ব্রেকিং
সুদের হার বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদেড় কোটি অভিবাসীর দাবি ঘিরে কানাডার সরকারি পরিকল্পনা ও বাস্তবতার বড় প্রশ্নমধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে কাতারের রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমল, জ্বালানি রপ্তানিতে বড় ধরনের সংকটনিউইয়র্কে ছোট ব্যবসা ও বাড়ির মালিকদের জরিমানা ঋণে নতুন স্বস্তি কর্মসূচি ঘোষণাশরণার্থীদের মর্যাদা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময় কমাল ট্রাম্প প্রশাসন, বাড়ছে বহিষ্কারের আশঙ্কা

মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষায় ডলারের দর কমল, সুদের হার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশের অপেক্ষায় ডলারের দর কমেছে, সুদের হার বাড়ানো নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষায় ডলারের দর কমল, সুদের হার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা
মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষায় ডলারের দর কমল, সুদের হার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারে ১৪ অক্টোবর নতুন করে নজর পড়েছে ডলারের দর, মূল্যস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বুধবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াবে, অপরিবর্তিত রাখবে নাকি ভবিষ্যতে কমানোর সুযোগ তৈরি করবে তা নির্ধারণে এসব তথ্য ভূমিকা রাখতে পারে। মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার লক্ষণ দেখা গেলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক স্বস্তি পেতে পারেন। তবে বাজারের প্রত্যাশা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ডলারের সূচক সামান্য কমে ১০২ দশমিক ১৬ পয়েন্টে নেমে আসে। এর আগের দিনও সূচকটি কমেছিল। এই সূচকের মাধ্যমে প্রধান কয়েকটি আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের শক্তি পরিমাপ করা হয়। ইউরোর দর কিছুটা বেড়েছে, অন্যদিকে জাপানি ইয়েন ও ব্রিটিশ পাউন্ডের দর তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।

বাজারের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী মাসিক মূল্যস্ফীতি আগস্টের তুলনায় বাড়তে পারে। বার্ষিক মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এগুলো প্রকাশের আগের পূর্বাভাস, চূড়ান্ত সরকারি পরিসংখ্যান নয়।

মূল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়তে পারে। খাবার, বাসাভাড়া, পরিবহন, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসার ব্যয় বাড়লে পরিবারের মাসিক বাজেটে চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে ঋণের সুদের হার বেশি থাকলে বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যবসায়িক অর্থায়নের খরচও তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, ভোক্তাদের ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে। মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন বেশি থাকলে সুদের হার কমানোর সুযোগ সীমিত হতে পারে। আবার অর্থনীতি দুর্বল হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে নীতিনির্ধারকেরা প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকের দিকেও নজর রাখছেন। বাজারে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও পরিস্থিতি নতুন অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর নির্ভর করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্যও ভবিষ্যৎ নীতির বিষয়ে ধারণা দিতে পারে।

ডলারের দর পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। ডলার শক্তিশালী হলে অনেক দেশের জন্য ডলারে কেনা পণ্য ও জ্বালানির খরচ বাড়তে পারে। আবার ডলারের দর কমলে কিছু আমদানিকারক সুবিধা পেতে পারেন। তবে প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার বিনিময় হার, পরিবহন ব্যয়, কর এবং পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ডলারের বৈশ্বিক পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির খরচ নির্ধারণে ডলারের বিনিময় হার ভূমিকা রাখে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দর সামান্য কমলেই বাংলাদেশে পণ্যের দাম কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই। স্থানীয় বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং বাজারব্যবস্থাও বিবেচনা করতে হয়।

১৪ অক্টোবরের আর্থিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রধান মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। ডলারের সাম্প্রতিক দরপতন বাজারের প্রত্যাশার পরিবর্তন নির্দেশ করলেও এটিকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো যথেষ্ট তথ্য এখনো নেই। নতুন সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতে পারে।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রযুক্তরাষ্ট্রের_অর্থনীতিডলার

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।