ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বাড়লেও পূর্ণকালীন কাজ পাচ্ছেন না লাখো মানুষযুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে বড় সুখবর, অক্টোবরে বেড়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরিকানাডার পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব-পাগড়ি পরা যাবে, মানতে হবে যেসব নিয়মপাঁচ রাজ্যে নতুন আইন কর্মকর্তা, পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আসতে পারে পরিবর্তন২০৩২ সালের মধ্যে বয়স্কদের মাসিক ভাতার টাকা ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বাড়লেও পূর্ণকালীন কাজ পাচ্ছেন না লাখো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি বাড়লেও ৪৮ লাখ মানুষ খণ্ডকালীন কাজে বাধ্য, দীর্ঘ হচ্ছে বেকারত্বের সময়, বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের উদ্বেগ।

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বাড়লেও পূর্ণকালীন কাজ পাচ্ছেন না লাখো মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বাড়লেও পূর্ণকালীন কাজ পাচ্ছেন না লাখো মানুষ

ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া সবশেষ খবরে বলা হয়েছে, গত অক্টোবর মাসে আমেরিকার কর্মবাজারে নতুন করে এক লাখ পঁয়ষট্টি হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। এই সংখ্যাটি দেখে প্রথমে মনে হতে পারে, সবকিছু ভালো চলছে। বেকারত্বের হারও সামান্য কমে চার দশমিক এক শতাংশে নেমে এসেছে। আগের দুই মাসের হিসাবও পরে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। আগস্ট মাসে এক লাখ ছিয়াশি হাজার এবং সেপ্টেম্বর মাসে ষাট হাজার চাকরি যোগ হয়েছিল বলে নতুন হিসাব বলছে। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করেছিলেন, অক্টোবরে মাত্র ষাট হাজারের মতো চাকরি বাড়বে। সেই তুলনায় এই ফল অনেক ভালো। পেশাদার ও ব্যবসায়িক সেবা খাতে সত্তর হাজার, স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিয়াল্লিশ হাজার, পরিবহন ও গুদাম খাতে পঁচিশ হাজার এবং কারখানায় ঊনিশ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে। এই ছবিটি নিঃসন্দেহে আশার। কিন্তু এই আশার আড়ালে তিনটি গভীর দুর্বলতা লুকিয়ে আছে, যা লাখ লাখ পরিবারের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। এই প্রতিবেদনে সেই লুকানো দুর্বলতাগুলোকে তথ্য দিয়ে যাচাই করে তুলে ধরা হলো।

প্রথম দুর্বলতা হলো খণ্ডকালীন কাজে আটকে থাকা মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়া। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে অর্থনৈতিক কারণে খণ্ডকালীন কাজ করা মানুষের সংখ্যা তিন লাখ ঊনচল্লিশ হাজার বেড়ে আটচল্লিশ লাখে পৌঁছেছে। এরা সবাই পূর্ণকালীন কাজ করতে চান। কিন্তু তাদের ঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথবা তারা পূর্ণকালীন কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না। এই মানুষগুলোকে সরকারি হিসাবে চাকরিজীবী ধরা হয়। তাই বেকারত্বের হার কম দেখায়। কিন্তু বাস্তবে তাদের আয় কমে গেছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। এই বৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই এসেছে কাজ কমে যাওয়া থেকে। তিন লাখ ছাপ্পান্ন হাজার মানুষ বলেছেন, ব্যবসা মন্দা থাকার কারণে তাদের কাজের ঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা কেবল খণ্ডকালীন কাজ খুঁজে পেয়েছেন, তাদের সংখ্যা প্রায় একই আছে, প্রায় বারো লাখ পঁয়ষট্টি হাজার। অর্থাৎ সমস্যাটি নতুন লোকের কাজ না পাওয়া নয়, বরং যাদের কাজ আছে, তাদের কাজ কমে যাওয়া। একজন শ্রমিক যখন সপ্তাহে চল্লিশ ঘণ্টার বদলে পঁচিশ ঘণ্টা কাজ করেন, তখন তার বেতন, তার বোনাস, তার ভবিষ্যৎ সঞ্চয়, সবকিছুই কমে যায়। দোকানদার, রেস্তোরাঁর কর্মী, গুদামের কর্মী, হাসপাতালের সহায়ক কর্মী, অনেকেই এখন এই অবস্থায় আছেন। তাদের অনেকেই দ্বিতীয় একটি খণ্ডকালীন কাজ খুঁজছেন। কিন্তু তাতেও সংসারের ঘাটতি মিটছে না। এই কারণে বড় বেকারত্বের সংজ্ঞার বাইরে থাকা আরেকটি পরিমাপ, যা খণ্ডকালীন কাজে আটকে থাকা এবং হতাশ হয়ে কাজ খোঁজা বন্ধ করে দেওয়া মানুষদেরও ধরে, সেটি অক্টোবরে সাত দশমিক ছয় শতাংশ থেকে বেড়ে সাত দশমিক নয় শতাংশে উঠেছে। এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে, শুধু চাকরির সংখ্যা দেখলে পুরো ছবি বোঝা যায় না। কাজের মান এবং ঘণ্টার পরিমাণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয় দুর্বলতা হলো দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব। অক্টোবর মাসে প্রায় বিশ লাখ মানুষ সাতাশ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেকার ছিলেন। মোট বেকার মানুষের মধ্যে তাদের অংশ ছিল সাতাশ দশমিক ছয় শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাসে এই অংশ ছিল সাতাশ দশমিক এক শতাংশ। অর্থাৎ চাকরির সংখ্যা বাড়ার মাসেও দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের ভাগ বেড়েছে। গড় বেকারত্বের সময় বেড়ে সাতাশ দশমিক এক সপ্তাহে পৌঁছেছে। আগের মাসে এটি ছিল চব্বিশ দশমিক আট সপ্তাহ। মধ্যম সময়ও বেড়ে এগারো দশমিক নয় সপ্তাহ হয়েছে, যা দুই হাজার একুশ সালের নভেম্বর মাসের পর সবচেয়ে বেশি। সিএনবিসি এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মহামারির সময় বাদ দিলে এটি দুই হাজার ষোল সালের পর সবচেয়ে দীর্ঘ গড় বেকারত্বের সময়। এই তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমেরিকার বেশিরভাগ রাজ্যে বেকার ভাতা ছাব্বিশ সপ্তাহ পর বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ গড় বেকার মানুষ এখন ভাতা শেষ হওয়ার পরও কাজ খুঁজছেন। তাদের সঞ্চয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। ঋণ বাড়ছে। মানসিক চাপ বাড়ছে। পরিবারে অশান্তি বাড়ছে। একজন মানুষ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কাজ না পেলে, তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নিয়োগকর্তারা তাকে কম ডাকেন। এইভাবে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়। দীর্ঘদিন কাজের বাইরে থাকা মানুষটি আরও বেশি পিছিয়ে পড়েন। এই অবস্থা শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। কারণ অভিজ্ঞ কর্মীরা কর্মবাজার থেকে হারিয়ে যান। তরুণরা ভয় পান। পরিবারগুলো খরচ কমিয়ে দেন। তাতে ব্যবসায় বিক্রি কমে। ব্যবসায় বিক্রি কমলে আবার নিয়োগ কমে। এই চক্র ভাঙা কঠিন।

তৃতীয় দুর্বলতা হলো বাজারের স্থবিরতা, যাকে অর্থনীতিবিদরা বলেন কম নিয়োগ কম ছাঁটাইয়ের বাজার। এই বাজারে কোম্পানিগুলো কর্মী ছাঁটাই করছে না, কিন্তু নতুন লোকও নিচ্ছে না। যাদের চাকরি আছে, তারা চাকরি ধরে রাখছেন। যাদের চাকরি নেই, তারা ঢুকতে পারছেন না। সেন্ট লুইসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ধরনের বাজারে প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রসারণের বদলে দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়। তারা পুরোনো কর্মীদের ধরে রাখে। একে বলা হয় কর্মী ধরে রাখার কৌশল। ফলে নতুন পদের সংখ্যা কমে যায়। চাকরি বদলের হারও কমে যায়। আগস্ট মাসে মাত্র এক দশমিক নয় শতাংশ কর্মী নিজে থেকে চাকরি ছেড়েছেন, যা দুই হাজার বিশ সালের পর সবচেয়ে কম। নিয়োগের হারও তিন দশমিক তিন শতাংশের আশপাশে, যা ঐতিহাসিকভাবে কম। ছাঁটাইয়ের হার প্রায় এক শতাংশ, যা রেকর্ড কমের কাছাকাছি। এই তিনটি সংখ্যা একসাথে বলছে, বাজার জমে গেছে। এই জমে যাওয়া বাজার সবচেয়ে বেশি আঘাত করছে নতুনদের। কারণ নতুনরা নতুন পদ তৈরির ওপর নির্ভর করেন। পুরোনোরা পদ ছাড়লে তবেই নতুনরা ঢুকতে পারেন। এখন পদ খালি হচ্ছে না। তাই নতুন স্নাতকরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

তরুণদের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। নিউইয়র্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে বাইশ থেকে সাতাশ বছর বয়সী স্নাতকদের বেকারত্বের হার পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। যারা কাজ পেয়েছেন, তাদের চল্লিশ শতাংশের বেশি এমন কাজ করছেন, যেখানে স্নাতক ডিগ্রি লাগে না। এটি দুই হাজার বিশ সালের পর সবচেয়ে বেশি। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন স্নাতকদের অংশ এখন মাত্র সাত শতাংশ। মহামারির আগের তুলনায় এটি অর্ধেকের বেশি কমেছে। ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন স্নাতক নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক পঞ্চমাংশ ছোট প্রতিষ্ঠান বলেছে, তারা নতুন স্নাতক নেবে না অথবা আগের চেয়ে কম নেবে। অনেকেই বলছেন, প্রবেশ পর্যায়ের পদগুলোই প্রথমে বন্ধ হয় এবং সবার শেষে খোলে। এই বাস্তবতা তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। অনেকেই দুই শতাধিক আবেদন করেও সাক্ষাৎকার পাচ্ছেন না। কেউ কেউ বলছেন, তারা একশ ছত্রিশটি আনুষ্ঠানিক প্রত্যাখ্যান পেয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, দুর্বল বাজারে কর্মজীবন শুরু করলে সারাজীবনের আয়ে দাগ পড়তে পারে। একে তারা বলেন দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত। শুরুতে কম বেতনে ঢুকলে, পরে সেই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হয়।

এই তিনটি দুর্বলতার পেছনে আরও একটি বড় প্রশ্ন আছে। সেটি হলো বেতন ও মূল্যবৃদ্ধির সম্পর্ক। অক্টোবরে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়ে আটত্রিশ ডলারে পৌঁছেছে। মাসে বেড়েছে শূন্য দশমিক চার শতাংশ। বছরে বেড়েছে তিন দশমিক এক শতাংশ। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে ভোক্তা মূল্য বেড়েছে তিন দশমিক সাত শতাংশ। অর্থাৎ বেতন বাড়লেও বাস্তব ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। বাসা ভাড়া, খাবার, ওষুধ, পরিবহন, সবকিছুর দাম বাড়ছে। এই কারণে অনেক পরিবার বলছে, চাকরি থাকলেও সংসার চালানো আগের চেয়ে কঠিন। ফাস্ট কোম্পানি এবং অন্যান্য বিশ্লেষণে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। মানুষ শুধু চাকরি চায় না, মানুষ চায় এমন চাকরি, যা দিয়ে সম্মান নিয়ে বাঁচা যায়। খণ্ডকালীন কাজে আটকে থাকা মানুষটির জন্য এই হিসাব আরও কঠিন। তার ঘণ্টা কমেছে, তাই তার মাসিক আয় আরও কমেছে।

তাহলে প্রশ্ন হলো, এই অবস্থায় সাধারণ মানুষ কী করবেন। বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রথমত, শুধু পূর্ণকালীন পদের জন্য অপেক্ষা না করে দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া। স্বাস্থ্যসেবা, লজিস্টিকস, কারিগরি কাজ, এসব খাতে এখনো চাহিদা আছে। দ্বিতীয়ত, ছোট প্রতিষ্ঠান, অস্থায়ী কাজ, চুক্তিভিত্তিক কাজকে ছোট করে না দেখা। অনেক সময় অস্থায়ী কাজ থেকেই স্থায়ী কাজের দরজা খোলে। তৃতীয়ত, আবেদনের সংখ্যার চেয়ে আবেদনের মানের দিকে নজর দেওয়া। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা করে জীবনবৃত্তান্ত সাজানো। চতুর্থত, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া। দীর্ঘদিন কাজ না পেলে হতাশা আসা স্বাভাবিক। কিন্তু হাল ছেড়ে দিলে ক্ষতি আরও বাড়ে। পরিবার, বন্ধু, সমাজের সহায়তা নেওয়া জরুরি। পঞ্চমত, সরকারি সহায়তা সম্পর্কে জানা। বেকার ভাতা, খাদ্য সহায়তা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, এসব সম্পর্কে স্থানীয় অফিসে খোঁজ নেওয়া উচিত।

সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্যও এই রিপোর্ট একটি বার্তা দিচ্ছে। চাকরির সংখ্যা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিসেম্বর মাসে সুদের হার বাড়ানোর কথা ভাবতে পারে। বাজারে এখন সেই সম্ভাবনা সাতাত্তর শতাংশ বলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু যদি বেতন মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে কম বাড়ে এবং খণ্ডকালীন কাজ বাড়ে, তাহলে সুদের হার বাড়ানো সাধারণ মানুষের জন্য আরও চাপ তৈরি করবে। ঋণের কিস্তি বাড়বে। বাড়ি কেনা, গাড়ি কেনা, ব্যবসা শুরু করা আরও কঠিন হবে। তাই নীতিনির্ধারকদের শুধু বড় সংখ্যা দেখলে চলবে না। ভেতরের দুর্বলতাগুলো দেখতে হবে। পরের রিপোর্ট আসবে চার ডিসেম্বর। তখন নভেম্বর মাসের চিত্র পাওয়া যাবে। অক্টোবর মাসের মূল্যবৃদ্ধির তথ্য আসবে দশ নভেম্বর। সেই তথ্যগুলো মিলিয়ে বোঝা যাবে, এই দুর্বলতা সাময়িক নাকি দীর্ঘস্থায়ী।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারআমেরিকার বেকারত্বনতুন কর্মসংস্থানখণ্ডকালীন চাকরিপূর্ণকালীন চাকরিদীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বযুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিপ্রবাসী বাংলাদেশিআমেরিকায় চাকরিশ্রমবাজার।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।