যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বে তাপমাত্রা কমবে, বৃষ্টি-ঝোড়ো বাতাসে সপ্তাহান্তে বাড়বে শীতের অনুভূতি, জানাল আবহাওয়া দপ্তর
গরমের রেশ কাটতেই যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি, দমকা বাতাস ও তাপমাত্রা পতনের পূর্বাভাস; সপ্তাহান্তে বাড়তে পারে শীতের অনুভূতি।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়াবিদেরা। কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়ার পর অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা কমতে পারে। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টি এবং শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দমকা বাতাসের আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে সপ্তাহান্তে শরতের শীতল আবহাওয়া আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া এবং ওয়াশিংটনসহ আশপাশের অঞ্চলের বাসিন্দাদের আবহাওয়ার হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের নিউইয়র্ক কার্যালয়ের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার অঞ্চলটিতে অস্বাভাবিক উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করার কথা। সন্ধ্যার দিকে শীতল বায়ুপ্রবাহের সীমারেখা অতিক্রম করার পর আর্দ্রতা কমবে এবং বৃহস্পতিবার থেকে আবহাওয়া মৌসুমের স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরতে শুরু করবে। এরপর নিম্নচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি আবহাওয়াব্যবস্থা বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টি নিয়ে আসতে পারে। শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার প্রথম ভাগে কোথাও কোথাও বজ্রঝড়ের সামান্য সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে নিউইয়র্ক অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে এমন আশঙ্কা প্রাথমিক পূর্বাভাসে জানানো হয়নি।
নিউইয়র্ক শহরের পূর্বাভাসে বৃহস্পতিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকার কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের শেষ ভাগে বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠতে পারে। শুক্রবার ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাসের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব সংখ্যা নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশিত পূর্বাভাসের ভিত্তিতে দেওয়া; পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে এগুলোও বদলাতে পারে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে। শীতল বায়ুপ্রবাহের পেছনে শক্তিশালী বাতাস প্রবেশ করলে তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে। নিউইয়র্ক শহরে শনিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার পূর্বাভাস রয়েছে। রবিবারও আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল থাকতে পারে। ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটনেও সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে কয়েক দিনের উষ্ণ আবহাওয়ার পর বাসিন্দাদের পোশাক ও দৈনন্দিন চলাফেরায় দ্রুত পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
শক্তিশালী বাতাসের কারণে গাছের দুর্বল ডাল ভেঙে পড়া, বাইরে রাখা হালকা জিনিসপত্র উড়ে যাওয়া এবং কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে সব এলাকায় একই মাত্রার ক্ষতি হবে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ও শনিবারের প্রথম ভাগে বাতাসের সম্ভাব্য প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে সতর্কবার্তা জারি হতে পারে।
বৃষ্টির সময় সড়কে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং পিচ্ছিল পথের কারণে যানবাহন চালকদের বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। বাইরে চলাচলের পরিকল্পনা থাকলে ছাতা, বৃষ্টির উপযোগী পোশাক এবং প্রয়োজনীয় গরম কাপড় সঙ্গে রাখা যেতে পারে। ঝোড়ো বাতাস শুরু হলে বড় গাছ, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও অস্থায়ী কাঠামোর কাছাকাছি অবস্থান এড়ানো নিরাপদ। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকতে দেখলে সেটি স্পর্শ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।
উত্তরাঞ্চলের উঁচু এলাকায় সপ্তাহান্তে প্রথম দিকের হালকা তুষারপাতের সম্ভাবনাও কিছু পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা মূলত উঁচু ও ঠান্ডা এলাকাকে ঘিরে; নিউইয়র্ক শহরের রাস্তায় তুষারপাত হবে এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। তাই বৃষ্টি, বাতাস ও তাপমাত্রা কমার খবরকে সম্ভাব্য আবহাওয়ার পরিবর্তন হিসেবে দেখা উচিত, নিশ্চিত দুর্যোগ হিসেবে নয়।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তন যাচাই করতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের স্থানীয় পূর্বাভাস এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। সংবাদ প্রকাশের সময় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি ও শীতল বাতাসের প্রস্তুতি নেওয়া যুক্তিসংগত হলেও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।





