ব্রেকিং
ওয়াশিংটন ডিসিতে ভয়াবহ বাড়ির আগুনে একজনের মৃত্যু, আহত ছয়জনজার্মানিতে নুরেমবার্গ বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ, গ্রিসফেরত যাত্রীবাহী বিমানকে পাহারা দিল দুটি যুদ্ধবিমানযুক্তরাষ্ট্রে এআই খাতে বিনিয়োগ কমলে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কাকিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে মিত্রদের সতর্কবার্তা পায়নি ইউক্রেন, জানালেন জেলেনস্কিজনপ্রিয়তা হারিয়েও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বড় জয়ের পথে ডেমোক্র্যাটদের সামনে ছয় বাধা

ইসরায়েল থেকে গ্রিসে ফিরল ২২ প্রাচীন নিদর্শন, প্রত্নসম্পদ পাচার রোধে নতুন পদক্ষেপ

অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া ২২টি প্রাচীন গ্রিক নিদর্শন ফিরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল, ঐতিহ্য সংরক্ষণে দুই দেশের সহযোগিতায় নতুন অগ্রগতি।

ইসরায়েল থেকে গ্রিসে ফিরল ২২ প্রাচীন নিদর্শন, প্রত্নসম্পদ পাচার রোধে নতুন পদক্ষেপ
ইসরায়েল থেকে গ্রিসে ফিরল ২২ প্রাচীন নিদর্শন, প্রত্নসম্পদ পাচার রোধে নতুন পদক্ষেপ

ইসরায়েল থেকে গ্রিসে ফিরল ২২ প্রাচীন নিদর্শন, প্রত্নসম্পদ পাচার রোধে নতুন পদক্ষেপ প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্য রক্ষা এবং অবৈধভাবে পাচার হওয়া প্রত্নসম্পদ নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ইসরায়েল গ্রিসকে ২২টি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ফিরিয়ে দিয়েছে। এসব নিদর্শন একসময় গ্রিস থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার এথেন্সের জাতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিদর্শনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেরত দেওয়া নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন মৃৎপাত্র, তেলের সরু পাত্র, দুই হাতলবিশিষ্ট বড় পাত্র, পানীয়ের পেয়ালা এবং একজন নারীর ছোট ব্রোঞ্জের মূর্তি। পাত্রগুলোর কয়েকটিতে পৌরাণিক কাহিনি ও জ্যামিতিক নকশার চিত্র রয়েছে। প্রত্নবস্তুগুলোর বয়স আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৩২০ সালের মধ্যে। অর্থাৎ এগুলোর কয়েকটি দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। এসব বস্তু প্রাচীন গ্রিক সমাজের শিল্পকলা, ধর্মীয় বিশ্বাস, দৈনন্দিন জীবন এবং কারুশিল্পের ইতিহাস বুঝতে গবেষকদের সহায়তা করতে পারে।

গ্রিসের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিনা মেন্দোনি ইসরায়েলের প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিদর্শনগুলো গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত পনিনাত ইয়ানাই এবং ইসরায়েলের প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষের চুরি হওয়া প্রত্নসম্পদ উদ্ধারে কাজ করা বিভাগের পরিচালক আমির গানর উপস্থিত ছিলেন। গ্রিসের সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব উৎসস্থলে সাংস্কৃতিক সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার গুরুত্ব শুধু আইনি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতাও জড়িত। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রত্যাবর্তন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তদন্তে অবৈধ প্রত্নসম্পদের বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের সময় এসব নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে সেগুলোর উৎস ও মালিকানা সম্পর্কে তথ্য যাচাই করে গ্রিসে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইসরায়েল থেকে গ্রিসে প্রাচীন নিদর্শন ফিরিয়ে দেওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা বলে গ্রিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে এটি শুধু ২২টি বস্তু ফেরত পাওয়ার ঘটনা নয়; বরং দুই দেশের মধ্যে প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধ ও ঐতিহাসিক সম্পদের সঠিক মালিকানা নির্ধারণে সহযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাদুঘর, ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা ও প্রত্নসম্পদের বাজারে এমন অনেক বস্তু রয়েছে, যেগুলো অতীতে যুদ্ধ, লুটপাট, অবৈধ খনন কিংবা গোপন বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজস্ব দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো প্রাচীন নিদর্শনের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা নির্ধারণ করা সব সময় সহজ নয়। এজন্য প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, পুরোনো নথি, বিক্রির ইতিহাস এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তের প্রয়োজন হয়। গ্রিসে ফেরত দেওয়া নিদর্শনগুলোর ঘটনাও দেখায়, বিভিন্ন দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও তদন্তের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গ্রিস দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকা প্রাচীন সম্পদ ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার চালিয়ে আসছে। এই প্রচেষ্টার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো অ্যাক্রোপলিসের পার্থেনন মন্দিরের ভাস্কর্যগুলো ফিরিয়ে আনার দাবি। বর্তমানে এসব ভাস্কর্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ লন্ডনের ব্রিটিশ জাদুঘরে রয়েছে। গ্রিসের দাবি, ভাস্কর্যগুলোকে তাদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, ব্রিটিশ জাদুঘর দীর্ঘদিন ধরে এগুলোর সংগ্রহ ও প্রদর্শন নিয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে। ফলে বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে ইসরায়েল থেকে ফেরত পাওয়া ২২টি নিদর্শনের ঘটনা এবং পার্থেননের ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধ এক বিষয় নয়। প্রথম ঘটনায় নির্দিষ্ট কিছু প্রত্নবস্তু অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে এবং সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পার্থেননের ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্কের সঙ্গে দীর্ঘ ইতিহাস, সংগ্রহের বৈধতা, সাংস্কৃতিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক আলোচনা জড়িত। তবু উভয় ক্ষেত্রেই গ্রিসের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের ইতিহাস ও মালিকানা নিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা।

প্রাচীন নিদর্শনের গুরুত্ব শুধু সেগুলোর আর্থিক মূল্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি মৃৎপাত্রের নকশা, নির্মাণশৈলী বা ব্যবহারের চিহ্ন থেকে কোনো সভ্যতার বাণিজ্য, ধর্মীয় আচার, সামাজিক সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কোনো বস্তু তার মূল প্রত্নতাত্ত্বিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সেই ইতিহাসের কিছু অংশ হারিয়ে যেতে পারে। তাই অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া প্রত্নসম্পদ ফিরিয়ে দেওয়াকে অনেক দেশ ঐতিহাসিক স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে দেখে।

ইসরায়েল ও গ্রিসের এই উদ্যোগের মাধ্যমে অবৈধ প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। তবে একটি হস্তান্তর অনুষ্ঠানই বিশ্বজুড়ে প্রত্নসম্পদ পাচার বন্ধ করে দিতে পারবে না। এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর আইন, নির্ভরযোগ্য নথি, জাদুঘর ও সংগ্রাহকদের যথাযথ যাচাই এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা। তবু ২২টি প্রাচীন নিদর্শনের প্রত্যাবর্তন দেখিয়েছে, উৎস ও মালিকানা শনাক্ত করা গেলে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের অন্তত একটি অংশ নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ট্যাগ: ইসরায়েলগ্রিসপ্রাচীননিদর্শনপ্রত্নতাত্ত্বিকসম্পদসাংস্কৃতিকঐতিহ্যপ্রত্নসম্পদপাচারঐতিহাসিকসম্পদ

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।