ব্রেকিং
অবৈধ লেনদেনে ব্যর্থতায় মার্কিন ব্যাংককে একশত বিশ কোটি ডলার বিশাল জরিমানাবাংলাদেশ ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ঊনিশ ইউনিটসহযোগী রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দা তথ্য ছাড়াই কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলানিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহে পাঁচ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে জ্বালানি কেনার সুপারিশ অনুমোদন কমিটিরবাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ১৬ বছরের রেকর্ড ছুঁতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২ শতাংশে

বাংলাদেশ ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ঊনিশ ইউনিট

টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানার রাসায়নিক গুদামে সকাল দশটায় আগুন লেগে ছড়িয়েছে

বাংলাদেশ ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ঊনিশ ইউনিট
বাংলাদেশ ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ঊনিশ ইউনিট

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার চৌদ্দই অক্টোবর দুই হাজার ছাব্বিশ সকাল সোয়া দশটার দিকে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট দুই এর রাসায়নিক গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পর্যায়ক্রমে গাজীপুর, উত্তরা, ঢাকা সহ আশপাশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ইউনিট বাড়ানো হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মোট উনিশটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এবং শাহজাহান শিকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহিন আলম জানান সকাল সোয়া দশটায় এসেনশিয়াল ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের দূরত্ব সংশ্লিষ্ট স্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার। সকাল দশটা পঁচিশ মিনিটে কর্মীরা পৌঁছে কাজ শুরু করেন। আগুনের লেলিহান শিখা অত্যন্ত তীব্র হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান প্রথমে কারখানার একটি ভবনে আগুন লাগে পরে তা পাশের আরেকটি চারতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার ভেতরে ওষুধ, কেমিক্যাল, ধাতব পদার্থ, উৎপাদন সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন শিল্প সামগ্রী থাকায় আগুনের বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বেড়েছে। আগুনের প্রচণ্ড তাপ, ঘন ধোঁয়া ও কেমিক্যালের তীব্র গন্ধে আশপাশে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। কারখানার ভেতরে থাকা বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যাচ্ছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। আগুনের ব্যাপকতা বাড়তে থাকায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্টেশন থেকে অতিরিক্ত ইউনিট আনা হয়। বর্তমানে উনিশটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। পানির সংকটে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে বলেও জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিভিন্ন দিক থেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। তবে কারখানার ভেতরে শ্রমিকরা ছিলেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়েছে ।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন শিল্প কারখানায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকা, রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণে অসতর্কতা এবং ফায়ার সার্ভিসের সরঞ্জামের অভাবের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওষুধ কারখানায় দাহ্য রাসায়নিক থাকায় ঝুঁকি আরও বেশি। নিয়মিত পরিদর্শন এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা জরুরি।

এই ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ফায়ার সার্ভিসকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হবে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি নগরবাসীকে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। বহু দূর থেকেও ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। টঙ্গী-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

গাজীপুরের এই ওষুধ কারখানাটি দেশের অন্যতম পুরনো ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ওষুধ দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন গুদামে থাকা কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগুন পুরোপুরি নিভতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকল ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও সহযোগিতা করছেন।

ট্যাগ: গাজীপুরে_আগুনটঙ্গীতে_আগুনড্রাগ_ইন্টারন্যাশনালওষুধ_কারখানায়_আগুনফায়ার_সার্ভিস

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।