জার্মানিতে নুরেমবার্গ বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ, গ্রিসফেরত যাত্রীবাহী বিমানকে পাহারা দিল দুটি যুদ্ধবিমান
বেতার যোগাযোগে ত্রুটির পর ছিনতাইয়ের সংকেত ছড়ায়; জার্মানিতে বিমানবন্দর বন্ধ, দুটি যুদ্ধবিমানের পাহারায় গ্রিসফেরত বিমান নিরাপদে অবতরণ করে।
জার্মানিতে নুরেমবার্গ বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ, গ্রিসফেরত যাত্রীবাহী বিমানকে পাহারা দিল দুটি যুদ্ধবিমান জার্মানির নুরেমবার্গ বিমানবন্দরে সম্ভাব্য আকাশপথের জরুরি পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গ্রিসের করফু দ্বীপ থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে বেতার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর ছিনতাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জার্মানির বিমানবাহিনী দুটি যুদ্ধবিমান পাঠায়। যুদ্ধবিমান দুটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত পাহারা দেয়। পরে বিমানটি নুরেমবার্গ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে এবং কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানায়।
১৩ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কভিত্তিক বিমান সংস্থা কোরেনডন এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজটি গ্রিসের করফু থেকে জার্মানির নুরেমবার্গে যাচ্ছিল। উড়োজাহাজটিতে ১৭৮ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রাপথে ক্রোয়েশিয়ার আকাশসীমার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানের বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় জরুরি সংকেত পাঠানো হয়, যা কর্তৃপক্ষের কাছে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা পড়ে।
জার্মান পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানের ককপিট থেকে ছিনতাইসংক্রান্ত সংকেত পাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ককপিটের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় পরিস্থিতিকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং জার্মান বিমানবাহিনীর দুটি ইউরোফাইটার যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। যুদ্ধবিমান দুটি নুরেমবার্গে অবতরণ পর্যন্ত যাত্রীবাহী বিমানটির পাশে থেকে পাহারা দেয়।
সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি যাচাই করার সময় কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয় এবং দুটি আগত উড়োজাহাজকে সতর্কতামূলকভাবে অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। জরুরি পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর বিমানবন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম আবার শুরু হয়।
ঘটনার পর বিমান সংস্থা কোরেনডন এয়ারলাইনস জানায়, তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার সাময়িক ত্রুটির কারণে জরুরি সংকেতটি পাঠানো হয়েছিল। সংস্থাটি স্পষ্ট করে যে, কোনো প্রকৃত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং যাত্রী, উড়োজাহাজের কর্মী কিংবা বিমানের নিরাপত্তা বাস্তবে বিপন্ন হয়নি। তবে জরুরি সংকেত পাঠানোর পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে।
এই ঘটনার আগে মঙ্গলবার ভোরেও নুরেমবার্গ বিমানবন্দরের আশপাশে সম্ভাব্য ড্রোন দেখার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কয়েকজন পাইলট আকাশে একটি বস্তু দেখেছেন বলে জানান। এরপর পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো অনুসন্ধান চালায়। এ কাজে পুলিশি হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়েছিল, তবে অনুসন্ধানে কোনো ড্রোন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ড্রোন দেখার খবর এবং যাত্রীবাহী বিমানের জরুরি সংকেতের মধ্যে কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোনসংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এ কারণে আকাশপথ পর্যবেক্ষণ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। তবে নুরেমবার্গের এই ঘটনার ক্ষেত্রে বিমান সংস্থার দেওয়া ব্যাখ্যা ছিল বেতার যোগাযোগের প্রযুক্তিগত ত্রুটি। তাই প্রমাণ ছাড়া ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা, প্রকৃত ছিনতাই কিংবা ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না।
ঘটনাটি দেখিয়েছে, যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বা ছিনতাইয়ের সংকেত পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হয়। পরে প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত হলেও প্রথম পর্যায়ে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জার্মানির নুরেমবার্গ বিমানবন্দরে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের পর উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।





