ব্রেকিং
সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো ও উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের গুরুত্বলাস ভেগাসে রেকর্ড বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা, ডুবল সড়ক, বিপর্যস্ত যানচলাচল, সতর্কতা জারিযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সামুদ্রিক ঢেউ, বাড়িঘর বিধ্বস্ত, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশযুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমলেও বেকারভাতার আবেদন কমেছে, উদ্বেগ রয়ে গেছেনিউ জার্সিতে ১০ হাজারের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে অনিশ্চয়তা, যোগ্যতা যাচাইয়ের জরুরি আহ্বান

ইরান চুক্তি চায়, তবে শর্ত নিয়ে অচলাবস্থা: পরমাণু ইস্যুতে অনড় ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধ কাটেনি। হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধের অবসান নিয়ে চলছে কূটনৈতিক যোগাযোগ।

ইরান চুক্তি চায়, তবে শর্ত নিয়ে অচলাবস্থা: পরমাণু ইস্যুতে অনড় ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র
ইরান চুক্তি চায়, তবে শর্ত নিয়ে অচলাবস্থা: পরমাণু ইস্যুতে অনড় ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার প্রচেষ্টা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরান চুক্তি করতে চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য শর্তে সমঝোতা করতে দেশটি প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের নির্দিষ্ট শব্দচয়ন ও ঘটনাস্থল স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ১৭ আগস্টের প্রকাশিত ভিডিওতে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তাঁর বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ধরনের চুক্তিতে দেশটি রাজি হবে না। তিনি আরও বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। এই ভিডিও ট্রাম্পের অবস্থান সম্পর্কে প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিলেও এটি অক্টোবরের ১২ তারিখে ওহাইওর ইয়ংস্টাউনে দেওয়া বক্তব্যের প্রমাণ নয়। তাই সাম্প্রতিক দাবিটিকে তাঁর যাচাইকৃত পুরোনো বক্তব্যের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

অন্যদিকে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চলার বিষয়ে সাম্প্রতিক তথ্য রয়েছে। রয়টার্সের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা শেষ হলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে আলোচনা চলা মানেই কোনো পক্ষ চূড়ান্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, এমন নয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কিংবা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সব বিরোধ মিটে গেছে এমন তথ্যও ওই প্রতিবেদন থেকে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো, ইরান ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে কি না। ওয়াশিংটন চায়, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হোক এবং এমন ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে দেশটি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করার অধিকার তাদের রয়েছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে ব্যবধানই আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা।

রয়টার্সের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, শুধু ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিলেই যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট হবে না। তবে এই বক্তব্যও মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরে; এটি ইরানের সম্মতি বা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ নয়।

সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় এবং জাহাজের বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও পড়তে পারে।

রয়টার্সের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের জবাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পর্যালোচনা করছিল বলে জানা গেলেও প্রস্তাবের সব শর্তে সমঝোতা হয়েছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। দুই পক্ষের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরমাণু কর্মসূচি এবং সংঘাতের অবসান নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ইরানকে ঘিরে এই সংকট যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। যুদ্ধের ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগ নির্বাচনী আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের প্রতিটি বক্তব্যকে কেবল নির্বাচনী উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তির বিষয়ে নিশ্চিত অগ্রগতি প্রকাশ্যে আসেনি। ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং মার্কিন শর্তের বিষয়ে তেহরানের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যৎ আলোচনার গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

তথ্য যাচাইয়ের ভিত্তিতে বলা যায়, ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এটি তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্যে প্রমাণিত। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চলার তথ্যও রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প ১২ অক্টোবর ইয়ংস্টাউনে ঠিক কী বলেছেন, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ওই নির্দিষ্ট উদ্ধৃতিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়। একইভাবে, ইরান চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বা দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে এমন দাবিও বর্তমানে পাওয়া তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পইরানযুক্তরাষ্ট্রপরমাণুচুক্তি

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।