নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের অগ্রগতি ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত সময়সূচি।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটি থেকে আগামী নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য আনার সুযোগ তৈরি হবে। আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাস্তব সুফল নির্ভর করবে উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনার ওপর।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সঞ্চালন অবকাঠামো, সাবস্টেশন এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পারমাণবিক চুল্লি চালুর আগে বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন।
তাই নভেম্বরে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রত্যাশা থাকলেও নির্দিষ্ট তারিখ, প্রাথমিক উৎপাদনের পরিমাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর সময় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।
রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়নে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি বাস্তবে পরীক্ষার ফলাফল, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক তথ্য বিবেচনা করা জরুরি।





