নিউ জার্সির রুটি-কেকের দোকান থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করল আইসিই
নিউ জার্সির একটি বেকারির ভেতরে অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা। ঘটনাটি নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি বেকারির ভেতরে অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) সদস্যরা। বুধবার, ৪ নভেম্বর ইউনিয়ন সিটির ৪৮ নম্বর সড়কে অবস্থিত লা গ্রান ভিয়া নামের একটি বেকারিতে এ ঘটনা ঘটে। ক্রেতাদের সামনেই ওই ব্যক্তিকে আটক করার দৃশ্য নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
ওই ব্যক্তি বেকারিতে প্রবেশ করার কয়েক সেকেন্ড পর আইসিইর সদস্যরা তাঁর পেছনে গিয়ে ভেতরে ঢোকেন। এরপর তাঁকে ধাওয়া করে আটক করা হয়। অভিযানে চারজন কর্মকর্তা সরাসরি অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগের মুখ ঢাকা ছিল।
নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে তাঁকে বেকারি থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি দুই মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে শেষ হয়।
আইসিইর দাবি, আটক ব্যক্তি হন্ডুরাসের নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন কাগজপত্র ছাড়া বসবাস করছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ বা আগের অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আটকের পর ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন মানুষ কর্মকর্তাদের পেছনে পেছনে বাইরে আসেন। তাঁদের মধ্যে একজন নারী আটক ব্যক্তির কাছে তাঁর ফোন নম্বর জানতে চান, যাতে তাঁর স্ত্রীকে খবর দিতে পারেন। ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে এলাকার হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন কর্মী জানিয়েছেন, অভিবাসন কর্মকর্তাদের এমন অভিযান নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। কেউ কেউ সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন।
নিউ জার্সিতে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ক্লিফটন ও কিয়ার্নি এলাকায় আইসিইর পৃথক অভিযানে একাধিক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনাও সামনে এসেছিল। এসব ঘটনার পর অভিবাসী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে এবারের বেকারির ঘটনাটি আগের অভিযানগুলোর অংশ কি না, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে আটক ব্যক্তির পরবর্তী অবস্থা, তাঁকে কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য এ ধরনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে কর্মস্থল, দোকান কিংবা জনসমাগমের জায়গায় অভিযান হলে আশপাশের মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে, আটক ব্যক্তির পরিচয় ও অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থার বিষয়ে আইসিইর বক্তব্য পাওয়া গেলেও তাঁর অপরাধের ইতিহাস সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই এ বিষয়ে অনুমান না করে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করা জরুরি।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।