সেরা ১০ কৌতুকশিল্পীর তালিকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উসাম
৯,৬৫৭ বার পড়া হয়েছে ৮ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদনজগতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য নতুন একটি গর্বের খবর এসেছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান কৌতুকশিল্পী উসামা সিদ্দিকী যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী বিনোদনবিষয়ক সাময়িকী ভ্যারাইটির ২০২৬ সালের ‘টেন কমিকস টু ওয়াচ’ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। আগামী দিনে যেসব কৌতুকশিল্পী যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদনজগতে বড় পরিচিতি তৈরি করতে পারেন, তাঁদের মধ্য থেকে নির্বাচিত দশজনের একজন হিসেবে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। ৪ নভেম্বর তালিকাটি প্রকাশিত হয়। এই স্বীকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনপ্রিয় মার্কিন কৌতুকশিল্পী হাসান মিনহাজের প্রশংসা। ফলে উসামার এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষের জন্যও আনন্দের খবর হয়ে উঠেছে। এই স্বীকৃতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, উসামার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন হাসান মিনহাজ। তিনি উসামার কাজের সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে পরিচিত। তাঁর মতে, উসামা এমন একজন শিল্পী, যিনি ছোট ছোট মঞ্চে অনুষ্ঠান দিয়ে নিজের যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং ধীরে ধীরে বড় মঞ্চে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। শুধু পরিচিতি কিংবা ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘদিন ধরে কাজের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন।
হাসান মিনহাজ তাঁর প্রশংসায় উসামার আত্মবিশ্বাস, মঞ্চে উপস্থিতি, দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতা এবং অভিনয়শৈলীর কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, উসামার এই পর্যায়ে পৌঁছানো কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বহু বছরের অনুশীলন, পরিশ্রম এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। হাসানের এই প্রশংসা তালিকায় উসামার অন্তর্ভুক্তিকে আরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
উসামার ক্যারিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী কেভিন হার্টের উপস্থাপনায় নেটফ্লিক্সের কৌতুক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘ফানি এএফ’-এ অংশগ্রহণ। এই অনুষ্ঠানে তিনি দর্শকদের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেন। হাসান মিনহাজ ওই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান, অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত পর্বের ধারণ করার সময় উসামা মঞ্চে ওঠার আগেই দর্শকেরা তাঁর নাম ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন। দর্শকদের এমন প্রতিক্রিয়া তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। হাসান আরও স্মরণ করেছেন, নিউইয়র্কের ভিলেজ আন্ডারগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠানটির সরাসরি ধারণের সময় কেভিন হার্ট উসামাকে বিজয়ীর স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে উসামার সাফল্যকে কেবল একটি অনুষ্ঠানের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এর আগে থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৌতুকমঞ্চে কাজ করছিলেন এবং নিজের অভিনয় ও রসিকতার ধরন তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার গণমাধ্যম ডব্লিউএলআরএন গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উসামার জীবন ও ক্যারিয়ারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বেড়ে ওঠা টেক্সাসের প্লানো শহরে। চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করে চিকিৎসক হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। এমনকি টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিজের জীবনের লক্ষ্য পরিবর্তন করে কৌতুকশিল্পী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিবারের প্রত্যাশা ও নিজের স্বপ্নের মধ্যে তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। তাঁর বাবা-মা প্রথমদিকে এই পেশা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না। কারণ তাঁদের প্রত্যাশা ছিল ছেলে পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলী হবেন। কিন্তু উসামা নিজের পছন্দের পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
ডব্লিউএলআরএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসক হওয়ার পরিকল্পনা ছেড়ে কৌতুকশিল্পী হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে তিনি নিউইয়র্কে দীর্ঘ ১২ বছর কাজ করেছেন। এই সময়ে ছোট মঞ্চে অনুষ্ঠান করা, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া বোঝা, নিজের রসিকতার ধরন উন্নত করা এবং অভিনয়ের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শুরুতে পরিবারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পেলেও সময়ের সঙ্গে তাঁর কাজের স্বীকৃতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর পরিবারও তাঁর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে শুরু করে। উসামার কৌতুক পরিবেশনার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাকে হাস্যরসের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠা, বাবা-মায়ের প্রত্যাশা, পড়াশোনা নিয়ে পারিবারিক চাপ, সম্পর্ক, ভ্রমণ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনা তাঁর পরিবেশনার বিষয় হয়ে ওঠে। তাঁর রসিকতার মধ্যে শুধু হাসির উপাদান থাকে না, বরং বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের অভিন্ন অভিজ্ঞতাও ফুটে ওঠে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় পরিবারে সন্তানদের চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা ভালো পেশায় প্রতিষ্ঠিত করার যে প্রত্যাশা দেখা যায়, সেটিকে তিনি হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা শুধু বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন দেশের অভিবাসী পরিবারেও একই ধরনের প্রত্যাশা ও পারিবারিক চাপ দেখা যায়। ফলে তাঁর পরিবেশনা বিভিন্ন দেশের দর্শকের কাছেও পরিচিত ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
উসামার এই বৈশিষ্ট্য তাঁকে অন্য অনেক কৌতুকশিল্পীর কাছ থেকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তিনি শারীরিক অঙ্গভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি এবং দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে দর্শকদের হাসানোর চেষ্টা করেন। নিজের সংস্কৃতি ও পারিবারিক অভিজ্ঞতাকে তিনি এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষও বিষয়গুলোর সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পান। তাঁর পরিবেশনার এই ধরনই তাঁকে বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত করেছে। নেটফ্লিক্সের ‘ফানি এএফ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তাঁর ক্যারিয়ারে আরও বড় পরিবর্তন আসে। ডব্লিউএলআরএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উসামা নিজেই জানিয়েছেন, কেভিন হার্টের অনুষ্ঠান তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। এর আগে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান কৌতুকশিল্পী হিসেবে পরিবেশনা করলেও দর্শকদের কাছে টিকিট বিক্রি করতে সমস্যায় পড়তেন। কিন্তু ওই অনুষ্ঠানে পরিচিতি পাওয়ার পর তাঁর পরিবেশনার টিকিট বিক্রি বেড়ে যায় এবং অনেক অনুষ্ঠান পূর্ণ দর্শকে অনুষ্ঠিত হতে থাকে।
কৌতুক পরিবেশনার পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন উসামা। নেটফ্লিক্সের ‘সারভাইভাল অব দ্য থিকেস্ট’ এবং ‘ইনভেন্টিং আনা’সহ বিভিন্ন প্রযোজনায় তাঁকে দেখা গেছে। এইচবিওর ‘অ্যান্ড জাস্ট লাইক দ্যাট’ এবং কমেডি সেন্ট্রালের ‘আওয়াকওয়াফিনা ইজ নোরা ফ্রম কুইন্স’ নামের ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন তিনি। ফলে তাঁর কাজ শুধু মঞ্চের কৌতুক পরিবেশনায় সীমাবদ্ধ নেই; টেলিভিশন ও অভিনয়জগতেও তিনি নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন।
চলতি বছরের ভ্যারাইটি তালিকায় উসামার পাশাপাশি আরও নয়জন কৌতুকশিল্পীর নাম রয়েছে। তাঁরা হলেন ওয়ালি বারাম, অলিভিয়া কার্টার, অ্যারন চেন, অ্যাডাম ফ্রিডল্যান্ড, কাইল গর্ডন, শ্যাপেল লেসি, এলিস প্যাটন, জশ ওশান থমাস এবং লুকাস জেলনিক। এই দশজনকে একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে তাঁদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। অর্থাৎ এটি কোনো প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল বা ক্রমানুসারে তৈরি সেরা দশের তালিকা নয়; বরং ভবিষ্যতে আলোচনায় আসতে পারেন এমন প্রতিশ্রুতিশীল কৌতুকশিল্পীদের পরিচিত করে দেওয়ার উদ্যোগ। ভ্যারাইটি ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর এই উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই তালিকার মাধ্যমে এমন অনেক শিল্পীকে সামনে আনা হয়েছে, যাঁরা পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদনজগতে বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। অতীতে এই তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন জ্যাক গ্যালিফিয়ানাকিস, মারিয়া ব্যামফোর্ড, প্যাটন অসওয়াল্ট, নেট বার্গাটজি এবং নিকি গ্লেসারের মতো পরিচিত কৌতুকশিল্পীরা। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেকেই বড় দর্শকগোষ্ঠী অর্জন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক বিনোদনজগতে পরিচিতি পেয়েছেন।
এই ইতিহাসের কারণে ২০২৬ সালের তালিকায় জায়গা পাওয়াকে উসামার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই স্বীকৃতি মানেই তিনি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পীদের একজন হয়ে গেছেন, এমন দাবি করা ঠিক হবে না। বরং এটি তাঁর কাজের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পরিচিত হওয়ার একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ। এই স্বীকৃতির পর উসামার জন্য সামনে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। আগামী ১২ নভেম্বর নিউইয়র্ক কমেডি উৎসবের অংশ হিসেবে ভ্যারাইটির নির্বাচিত দশ কৌতুকশিল্পীকে নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের কাছে অবস্থিত হার্ড রক হোটেল নিউইয়র্কের দ্য ভেন্যু অন মিউজিক রোতে। আয়োজকদের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।
এবারের আয়োজনটি নিউইয়র্ক কমেডি উৎসবের জন্যও বিশেষ। কারণ প্রথমবারের মতো ভ্যারাইটির এই নির্বাচিত কৌতুকশিল্পীদের বিশেষ পরিবেশনা উৎসবের আনুষ্ঠানিক আয়োজনের অংশ হয়েছে। ১২ নভেম্বরের অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিল্পীরা সরাসরি দর্শকদের সামনে নিজেদের কৌতুক পরিবেশন করবেন। ফলে উসামার জন্য এটি শুধু পুরস্কার বা স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদনজগতের গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চে নিজের কাজ আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর সামনে তুলে ধরার সুযোগ। নিউইয়র্ক কমেডি উৎসবের আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের উৎসব ৬ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে পাঁচটি এলাকায় শতাধিক অনুষ্ঠান এবং দুই শতাধিক কৌতুকশিল্পীর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎসবের বিভিন্ন পরিবেশনায় নতুন ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পীরা অংশ নেবেন। সেই আয়োজনের মধ্যে ভ্যারাইটির নির্বাচিত দশ শিল্পীর বিশেষ অনুষ্ঠানটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছে উসামার এই অর্জনের আরেকটি তাৎপর্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের অনেকেই বিভিন্ন পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন। কেউ প্রযুক্তি, কেউ চিকিৎসা, কেউ ব্যবসা, আবার কেউ শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করছেন। উসামার গল্প তাঁদের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে যে, প্রচলিত পেশাগত প্রত্যাশার বাইরে গিয়েও নিজের আগ্রহ ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
বিশেষ করে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জীবনে নিজের পছন্দের পেশা বেছে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের প্রত্যাশা, সামাজিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার চিন্তা অনেককে নিজের স্বপ্ন থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। উসামার জীবনের গল্পে সেই বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে। চিকিৎসক হওয়ার প্রস্তুতি থেকে কৌতুকশিল্পী হওয়ার সিদ্ধান্ত, দীর্ঘ ১২ বছরের পরিশ্রম এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি অর্জনের যাত্রা তাঁর অধ্যবসায়ের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
তবে এই অর্জনকে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ের গর্ব হিসেবে দেখলে উসামার কাজের ব্যাপ্তি পুরোপুরি বোঝা যাবে না। তিনি বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের অভিজ্ঞতাকে নিজের পরিবেশনার অংশ করেছেন। অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জীবন, বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সমাজের নানা বাস্তবতা নিয়ে তাঁর কৌতুক বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এই সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার বিনিময়ই তাঁকে বৃহত্তর দর্শকদের সঙ্গে সংযুক্ত করছে।
মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।