণে নির্দিষ্ট সড়কে সাময়িক বিধিনিষেধের কথা রয়েছে। শনিবার ম্যানহাটনে হেলস কিচেন এলাকার শরৎকালীন মেলা উপলক্ষে অষ্টম অ্যাভিনিউয়ের ৪২তম থেকে ৫২তম সড়কের অংশ বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই দিনে আমেরিকার আদিবাসীদের পঞ্চম বার্ষিক পদযাত্রার জন্য ২৬তম সড়ক, পঞ্চম অ্যাভিনিউ ও ব্রডওয়ের কয়েকটি অংশে বিধিনিষেধের ব্যবস্থাও তালিকাভুক্ত রয়েছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিবহন বিভাগের এই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সব সড়ক বন্ধকে ‘নো কিংস’ প্রতিবাদের ফল হিসেবে দেখানো হয়নি। ফক্স ফাইভ নিউইয়র্কের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, প্রত্যাশিত প্রতিবাদের কারণে পুলিশ বিভাগ আলাদাভাবে সব সড়ক বন্ধের ঘোষণা দেয়নি; বরং আগে থেকে নির্ধারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সড়কসংক্রান্ত কাজের কারণে কিছু বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। প্রতিবাদের কারণে নতুন কোনো স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। নিউইয়র্কে জাপানের কনস্যুলেটের সতর্কবার্তায় জনসমাগমস্থলে আশপাশের পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিক্ষোভের ভিড়ে না যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মসূচির কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এই সতর্কতা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ নির্দেশনা; এটি কোনো নির্দিষ্ট স্থানে সহিংসতা ঘটেছে, এমন প্রমাণ নয়।
প্রতিবাদ আয়োজকদের ঘোষণায় অহিংস অংশগ্রহণ, উত্তেজনা এড়ানো এবং আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে কি না, তা আগাম নিশ্চিত করে বলা যায় না। পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য স্থানীয় পুলিশ, পরিবহন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সর্বশেষ ঘোষণা দেখা জরুরি।
যাঁদের শনিবার নিউইয়র্কে কাজে, চিকিৎসার জন্য, কেনাকাটায় কিংবা বিমানবন্দরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের যাত্রার আগে নির্দিষ্ট গন্তব্যের রাস্তা ও গণপরিবহনের অবস্থা যাচাই করা উচিত। বিকল্প পথ নির্ধারণ এবং হাতে অতিরিক্ত সময় রাখা সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে ম্যানহাটনের ব্যস্ত এলাকায় কোনো সমাবেশ বা অনুমোদিত অনুষ্ঠানের কাছাকাছি দিয়ে যাতায়াত করলে সাময়িক বিলম্বের জন্য প্রস্তুত থাকা ভালো।
১৭ অক্টোবর নিউইয়র্ক অঞ্চলে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা এবং সম্ভাব্য যানজটের আশঙ্কার পক্ষে একাধিক সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু পুরো নগরী অচল হয়ে পড়বে, সব রাস্তা বন্ধ থাকবে কিংবা ব্যাপক সহিংসতা ঘটেছে এমন দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই খবরের মূল বক্তব্য হলো, প্রতিবাদ কর্মসূচি রয়েছে, কিছু সড়কে আগে থেকেই নির্ধারিত বিধিনিষেধ কার্যকর, এবং যাত্রীদের হালনাগাদ তথ্য দেখে চলাচল করা উচিত।





