ব্রেকিং
৬৬ বছরের পুরোনো শিশু হত্যার রহস্যে নতুন মোড়, ডিএনএ সূত্রে সাবেক গোয়েন্দার নাম সামনেট্রাম্পকে অভিশংসনে সমর্থন দেবেন না শেরড ব্রাউন, ওহাইওর নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কওয়াশিংটন ডিসিতে ভয়াবহ বাড়ির আগুনে একজনের মৃত্যু, আহত ছয়জনজার্মানিতে নুরেমবার্গ বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ, গ্রিসফেরত যাত্রীবাহী বিমানকে পাহারা দিল দুটি যুদ্ধবিমানযুক্তরাষ্ট্রে এআই খাতে বিনিয়োগ কমলে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

বিশ্বমঞ্চে চুয়েটের জয়, মর্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম ও সাশ্রয়ী নকশায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক মর্টার প্রতিযোগিতায় সামগ্রিক দক্ষতায় প্রথম ও সাশ্রয়ী নকশায় দ্বিতীয় হয়ে বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের গৌরব বাড়াল চুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্বমঞ্চে চুয়েটের জয়, মর্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম ও সাশ্রয়ী নকশায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন
বিশ্বমঞ্চে চুয়েটের জয়, মর্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম ও সাশ্রয়ী নকশায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই অর্জন বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটি পুরস্কার জয় করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির দল। বিশেষ করে সামগ্রিক দক্ষতা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন তাদের গবেষণা, পরীক্ষাগারভিত্তিক কাজ এবং উপকরণের গুণাগুণ নিয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতির স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি সাশ্রয়ী নকশা বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন প্রমাণ করে, নির্মাণসামগ্রীর কার্যকারিতার পাশাপাশি ব্যয় কমানোর বিষয়টিতেও দলটি গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রতিযোগিতাটির আয়োজক আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কংক্রিট ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের মান, প্রযুক্তি এবং ব্যবহারিক জ্ঞান নিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা নিজেদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পান। মর্টার তৈরির এই প্রতিযোগিতার বিশেষত্ব হলো, এখানে শুধু শক্তিশালী নির্মাণসামগ্রী তৈরি করলেই চলে না; একই সঙ্গে সেটির প্রবাহক্ষমতা, স্থিতিশীলতা, ব্যয় এবং পরিবেশের ওপর প্রভাব বিবেচনা করতে হয়।

মর্টার হলো সিমেন্ট, বালু, পানি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য উপাদানের নির্দিষ্ট অনুপাতে তৈরি একধরনের নির্মাণ মিশ্রণ। ইটের গাঁথুনি, দেয়ালের বিভিন্ন কাজ এবং অন্যান্য নির্মাণকাজে এ ধরনের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। কাজের ধরন অনুযায়ী মর্টারের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হতে পারে। কোথাও সহজে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ, আবার কোথাও মিশ্রণের উপাদানগুলো যেন আলাদা হয়ে না যায়, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই দুই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই প্রতিযোগিতাটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। কোনো মিশ্রণ অতিরিক্ত তরল হলে তার উপাদানগুলো আলাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার মিশ্রণ বেশি ঘন হলে সেটি নির্ধারিত ছাঁচে সহজে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে উপকরণের অনুপাত, পানির পরিমাণ এবং মিশ্রণে ব্যবহৃত সহায়ক উপাদান নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত প্রতিযোগিতার নির্দেশনা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে এমন মর্টার তৈরি করতে হয়, যা যথাযথভাবে প্রবাহিত হতে পারে এবং একই সঙ্গে স্থিতিশীল থাকে। প্রতিযোগিতার নির্ধারিত স্থানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মিশ্রণ তৈরি করেন। এরপর বিশেষ ছাঁচের মধ্য দিয়ে মিশ্রণের প্রবাহ এবং নির্দিষ্ট সময় পর উপাদানগুলোর স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার ফলাফল, মিশ্রণের ব্যয়, উপকরণ তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্বন নিঃসরণের প্রভাব এবং জমা দেওয়া প্রতিবেদনের মান বিবেচনায় নিয়ে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

চুয়েটের দলটির সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরীক্ষামূলক কাজ। প্রতিযোগিতার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে বিভিন্ন অনুপাতে উপকরণ মিশিয়ে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। প্রতিটি মিশ্রণের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে বোঝার চেষ্টা করতে হয়, কোন অনুপাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় এবং পরিবেশগত প্রভাব কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির দলকে নিয়ে প্রতিযোগিতার আগে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ ধরনের প্রস্তুতি, উপকরণের অনুপাত পরিবর্তন এবং পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
দ্য ডেইলি স্টারের ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুয়েটের দলের আট সদস্য হলেন খন্দকার ফাহাদ আলম, সানিউল হক, রূপম পোদ্দার, তানজিম মুশাররাত তুশিন, মো. সাইজউদ্দিন ফরহাদ, স্বরূপ চন্দ্র মোদক, সুমাইয়া বিনতে মান্নান এবং সৈয়দ মো. আমীর হামজা মাহমুদ মাহাদী। দলের শিক্ষক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক জি এম সাদিকুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ শাখার সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির দলও অংশ নেয়। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দলটি সামগ্রিকভাবে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নকশা বিভাগে দ্বিতীয় স্থান এবং কংক্রিটের নান্দনিকতা প্রতিযোগিতায় বিচারকদের পছন্দের পুরস্কার লাভ করে। ফলে দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে চারটি পুরস্কার অর্জন করেন। এ সাফল্য বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

সাশ্রয়ী নির্মাণসামগ্রী তৈরির গুরুত্ব শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্মাণ খাতে উপকরণের ব্যয় কমানো গেলে বিভিন্ন প্রকল্পের মোট খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে উপকরণ উৎপাদনের সময় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব কমানোর উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো মিশ্রণকে বাস্তব নির্মাণকাজে ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করার আগে তার শক্তি, স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং প্রযোজ্য নির্মাণমান অনুযায়ী পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রতিযোগিতায় ভালো ফল পাওয়া গবেষণার সম্ভাবনা তুলে ধরে, কিন্তু সেটি নিজে থেকেই সব ধরনের নির্মাণকাজে ব্যবহারযোগ্যতার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

চুয়েটের এই অর্জন শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক। শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি গবেষণাগারে হাতে-কলমে কাজ করা, পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের কাজ উপস্থাপন করার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রকৌশলীদের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। এমন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা যাচাই করার পাশাপাশি অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের কাজ ও পদ্ধতি সম্পর্কেও জানার সুযোগ পান।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণার সুযোগ, পরীক্ষাগারের আধুনিক সরঞ্জাম এবং শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা আরও শক্তিশালী করা গেলে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গবেষণার ফল বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মর্টার প্রতিযোগিতায় চুয়েটের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য গর্বের সংবাদ। পরিবেশের ওপর প্রভাব কমানো, ব্যয় সাশ্রয় এবং নির্মাণসামগ্রীর কার্যকারিতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে এই সাফল্য ভবিষ্যতের গবেষণায় নতুন আগ্রহ তৈরি করতে পারে। শিক্ষার্থীদের এই অর্জন দেশের প্রকৌশল শিক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।


ট্যাগ: চুয়েটচট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়বাংলাদেশের শিক্ষার্থীআন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামর্টার প্রতিযোগিতাপ্রকৌশল শিক্ষাগবেষণা

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।