শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঠেকানো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৬ রাজনীতিকের চিঠি
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরাকে সামনে রেখে তাঁর নিরাপত্তা, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে কূটনৈতিক উদ্যোগ চেয়েছেন ছয় ব্রিটিশ রাজনীতিক।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরাকে সামনে রেখে তাঁর নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে কূটনৈতিক উদ্যোগ চেয়েছেন ছয় রাজনীতিক। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের কাছে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম কমেন্ট সেন্ট্রালে ৪ নভেম্বর প্রকাশিত এক নিবন্ধে ব্রিটিশ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান এ উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, কয়েকজন সহকর্মী রাজনীতিককে সঙ্গে নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের সঠিক তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। তবে বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজের পক্ষে কথা বলার এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।
৭ নভেম্বর টাইমস অব বাংলাদেশ-এর এক প্রতিবেদনে ছয়জনের নাম প্রকাশ করা হয়। তাঁরা হলেন ব্রিটিশ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান, সাবেক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য চার্লস ট্যানকক, স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য মার্টিন ডে, পল ম্যাকলেনান ও অ্যালান ব্রাউন এবং ব্রিটিশ এমপি সিমাস লোগান।
চিঠিতে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে চারটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রথমত, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার বিষয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা চাইতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে ফিরলে বা আটক হলে তিনি যেন নির্যাতন, গুম, জোরজবরদস্তি কিংবা অন্য কোনো সহিংসতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনা যেন নিজের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি লড়াই চালাতে পারেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় ও সাজা চ্যালেঞ্জ করার কার্যকর সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আটক করা হলে তার আইনি ভিত্তি প্রকাশ এবং আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে।
তৃতীয়ত, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের সহযোগিতায় বিচারপ্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা এবং পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
চতুর্থত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল, সহিংসতার শিকার ব্যক্তি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনার ব্যবস্থা করতে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য রাজনৈতিক প্রতিশোধ, ভয়ভীতি ও সহিংসতা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা।
বব ব্ল্যাকম্যান তাঁর নিবন্ধে আরও বলেছেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদেরও স্বাধীন তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং সহিংসতা উসকে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একইভাবে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন, তাঁদেরও আইনের শাসন ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনকে বাংলাদেশের সরকার, অন্য দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেবে এবং আলোচনার উদ্যোগ কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে লিখিত জবাবও চেয়েছেন তাঁরা।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
বব ব্ল্যাকম্যানের নিবন্ধে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁর ফেরার সময় ও ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত নয়। এ অবস্থায় দেশে ফেরার আগেই নিরাপত্তা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন ওই রাজনীতিকেরা। তবে ছয় রাজনীতিকের এই আহ্বান যুক্তরাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। সরকার তাঁদের দাবি অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।