ব্রেকিং
জার্মানিতে নুরেমবার্গ বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ, গ্রিসফেরত যাত্রীবাহী বিমানকে পাহারা দিল দুটি যুদ্ধবিমানযুক্তরাষ্ট্রে এআই খাতে বিনিয়োগ কমলে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কাকিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে মিত্রদের সতর্কবার্তা পায়নি ইউক্রেন, জানালেন জেলেনস্কিজনপ্রিয়তা হারিয়েও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বড় জয়ের পথে ডেমোক্র্যাটদের সামনে ছয় বাধাসৌদিতে হামলার জেরে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ-দাম্মামের সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান বাংলাদেশ

টেক্সাস সীমান্তে হাজারো সেনা, কমেছে অবৈধ পারাপার; কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সীমান্তে পারাপার কমলেও মাদক পাচার ঠেকাতে এই অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

টেক্সাস সীমান্তে হাজারো সেনা, কমেছে অবৈধ পারাপার; কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
টেক্সাস সীমান্তে হাজারো সেনা, কমেছে অবৈধ পারাপার; কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মেক্সিকো থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার, মানব পাচার ও মাদক চোরাচালান ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে রিও গ্র্যান্ডে উপত্যকায় নতুন করে শত শত সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে সীমান্ত এলাকায় পারাপার কমে এলেও বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

টেক্সাসের রোমা শহরের কাছে রিও গ্র্যান্ডে নদীর তীরবর্তী একটি এলাকায় আগে মেক্সিকো থেকে মানুষের অবৈধ পারাপার তুলনামূলক বেশি ছিল। বর্তমানে ওই এলাকায় মার্কিন সেনাদের নজরদারি, সামরিক যান, হেলিকপ্টার এবং সীমান্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। নদীর বিভিন্ন অংশে টহল দিচ্ছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেনা কর্মকর্তাদের দাবি, আগে যে এলাকায় প্রায়ই একাধিক নৌকায় মানুষকে নদী পার হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যেত, সেখানে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত।

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, চলতি মাসে রিও গ্র্যান্ডে উপত্যকায় আরও কয়েক শ সেনা পাঠানো হচ্ছে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই হাজার মাইল দীর্ঘ দক্ষিণ সীমান্তে আগে থেকেই দায়িত্ব পালন করা হাজারো সেনার একটি অংশ। সেনা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, মাদক চোরাচালানকারী অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে মেক্সিকোর সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতাও বাড়ানো হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তজুড়ে বর্তমানে প্রায় আট হাজার সেনা দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীই মূলত সীমান্ত নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্বে রয়েছে; সেনাবাহিনী তাদের সহায়তা করছে। নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আকাশযান, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণব্যবস্থা, নদীতে টহল এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। কিছু এলাকায় নদীর ওপর ভাসমান বাধা ও কাঁটাতারের বেড়াও স্থাপন করা হয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমে মেক্সিকোও অতিরিক্ত জনবল পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসে মেক্সিকোর তামাউলিপাস অঙ্গরাজ্যে ৫০০ জন ন্যাশনাল গার্ড ও সামরিক সদস্য পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর চলাচল শনাক্ত করার প্রচেষ্টাও জোরদার হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করলেই মাদক পাচার বন্ধ হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তের মাঝের খোলা এলাকা দিয়ে অবৈধ পারাপার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে জব্দ হওয়া ফেন্টানিল, কোকেন ও হেরোইনের বড় একটি অংশ সীমান্তের নির্ধারিত প্রবেশপথ দিয়ে চলাচলকারী গাড়ি ও ট্রাকে পাচার করা হচ্ছিল। ফলে নদীর তীর ও খোলা সীমান্তে সেনা বাড়ানোর পাশাপাশি বৈধ প্রবেশপথে নজরদারি এবং পণ্যবাহী যানবাহন পরীক্ষা আরও কার্যকর করা জরুরি।

সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পেছনে নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও রয়েছে কি না। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সীমান্ত নিরাপত্তা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়। কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, সীমান্তে সেনাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি প্রশাসনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরার একটি উপায় হতে পারে। তবে সেনা কর্মকর্তারা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তাঁদের দাবি, মানব পাচার প্রতিরোধ, অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর চলাচল বাধাগ্রস্ত করা এবং সীমান্তরক্ষীদের সহায়তা করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকায় প্রযুক্তিগত হুমকিও রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধী গোষ্ঠীগুলো নজরদারি এবং মাদক পরিবহনের কাজে চালকবিহীন উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে। এসব উড়োজাহাজ শনাক্ত ও প্রতিহত করতে মার্কিন বাহিনী প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। কিছু ক্ষেত্রে মেক্সিকোর দিক থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। গত মাসে টেক্সাসের গারসেনোর কাছে রিও গ্র্যান্ডে নদীতে টহলের সময় মার্কিন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা মেক্সিকোর দিক থেকে গুলির মুখে পড়েন এবং পাল্টা গুলি চালান। ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় গ্রেপ্তার, মাদক জব্দ এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলে অবৈধ চলাচল কমে যাওয়ার তথ্য তাঁদের অভিযানের কার্যকারিতার প্রমাণ। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, মাদক পাচারের বড় অংশ যখন নির্ধারিত প্রবেশপথ দিয়ে হচ্ছে, তখন শুধু সেনা ও টহল বাড়িয়ে পুরো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মানব পাচার ও মাদক চোরাচালানের নেটওয়ার্ক ভাঙতে গোয়েন্দা কার্যক্রম, তদন্ত এবং সীমান্তের দুই পাশে সমন্বিত পদক্ষেপও প্রয়োজন।

টেক্সাস সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ফলে কিছু এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করছে। কিন্তু এই পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে অবৈধ পারাপার কমানোর পাশাপাশি মানব পাচার ও মাদক চোরাচালান কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার ওপর। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বিপুল সামরিক ব্যয়ের বাস্তব সুফল নিশ্চিত করা—দুই বিষয়ই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগ: আমেরিকারখবরটেক্সাসসীমান্তনিরাপত্তাঅভিবাসনমাদকপাচার

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।