২০৩২ সালের মধ্যে বয়স্কদের মাসিক ভাতার টাকা ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রে অবসর ভাতা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে অবসর ভাতার তহবিলের টাকা শেষ হয়ে যেতে পারে। এতে লাখ লাখ মানুষের মাসিক ভাতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অবসর ভাতা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০৩২ সালের শেষ দিকে অবসর ভাতা দেওয়ার জন্য রাখা সরকারি তহবিলের টাকা শেষ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে যে পরিমাণ টাকা পান, তার পুরোটা আর নাও পেতে পারেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তখন নিয়মিত আয় থেকে নির্ধারিত ভাতার মাত্র ৭৮ শতাংশ দেওয়ার মতো অর্থ থাকবে। অর্থাৎ কোনো পরিবর্তন না হলে অবসর ভাতা প্রায় ২২ শতাংশ কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা দপ্তরের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। ৯ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অবসর ও মৃত কর্মীদের পরিবারের জন্য ভাতা দেওয়ার তহবিলের জমা টাকা ২০৩২ সালের শেষ তিন মাসে শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ওই সময় থেকে ভাতা দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। কর্মীদের বেতন থেকে আদায় করা করসহ সরকারের নিয়মিত আয় দিয়ে ভাতার একটি অংশ দেওয়া সম্ভব হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ অবসরপ্রাপ্ত মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং মৃত কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পান। কর্মজীবনে মানুষের বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর আদায় করে এই কর্মসূচির অর্থ জোগাড় করা হয়। পরে অবসরে যাওয়া মানুষ এবং যোগ্য পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত অর্থ দেওয়া হয়।
অবসর ও পরিবারের ভাতার তহবিল এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতার তহবিল একসঙ্গে হিসাব করলে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত সব নির্ধারিত ভাতা দেওয়ার মতো অর্থ থাকতে পারে। এরপর নতুন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নির্ধারিত ভাতার প্রায় ৮৩ শতাংশ দেওয়ার মতো অর্থ থাকবে।
এই আর্থিক সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। ফলে অবসর নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ভাতা দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে নতুন কর্মীর সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় বেতন থেকে কর আদায়ের পরিমাণও চাপে পড়ছে। ফলে কর্মসূচির আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে।
এ অবস্থায় তহবিলের অর্থ শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। কংগ্রেস নতুন আইন করে করের পরিমাণ, সরকারি অর্থের ব্যবস্থা কিংবা ভাতা দেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনতে পারে।
তবে ২০৩২ সালে ভাতা কমবেই, এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারা এর আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তাই আগামী কয়েক বছরে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।