ব্রেকিং
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের শঙ্কা, ঘণ্টায় ১১২ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাসব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অনুপস্থিতিকে ‘অপরিণত’ বললেন শেখ হাসিনা, উঠল কূটনৈতিক প্রশ্নসৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্যনভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেট্রাম্পের ১.৭ শতাংশ দাবি বনাম হিসাব, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে

নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক ঘোড়ার গাড়ি বন্ধে বড় উদ্যোগ, ২০২৮ থেকে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা

পর্যটকদের আকর্ষণ, ঘোড়ার নিরাপত্তা ও চালকদের জীবিকা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের পর সেন্ট্রাল পার্কের ঘোড়ার গাড়ি বন্ধের উদ্যোগে এগোচ্ছে নিউইয়র্ক নগর পরিষদ।

নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক ঘোড়ার গাড়ি বন্ধে বড় উদ্যোগ, ২০২৮ থেকে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা
নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক ঘোড়ার গাড়ি বন্ধে বড় উদ্যোগ, ২০২৮ থেকে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ায় টানা পর্যটকবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ করার উদ্যোগ নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নগর মেয়র জোহরান মামদানি ও নগর পরিষদের স্পিকার জুলি মেনিনের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ জুনের মধ্যে এই শিল্পের কার্যক্রম বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর নগর পরিষদে প্রস্তাবটির ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভোটের আগে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত আইন হয়ে গেছে.এমন দাবি সঠিক নয়। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত নগর পরিষদের সরকারি ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও ভোটের তারিখ ও প্রস্তাবিত সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে জননিরাপত্তা, ঘোড়ার কল্যাণ, নগরের যান চলাচল এবং বহু বছর ধরে চলা রাজনৈতিক বিতর্ক। ঘোড়ার গাড়ি নিউইয়র্কের পর্যটন সংস্কৃতির পরিচিত অংশ। দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা সেন্ট্রাল পার্কের গাছপালা, পথ ও নগরের দৃশ্য উপভোগ করতে এসব গাড়িতে চড়েছেন। চলচ্চিত্র ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও এই দৃশ্য বহুবার উঠে এসেছে। কিন্তু সমর্থকেরা ঐতিহ্য রক্ষার কথা বললেও বিরোধীরা বলছেন, আধুনিক নগরের ব্যস্ত পথ, পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের ভিড়ের মধ্যে ঘোড়ায় টানা গাড়ি চালানো মানুষ ও প্রাণী—উভয়ের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিতর্কটি নতুন নয়। বহু বছর ধরে প্রাণীকল্যাণকর্মী ও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এই শিল্প বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। এর আগে বিভিন্ন মেয়রও ঘোড়ার গাড়ি বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে চালকদের কর্মসংস্থান, ঘোড়াগুলোর ভবিষ্যৎ এবং শ্রমিক সংগঠনের বিরোধিতার কারণে আগের উদ্যোগগুলো সফল হয়নি। এবার মেয়র ও নগর পরিষদ নেতৃত্বের সমঝোতার পর প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করেছে ভারত থেকে বেড়াতে আসা ১৮ বছর বয়সী রোমাঞ্চ মহাজনের মৃত্যু। চলতি বছরের জুনে সেন্ট্রাল পার্কে পরিবারের সঙ্গে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণের সময় ঘোড়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পরিস্থিতিতে রোমাঞ্চ গাড়ি থেকে লাফ দেন এবং গুরুতর আঘাতের পর তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, মাকে আসন থেকে ছিটকে পড়তে দেখে তাঁকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ঘটনাটি তাঁর পরিবারের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং ঘোড়ার গাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে আসে। পরিবারটি নগর কর্তৃপক্ষের কাছে এই ধরনের ভ্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে একটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো শিল্প সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নেও আলোচনা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সমর্থকেরা বলছেন, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে শুধু বিদ্যমান নিয়ম যথেষ্ট নয়। ঘোড়া ভয় পেয়ে ছুটে গেলে বা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারালে যাত্রী, পথচারী, চালক এবং ঘোড়া সবাই বিপদের মুখে পড়তে পারেন। তাঁদের মতে, ব্যস্ত নগরের মধ্যে প্রাণী ব্যবহার করে পর্যটন পরিচালনার পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প খোঁজা দরকার। সেন্ট্রাল পার্ক সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষও আগে ঘোড়ার গাড়ি বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং জননিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

অন্যদিকে, এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত চালক, মালিক ও শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় কাজ করছেন। কেউ কেউ পারিবারিকভাবে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের আশঙ্কা, গাড়ি চলাচল বন্ধ হলে নিয়মিত আয়ের উৎস হারিয়ে যেতে পারে এবং নতুন পেশায় যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়বে। শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য স্পষ্ট ও অর্থবহ আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

নগর পরিষদের ঘোষিত প্রস্তাবে কর্মীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরির কথা রয়েছে। এর মধ্যে থাকবে উপযুক্ত চাকরির সন্ধানে সহায়তা, পেশাগত পরামর্শ, চাকরিতে নিয়োগের ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান মেলা এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য দেওয়া। মালিকদের জন্যও ঘোড়াগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হলো, শিল্পটি বন্ধ হলেও ঘোড়াগুলো যেন নিষ্ঠুর আচরণের শিকার না হয়। খসড়া বিধানে ঘোড়াগুলোকে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে বিক্রি বা অন্য ঘোড়ার গাড়ির ব্যবসায় স্থানান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথাও রয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা চূড়ান্ত আইন ও পরবর্তী প্রশাসনিক পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।

নগর পরিষদের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি ২২ অক্টোবর ভোটে তোলা হবে এবং ইতিমধ্যে ২৯ জন পরিষদ সদস্য এতে সহপ্রস্তাবক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। এই সমর্থন প্রস্তাবটির রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে। তবু ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে এটিকে কার্যকর আইন হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। ভোটে অনুমোদন পাওয়ার পরও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, কর্মীদের সহায়তা এবং ঘোড়াগুলোর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার কাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই সিদ্ধান্ত নিউইয়র্কের নগরজীবনে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে পারে। একদিকে রয়েছে পর্যটনের পরিচিত ঐতিহ্য ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা; অন্যদিকে জননিরাপত্তা এবং প্রাণীর কল্যাণের প্রশ্ন। নিষেধাজ্ঞার সমর্থকেরা মনে করছেন, সময়ের সঙ্গে নগরের বাস্তবতা বদলেছে এবং সেই অনুযায়ী নিয়মও বদলানো দরকার। বিরোধীরা বলছেন, পরিবর্তন ঘটলেও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে হবে। আগামী ২২ অক্টোবরের ভোট তাই শুধু ঘোড়ার গাড়ির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না; এটি নগরের ঐতিহ্য, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও প্রাণীকল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির পরীক্ষাও হয়ে উঠবে।


ট্যাগ: নিউইয়র্কসেন্ট্রালপার্কঘোড়ারগাড়িপ্রাণীকল্যাণযুক্তরাষ্ট্রেরখবর

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।