যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আশ্রয়প্রার্থীর মামলা, বদলে যেতে পারে অভিবাসন আইনের ব্যাখ্যা
জোরপূর্বক সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্য রান্না করায় নাইজেরীয় আশ্রয়প্রার্থীর মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট, সন্ত্রাসবাদে সহায়তার আইনি সংজ্ঞা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট নাইজেরিয়ার নাগরিক ইজুচুকু ওজুরুম্বার আশ্রয়সংক্রান্ত মামলা শুনতে সম্মত হয়েছে। মামলাটিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কোনো ব্যক্তি জোরপূর্বক সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্য রান্না করতে বাধ্য হলে, সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে সন্ত্রাসবাদে বস্তুগত সহায়তা হিসেবে গণ্য করা যাবে কি না।
১৩ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। মামলাটির রায় যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন মূল্যায়ন এবং সন্ত্রাসবাদে সহায়তার আইনি সংজ্ঞার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালে কাজের সন্ধানে ওজুরুম্বা নাইজেরিয়ার লাগোসের বাইরে একটি প্রত্যন্ত শিবিরে যান। সেখানে তিনি রান্নার কাজ শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, শিবিরটি ‘আননোন গানমেন’ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ।
ওজুরুম্বার আইনজীবীদের ভাষ্য, তিনি সেখান থেকে চলে যেতে চাইলেও তাঁকে বিনা বেতনে আটকে রাখা হয়। প্রায় ছয় মাস পর তিনি পালিয়ে যান। এরপর তাঁর ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি আসে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। পরে তিনি ভেনেজুয়েলা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে পৌঁছে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন এবং আশ্রয়ের আবেদন করেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন চলাকালে একজন অভিবাসন বিচারক তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। বিচারকের যুক্তি ছিল, ওই গোষ্ঠীর সদস্যদের খাবার সরবরাহ করা তাদের কার্যক্রমে সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, এমনকি কাজটি বাধ্য হয়ে করা হলেও।
তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চতুর্থ সার্কিট আপিল আদালত ওজুরুম্বার পক্ষে রায় দেয়। আদালত তাঁকে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে এবং রান্নার কাজকে ওই আইনের অধীনে সন্ত্রাসবাদে বস্তুগত সহায়তা বলে গণ্য করেনি। এরপর সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে।
সরকারের যুক্তি, কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে খাবার সরবরাহ করাও তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, ওজুরুম্বার পক্ষে বলা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় ওই গোষ্ঠীকে সহায়তা করেননি; বরং জোরপূর্বক কাজ করানো হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অভিবাসন আইনে বাধ্যতামূলক শ্রম ও সন্ত্রাসবাদে সহায়তার সীমা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে আদালত এখনো মামলার চূড়ান্ত রায় দেয়নি। ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করবে আদালতের যুক্তি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।





