ব্রেকিং
কানাডার পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব-পাগড়ি পরা যাবে, মানতে হবে যেসব নিয়মপাঁচ রাজ্যে নতুন আইন কর্মকর্তা, পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আসতে পারে পরিবর্তন২০৩২ সালের মধ্যে বয়স্কদের মাসিক ভাতার টাকা ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কাপল্লবী থানাপ্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণ, দায়িত্ব পালনকালে আহত এসআরবির এক সদস্যঢাবিতে ককটেল বিস্ফোরণের ধারাবাহিকতা, ছয় স্থানে আতঙ্ক আটক ২

বেতন বাড়ানোর অপেক্ষায় লাখো শ্রমিক, কাল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে মজুরি বোর্ড

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে আন্দোলনের পর অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন ফিরেছে, তবে ৯ নভেম্বরের বৈঠকের আগে বেতনের অঙ্ক অনিশ্চিত।

বেতন বাড়ানোর অপেক্ষায় লাখো শ্রমিক, কাল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে মজুরি বোর্ড
বেতন বাড়ানোর অপেক্ষায় লাখো শ্রমিক, কাল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে মজুরি বোর্ড

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিকের বেতন বাড়ানোর দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি। তবে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় বৈঠক আগামীকাল ৯ নভেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

৮ নভেম্বর রোববার রাত পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক ও মালিকপক্ষ নিজেদের প্রস্তাব তৈরির কাজ করছে। আগামীকালের বৈঠকে উভয় পক্ষের প্রস্তাব জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন সর্বনিম্ন বেতন কত হবে, তা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

অন্যদিকে কয়েক দিনের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। সাভার ও গাজীপুরের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে ফিরেছেন। উৎপাদনও শুরু হয়েছে। তবে সব জায়গায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন প্রায় ৪০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। কারখানার মালিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমিকেরা কারখানায় উপস্থিত হলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এসব কারখানার অধিকাংশই সাভার এলাকায় অবস্থিত। ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ কারখানায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি।

এদিকে কিছু কারখানার মালিক শ্রমিকদের কাজে যোগ না দিলে ওই দিনের মজুরি না দেওয়ার নীতিসহ ১১ দফা প্রস্তাব সামনে এনেছেন। তবে এটি মালিকপক্ষের একটি অংশের প্রস্তাব, সরকারের গৃহীত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এই প্রস্তাব শ্রমিকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রমিকদের মূল দাবি হচ্ছে, বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খাবার, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ সামলাতে গিয়ে প্রতি মাসেই আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে।

বর্তমান বেতন থেকে ৩০ হাজার টাকা করা হলে একজন শ্রমিকের মাসিক আয় বাড়বে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমান ন্যূনতম বেতনের তুলনায় প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। শ্রমিকদের মতে, কয়েক বছর আগের বাজারদরের ভিত্তিতে নির্ধারিত বেতন দিয়ে বর্তমান সময়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়।

ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক পোশাকশ্রমিক বসবাস করেন। তাঁদের অধিকাংশই সীমিত আয়ের মানুষ। একজন শ্রমিকের আয়ের ওপর অনেক ক্ষেত্রে পুরো পরিবারের জীবনযাত্রা নির্ভর করে। বাড়িভাড়া পরিশোধের পর খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে হাতে খুব বেশি টাকা থাকে না।

বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অনেকেই সন্তানদের নিয়ে ছোট বাসায় বসবাস করেন। মাসের শুরুতেই বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির বিল দিতে হয়। এরপর চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস ও সবজি কেনার খরচ রয়েছে। অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে গত অক্টোবরের শেষ দিক থেকে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের অসন্তোষ বাড়তে শুরু করে। প্রথমে গাজীপুরের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ দেখা গেলেও পরে ঢাকার মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

নভেম্বরের প্রথম দিন থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকেরা বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা ব্যবহার করে। কোথাও কারখানা ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

রয়টার্সের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আন্দোলনের কারণে একদিনে ৫২৯টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় ছিলেন। পরদিন ২ নভেম্বর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। নতুন করে শত শত কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এই অস্থিরতার মধ্যে সরকার ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন। বোর্ডের দায়িত্ব হচ্ছে পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের জন্য শ্রমিক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নিয়ে সুপারিশ তৈরি করা।

বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সৈয়দ আজাদ সুবহানি। শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম শামসুদ্দিন ও আসিফ আয়ুব। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোশলেহ উদ্দিন আহমদ।

৪ নভেম্বর বুধবার বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষ একমত হন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বর মাসের বর্ধিত বেতন জানুয়ারি মাসে পরিশোধ করার কথা।

তবে প্রথম বৈঠকে বেতন বৃদ্ধির নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য তাঁদের লিখিত প্রস্তাব তৈরি করে পরবর্তী বৈঠকে জমা দেওয়া হবে।

৪ নভেম্বরের বৈঠকের পর শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আক্তার জানান, নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনের মতামত বিবেচনা করা হবে। তিনি শ্রমিক সংগঠনগুলোকে একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানান।

অন্যদিকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও নিজেদের প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, বেতন বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করার সময় কারখানার উৎপাদন খরচ, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং ব্যবসার আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রাখতে হবে।

৮ নভেম্বরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগামী ৯ নভেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উভয় পক্ষ নিজেদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন জানিয়েছেন, তাঁরা প্রস্তাব তৈরির কাজ করছেন। তবে বৈঠকে লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করেননি।

এদিকে ৮ নভেম্বর দুপুরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর ও সাভারের অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা কাজে ফিরেছেন। কনাবাড়ী, শ্রীপুর, শফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, টঙ্গী, সালনা ও অন্যান্য এলাকায় কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

তবে সাভারের জামগড়া ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকদের বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। গাজীপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ ঘটনায় তৌফিক হোসেন নামে এক পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টিও সামনে এসেছে। আন্দোলনের সময় সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

শ্রমিক আন্দোলনের সময় বিভিন্ন স্থানে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের সদস্য, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষও সংঘর্ষের শিকার হয়েছেন। কয়েকটি ঘটনায় গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আটক শ্রমিকদের আইনি সহায়তা এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে পোশাক কারখানার মালিকদের উদ্বেগও বাড়ছে। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে নতুন ক্রয়াদেশ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণও এই শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। এইচঅ্যান্ডএম, জারা এবং ওয়ালমার্টের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পোশাক কারখানা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে। তাই শ্রমিক অসন্তোষের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

৪ নভেম্বর রয়টার্সকে এইচঅ্যান্ডএম জানিয়েছিল, তাদের সরবরাহকারী কয়েকটি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও তখন পর্যন্ত বড় ধরনের সরবরাহ সংকট দেখা দেয়নি। তবে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতের ক্রয়াদেশ ও পণ্য সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পোশাকশিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি। শুধু কম বেতনের শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সেলিম রায়হান রয়টার্সকে বলেছেন, কারখানাগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধির পরও বাংলাদেশের পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে। তাঁর মতে, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং কারখানার আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এদিকে ৬ নভেম্বর প্রকাশিত ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যও উঠে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মজুরি বোর্ড আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করবে, যাতে তাঁরা আরও ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।

শ্রমিকদের দাবি, শুধু নামমাত্র বেতন বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁদের প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত বেতন নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত বেতন পরিশোধ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চাকরির নিশ্চয়তা এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যদিকে মালিকপক্ষের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে হলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, পরিবহন ও কাঁচামালের ব্যয় বাড়ায় কারখানাগুলো আগে থেকেই চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এমন হতে হবে, যাতে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কারখানাগুলোও সচল থাকে।

সব মিলিয়ে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি আগের তুলনায় শান্ত হলেও শ্রমিকদের বেতন নিয়ে মূল বিরোধের সমাধান হয়নি। অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়া স্বস্তির খবর হলেও প্রায় ৪০টি কারখানায় নতুন করে উৎপাদন বন্ধের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে অসন্তোষ পুরোপুরি দূর হয়নি।

এখন সবার নজর ৯ নভেম্বর সোমবারের মজুরি বোর্ডের বৈঠকের দিকে। শ্রমিকপক্ষ ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে কতটা অনড় থাকে এবং মালিকপক্ষ কত টাকার প্রস্তাব দেয়, তা আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

তবে আগামীকালের বৈঠকেই চূড়ান্ত বেতন ঘোষণা হবে, এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

বাংলাদেশের লাখ লাখ পোশাকশ্রমিক এখন অপেক্ষা করছেন এমন একটি সিদ্ধান্তের, যা তাঁদের পরিবারের খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা নিশ্চয়তা দিতে পারে। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন বেতন কাঠামো শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব জীবনেও স্বস্তি নিয়ে আসবে।


ট্যাগ: পোশাকশ্রমিকবেতন বৃদ্ধি৩০ হাজার টাকা বেতনশ্রমিক আন্দোলনমজুরি বোর্ডবাংলাদেশ পোশাকশিল্পসাভারআশুলিয়াগাজীপুরশ্রমিক অধিকারতৈরি পোশাক রপ্তানিবাংলাদেশ অর্থনীতি।

প্রতিবেদক

Ayasha Shiddika

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।