ব্রেকিং
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের শঙ্কা, ঘণ্টায় ১১২ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাসব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অনুপস্থিতিকে ‘অপরিণত’ বললেন শেখ হাসিনা, উঠল কূটনৈতিক প্রশ্নসৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্যনভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেট্রাম্পের ১.৭ শতাংশ দাবি বনাম হিসাব, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে

ট্রাম্পের ১.৭ শতাংশ দাবি বনাম হিসাব, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে

ট্রাম্পের মূল্যস্ফীতি কমার দাবির বিপরীতে সরকারি হিসাবে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

ট্রাম্পের ১.৭ শতাংশ দাবি বনাম হিসাব, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে
ট্রাম্পের ১.৭ শতাংশ দাবি বনাম হিসাব, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার দাবি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে প্রচারিত ১.৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতির বক্তব্যের সঙ্গে দেশটির সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানের বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগস্টে এই হার ছিল ৩.৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতির হার কমেনি, বরং বেড়েছে।

সরকারি নথি এবং বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প ঠিক কখন, কোথায় এবং কোন হিসাবের ভিত্তিতে ১.৭ শতাংশের কথা বলেছেন, তার মূল বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে তাঁর নামে প্রচারিত বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে মূল বক্তব্যের প্রেক্ষাপট জানা জরুরি।

শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ঋতুভিত্তিক সমন্বয়ের পর শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এই বৃদ্ধির হার ছিল শূন্য দশমিক চার শতাংশ। গত পাঁচ মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বরে মাসিক মূল্যবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বার্ষিক হিসাবে মূল্যস্ফীতির এই বৃদ্ধি দেশটির অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যচাপ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণগুলোর একটি হলো জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া। সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে পেট্রলের দাম এক মাসে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানির সামগ্রিক মূল্যসূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধিই মাসিক সামগ্রিক মূল্যসূচকের বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি ব্যাখ্যা করে। গত এক বছরে জ্বালানির মূল্যসূচক বেড়েছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ।

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, পণ্য উৎপাদন এবং সরবরাহের খরচ বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পরে খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবার দামে পড়তে পারে। তবে মূল্যস্ফীতির পুরো বৃদ্ধিকে শুধু যুদ্ধের ফল বলা যাবে না; আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য পরিষেবার মূল্যবৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।

সরকারি প্রতিবেদনে আবাসন ব্যয়ের সূচক সেপ্টেম্বরে শূন্য দশমিক চার শতাংশ বেড়েছে। খাদ্যের সামগ্রিক মূল্যসূচক অবশ্য মাসিক হিসাবে অপরিবর্তিত ছিল। বাড়িতে ব্যবহারের খাদ্যপণ্যের দাম শূন্য দশমিক এক শতাংশ কমলেও বাড়ির বাইরে খাবারের দাম শূন্য দশমিক দুই শতাংশ বেড়েছে। গত এক বছরে খাদ্যের সামগ্রিক মূল্যসূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়ছে না; বিভিন্ন খাতে মূল্যবৃদ্ধির পার্থক্য রয়েছে।

খাদ্য ও জ্বালানির পরিবর্তনশীল দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এই সূচক আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক তিন শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে বার্ষিক মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, জ্বালানির দাম বাদ দিলেও অর্থনীতির অন্যান্য অংশে মূল্যচাপ পুরোপুরি কমেনি।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিতর্কে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া এবং বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। মূল্যস্ফীতি কমলে সাধারণত দাম বাড়ার গতি কমে; কিন্তু আগের তুলনায় পণ্য সস্তা হয়ে যায়, এমন নিশ্চয়তা থাকে না। একইভাবে কোনো নির্দিষ্ট সূচকে মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও অন্য সূচক বা অন্য সময়কালের হিসাবে ভিন্ন হার পাওয়া সম্ভব। তাই বক্তব্য যাচাইয়ের জন্য হিসাবের ধরন ও সময়কাল মিলিয়ে দেখা অপরিহার্য।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্যও নতুন পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকলে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত কঠিন হতে পারে। আবার সুদের হার বেশি থাকলে ঋণ নেওয়া, বাড়ি কেনা এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যেতে পারে। তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৭ শতাংশে ওঠার তথ্য সরকারি পরিসংখ্যান দ্বারা নিশ্চিত। আগস্টের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে এই বৃদ্ধি ট্রাম্পের প্রশাসনের অর্থনৈতিক সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে তাঁর নামে প্রচারিত ১ দশমিক ৭ শতাংশের বক্তব্যের মূল উৎস যাচাই না হওয়ায় সেটিকে সরাসরি মিথ্যা বলে চূড়ান্ত রায় দেওয়া যাচ্ছে না। নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত হলো, সর্বশেষ সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমেনি; বরং বেড়েছে এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এই প্রবণতার অন্যতম প্রধান কারণ।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি তথ্যযাচাই অর্থনীতি জ্বালানিরদাম

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।