যে ছাত্রসংগঠনের ইতিহাস জড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধে, আজ সেই ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ভূমিকা থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলের পর আবার আলোচনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের বিভিন্ন গণআন্দোলনের ইতিহাসে সম্পৃক্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রায় দুই বছর পরও রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটির কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ছাত্রলীগ ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তবে সংগঠনটির ঐতিহাসিক ভূমিকা ও স্বাধীনতার পরবর্তী কর্মকাণ্ডকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, নির্যাতন ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসে। এসব অভিযোগ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১) ধারা উল্লেখ করে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নেয়।
২০২৬ সালের ২৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রায় ৩০ জন কর্মীর একটি মিছিলের খবর প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা বাতিলের দাবি জানান। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
চলতি বছরের ২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার উত্তরায় সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসায় কথিত নাশকতার প্রস্তুতি নিয়ে সমাবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের ১৪ কর্মীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাসে একদিকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনে অংশগ্রহণের অধ্যায় রয়েছে, অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ওঠা সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। সংগঠনটির নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি এখনো দেশের ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।





