ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক, দেশজুড়ে মোট মনোনীত ৪৬৯ জন
অসাধারণ একাডেমিক ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। দেশজুড়ে নির্বাচিত হয়েছেন ৪৬৯ জন শিক্ষার্থী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক, দেশজুড়ে মোট মনোনীত ৪৬৯ জন
৫ মিনিটে পড়ুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ শিক্ষার্থী অসাধারণ ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ শিক্ষাবর্ষের ফলাফলের ভিত্তিতে তাঁদের এই স্বীকৃতির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪৬৯ শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে চূড়ান্ত তালিকায়। একক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিজ্ঞপ্তিতেও মনোনীত শিক্ষার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সম্প্রতি তিন শিক্ষাবর্ষের জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে। দীর্ঘ বিরতির পর একসঙ্গে তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের এই স্বীকৃতির আওতায় আনা হয়েছে। তালিকায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি নীতিমালার আওতাভুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ১৭৮ জন, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে ১৪১ জন এবং ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ১৫০ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন। এই তিন শিক্ষাবর্ষের সংখ্যা যোগ করলে মোট ৪৬৯ জন হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ২০১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে ১১ জন, ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে ১০ জন এবং ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে ১১ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। ফলে তিন শিক্ষাবর্ষ মিলিয়ে মোট মনোনীত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২। তাঁদের মধ্যে বিজ্ঞান, আইন, অর্থনীতি, ব্যবসায় শিক্ষা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, শিল্পকলা, সমুদ্রবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিনিধিত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুমুখী শিক্ষাচর্চার দিকটিও তুলে ধরে। তবে শুধু তালিকায় নাম থাকা থেকেই প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ফলাফল বা অর্জিত নম্বর সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় না।
২০১৯ শিক্ষাবর্ষে মনোনীত ১১ শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন আরবি বিভাগের মুহী উদ্দীন, পরিসংখ্যান বিভাগের মো. মুদ্দাসির হোসেন আকিব, আইন বিভাগের আবদুর রহমান মজুমদার, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগের মো. আকিদুর রহমান এবং অর্থনীতি বিভাগের শেখ আতিয়া ইসলাম। এ ছাড়া ফার্মেসি বিভাগের ফারিয়া তাসনিম, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের স্বপ্নীল সায়ন সাহা, সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের জেরিন তাসনিম, জিন প্রকৌশল বিভাগের শায়ান শাহরিয়ার, শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের ইশিতা শারমিন সায়মা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান বিভাগের দেবলীনা সরকার মেধা রয়েছেন এই তালিকায়।
২০২০ শিক্ষাবর্ষে মনোনীত ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন আরবি বিভাগের আবদুল্লাহ মাহমুদ নজিব, আইন বিভাগের তাহসীন লুবাবা, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগের মো. আসিফুল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের মারুফ হাসান রুমি এবং ফার্মেসি বিভাগের নাজিফা তাবাসসুম। একই শিক্ষাবর্ষে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের মো. তানভীর আলম, সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের মোছা. তানিয়া আলিম শম্পা, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শেখ সানজিদ আহমেদ, চিত্রনকশা বিভাগের ইমরান হাসান এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান বিভাগের মাইশা মালিহা মনোনয়ন পেয়েছেন।
২০২১ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় রয়েছেন নৃত্যকলা বিভাগের জবা রানী বিশ্বাস, ফলিত গণিত বিভাগের সাদিয়া আঞ্জুম জুমনা, আইন বিভাগের রুবিয়াত হাসান শাওন, অর্থায়ন বিভাগের বিল্লাল হোসেন এবং অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের নওশীন শর্মিলা ঋতু। এ ছাড়া ফার্মেসি বিভাগের রাশমিয়া নার্গিস রেয়দা, পারমাণবিক প্রকৌশল বিভাগের ফারশিদ রেজা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মো. মিনহাজুল ইসলাম, জিন প্রকৌশল বিভাগের সমায়িতা সরকার তুলি, শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের জাহিদুল ইসলাম এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান বিভাগের কাজী মো. শাইমুল রেজা মনোনীত হয়েছেন। এই তালিকায় লক্ষণীয় বিষয় হলো, তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে তালিকাটি কেবল একটি বছরের ফলাফলের স্বীকৃতি নয়; বরং বিভিন্ন সময়ে পড়াশোনা শেষ করা বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে যোগ্যতা অর্জন করা শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ। একই সঙ্গে তালিকায় একাধিক অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখায়, স্বীকৃতিটি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভালো ফল অর্জনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত পড়াশোনা, পাঠ্যসূচি অনুধাবন, পরীক্ষা ও মূল্যায়নে ভালো করা এবং নিজ নিজ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। তবে ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণা, সৃজনশীলতা, ব্যবহারিক দক্ষতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক মান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। এ ধরনের পুরস্কার শিক্ষার্থীদের অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফলের জন্য উৎসাহিত করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রবর্তিত একটি স্বীকৃতি। কমিশনের প্রকাশিত নীতিমালা ও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন এবং যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। ২০০৫ সালে এই পুরস্কার চালু হয়। পরবর্তী সময়ে নীতিমালায় পরিবর্তন এনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও এর আওতায় আনা হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রার্থীদের নাম পাঠানো হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পুরস্কারের নীতিমালায় মনোনীত শিক্ষার্থীদের জন্য ২২ ক্যারেট মানের সাড়ে চার গ্রাম স্বর্ণ ও ১০ গ্রাম রৌপ্য দিয়ে তৈরি পদক এবং একটি সম্মাননাপত্র দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে পদক প্রদান অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান কিংবা আনুষ্ঠানিক বিতরণসূচি সম্পর্কে এই প্রতিবেদন তৈরির সময় নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই মনোনয়নের খবরকে পদক বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার খবর হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তালিকায় থাকা ৩২ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অর্জনও সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাজীবনে ভালো ফলের মাধ্যমে এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তাঁদের এই সাফল্য পরিবার, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্যও আনন্দের উপলক্ষ হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় মানসম্মত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
সব মিলিয়ে, ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ শিক্ষার্থীর মনোনয়ন একটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষাসংবাদ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মনোনীত শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী পদক বিতরণের সময়সূচি ও পরবর্তী কার্যক্রম জানা।