ব্রেকিং
রিয়াদে হামলাকে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা পাকিস্তানের, সৌদির নিরাপত্তায় সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার২০২৮ সালের নির্বাচনে ফিরবেন কমলা হ্যারিস? মধ্যবর্তী ভোটে ডেমোক্র্যাটদের জয় ঘিরে নতুন জল্পনারিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, ফ্লাইট বাতিলে ঢাকায় আটকে হাজারো যাত্রীবিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এখনো অনিশ্চয়তাযুক্তরাষ্ট্রে করদাতার অর্থে ট্রাম্পের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন বন্ধে ফেডারেল বিচারকের নির্দেশ

ইরান যুদ্ধের ভয়াবহ মূল্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, নিহত ২১ সেনা—আহত ৮৬৫

ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর হতাহতের সরকারি হিসাব সংশোধন করেছে, যা সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

ইরান যুদ্ধের ভয়াবহ মূল্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, নিহত ২১ সেনা—আহত ৮৬৫
ইরান যুদ্ধের ভয়াবহ মূল্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, নিহত ২১ সেনা—আহত ৮৬৫

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হতাহতের সরকারি হিসাব সংশোধন করেছে পেন্টাগন। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ২১ জন সামরিক সদস্যের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আহত সামরিক সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬৫ জনে। ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। খবরটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে সংঘাতের মানবিক মূল্য এবং সামরিক হতাহতের তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, আগের সরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৯। পরে আরও দুটি মৃত্যুর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করায় মোট সংখ্যা বেড়ে ২১ হয়েছে। তবে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দুটি মৃত্যুই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের হামলায় ঘটেনি। ফলে ২১ জনের সবাইকে সরাসরি যুদ্ধে নিহত সেনা হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না।

নতুন হিসাবের মধ্যে রয়েছেন নিউইয়র্ক আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের মেজর সরফ্লাই ডেভিয়াস। ৪৬ বছর বয়সী এই সামরিক কর্মকর্তা ৬ মার্চ কুয়েতে অবস্থানকালে চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর আগে প্রকাশিত হলেও ইরান-সংশ্লিষ্ট অভিযানের সরকারি হতাহতের হিসাবে তা অন্তর্ভুক্ত ছিল না বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনাটি সেপ্টেম্বর মাসে মারা যাওয়া একজন নৌবাহিনীর সদস্যের। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এই দুটি ঘটনা নতুন হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হতাহতের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। তবে এই সংশোধন থেকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না যে, নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দুজনই শত্রুপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছিলেন। বরং ঘটনাগুলো দেখায়, সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর হিসাব নির্ধারণে কোন ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ ইরান-সংশ্লিষ্ট সংঘাতের হতাহতের হিসাব দুটি পৃথক শ্রেণিতে নথিভুক্ত করছে। প্রথমটি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই শ্রেণিতে ১৫ জন নিহত এবং ৪১৭ জন আহত হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছেন।

দ্বিতীয় শ্রেণিটি ৭ জুলাই থেকে পরবর্তী বিদেশি সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে ছয়জন নিহত এবং ৪৪৮ জন আহত হয়েছেন। দুই শ্রেণির পরিসংখ্যান যোগ করলে মোট ২১ জন নিহত ও ৮৬৫ জন আহতের হিসাব পাওয়া যায়। এই বিভাজন বোঝা জরুরি, কারণ সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশিত হলে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সাধারণ পাঠকের কাছে অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

মার্কিন সামরিক হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক এর আগেও দেখা গেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট সেপ্টেম্বর মাসে জানিয়েছিল, সরকারি হিসাবের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হতে পারে। সে সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওই প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি তথ্যভান্ডারে সংশোধন আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এই সংশোধন একাই প্রমাণ করে না যে, সব আগের অভিযোগ সঠিক ছিল কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে সব তথ্য গোপন করা হয়েছিল। নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মৃত্যুর ঘটনাগুলো আগে জানা থাকলেও সরকারি শ্রেণিবিন্যাসে অন্তর্ভুক্ত না থাকার বিষয়টি আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে। সরকারি তথ্যের পরিবর্তন, তথ্য প্রকাশের সময় এবং মৃত্যুর কারণ এই তিনটি বিষয় যাচাই করেই পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

এদিকে আহত ৮৬৫ জনের সংখ্যা সংঘাতের মানবিক মূল্যকে আরও স্পষ্ট করে। সামরিক সদস্যদের আহত হওয়ার মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে আঘাতের পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য ঘটনাও থাকতে পারে। তাই এই সংখ্যাকে শুধু সরাসরি গোলাবর্ষণ বা হামলায় আহত ব্যক্তির সংখ্যা হিসেবে ব্যাখ্যা করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি শ্রেণিবিন্যাস দেখা প্রয়োজন।

সংঘাতের কারণে সামরিক সদস্যদের পরিবার, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং সামরিক নেতৃত্বের জবাবদিহি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবায় ১ মার্চ ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় নিহত ও আহত সেনাদের পরিবার সামরিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ওই হামলার ঘটনা এবং সর্বশেষ ২১ জনের সরকারি মোট হিসাবকে একই বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়; এগুলো সংঘাতের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের পৃথক তথ্য।

২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব ২১ জন নিহত ও ৮৬৫ জন আহত। এই পরিসংখ্যানে যুদ্ধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অযুদ্ধকালীন মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারি তথ্যভান্ডার আরও হালনাগাদ হলে সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নতুন কোনো দাবি প্রকাশের ক্ষেত্রে পেন্টাগনের তথ্য, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং হতাহতের শ্রেণিবিন্যাস মিলিয়ে দেখা জরুরি।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রইরানযুদ্ধমার্কিনসেনা

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।