উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে নিউইয়র্কে, গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শামীম এখন নিউইয়র্কের কিংস কাউন্টি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শামীম। দুর্ঘটনার পর তাঁকে ফেলে গাড়িচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কিংস কাউন্টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাংলা আওয়ারের ৭ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শামীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক শিক্ষার্থী। ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়ে হাজার মাইল দূরে গেলেও আকস্মিক এই ঘটনায় তাঁর জীবন এখন সংকটের মুখে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সাইকেল চালিয়ে নিজের গন্তব্যে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর গাড়িচালক আহত শিক্ষার্থীকে সহায়তা না করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শামীমের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
এই ঘটনার আরেকটি বেদনাদায়ক দিক হলো, শামীম যুক্তরাষ্ট্রে একাই বসবাস করেন। দুর্ঘটনার সময় কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর পাশে পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা দূর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার খবর জানার চেষ্টা করছেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনা করছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর শামীম তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ানকে ফোন করে দুর্ঘটনার কথা জানান। খবর পাওয়ার পরপরই অ্যাটর্নি হাসপাতালে ছুটে যান এবং আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন।
অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ান জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এটি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো বর্ণবৈষম্যজনিত উদ্দেশ্য ছিল, সেটিও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ঘটনাটিক কেন্দ্র করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। কেন গাড়িচালক আহত ব্যক্তিকে সহায়তা না করে ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলেন? দুর্ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল? চালকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না? আর এর পেছনে কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনাটিকে নিশ্চিত বর্ণবৈষম্যজনিত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরিবার, পরিচিতজন ও স্বজনদের কাছ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করে তাঁদের পড়াশোনা, কাজ ও দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে গুরুতর দুর্ঘটনা কিংবা অপরাধের শিকার হলে তা সামাল দেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
মেহেদী হাসান শামীমের ঘটনা নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, গাড়িচালকের পরিচয় শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রত্যাশা, চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় শামীম দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। উচ্চশিক্ষার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, সেই স্বপ্ন যেন এই দুর্ঘটনায় থেমে না যায়।
বাংলা আওয়ারের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।



মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।