ব্রেকিং
সুদের হার বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদেড় কোটি অভিবাসীর দাবি ঘিরে কানাডার সরকারি পরিকল্পনা ও বাস্তবতার বড় প্রশ্নমধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে কাতারের রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমল, জ্বালানি রপ্তানিতে বড় ধরনের সংকটনিউইয়র্কে ছোট ব্যবসা ও বাড়ির মালিকদের জরিমানা ঋণে নতুন স্বস্তি কর্মসূচি ঘোষণাশরণার্থীদের মর্যাদা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময় কমাল ট্রাম্প প্রশাসন, বাড়ছে বহিষ্কারের আশঙ্কা

শরণার্থীদের মর্যাদা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময় কমাল ট্রাম্প প্রশাসন, বাড়ছে বহিষ্কারের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

শরণার্থীদের মর্যাদা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময় কমাল ট্রাম্প প্রশাসন, বাড়ছে বহিষ্কারের আশঙ্কা
শরণার্থীদের মর্যাদা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময় কমাল ট্রাম্প প্রশাসন, বাড়ছে বহিষ্কারের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের অভিবাসনসংক্রান্ত নীতিতে নতুন পরিবর্তন এনেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরণার্থীদের মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করা হয়েছে। নতুন নিয়মটি ১৪ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো শরণার্থী হিসেবে যাঁরা যোগ্য নন, তাঁদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া দ্রুত করা। তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, কম সময় দেওয়ার কারণে অনেক শরণার্থীর পক্ষে আইনজীবী খোঁজা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ এবং নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নীতিটি বিশেষভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা শরণার্থীদের পর্যালোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রশাসন প্রায় এক লাখ পঁচাশি হাজার গ্রিন কার্ডের আবেদন পর্যালোচনা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা মানেই সব আবেদন বাতিল হয়েছে বা সব আবেদনকারীকে বহিষ্কার করা হবে এমন নয়।

শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। শরণার্থীরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সুরক্ষার আবেদন করেন। অন্যদিকে, আশ্রয়প্রার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বা সীমান্তে সুরক্ষা চান। দুই শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া এক নয়।

অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ হলো, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে আপিল প্রস্তুত করা অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা ইংরেজিতে দক্ষ নন, আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য সীমিত অথবা নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের জন্য বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের অভিবাসননীতির সমর্থকেরা মনে করেন, যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত হলে অনুপযুক্ত আবেদন শনাক্ত করা সহজ হবে। তবে নতুন নিয়ম বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, কোন পরিস্থিতিতে সময়সীমা গণনা শুরু হবে এবং আপিলের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে কী সুযোগ থাকবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা দেখা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত শরণার্থী ও তাঁদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকারি চিঠি, নোটিশ এবং আইনি সময়সীমা অবহেলা না করা। কারও শরণার্থী মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দ্রুত অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনি সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া সাধারণ পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে নিজের মামলার নির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আপিলের সময়সীমা কমানোর এই সিদ্ধান্ত শরণার্থী সুরক্ষা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে নিয়মটি সব অভিবাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং এটি নিজে থেকেই সবার মর্যাদা বাতিল করে না। ব্যক্তিগতভাবে কারা প্রভাবিত হবেন, তা নির্ভর করবে তাঁদের অভিবাসন-অবস্থা, সংশ্লিষ্ট নোটিশ এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রট্রাম্পঅভিবাসনশরণার্থীশরণার্থীসংকট

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।