নিউইয়র্কে ৯ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি, সহায়তায় মাঠে নামছে মামদানি প্রশাসন
নতুন ফেডারেল নিয়মে নিউইয়র্কে লাখো মানুষের মেডিকেইড হারানোর আশঙ্কা। স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখতে বাসিন্দাদের সহায়তায় ৩০ লাখ ডলারের কর্মসূচি চালু করেছে নগর প্রশাসন।
নিউইয়র্ক নগরীতে স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। নতুন ফেডারেল নিয়ম কার্যকর হলে অঙ্গরাজ্যটির প্রায় ৯ লাখ মানুষ মেডিকেইড স্বাস্থ্যসেবা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন।
গত ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কের মেয়র কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ঘোষণায় জানানো হয়, নতুন এই উদ্যোগের নাম হেলথ অ্যান্ড অ্যাফোর্ডেবিলিটি রিসোর্স টিম (হার্ট)। কর্মসূচিটি পরিচালনায় ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যবিমায় নিবন্ধন, বিদ্যমান বিমা চালু রাখা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধা পেতে সহায়তা করা হবে।
নতুন নিয়মের কারণে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, অভিবাসী পরিবার, বয়স্ক ব্যক্তি এবং নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন বাসিন্দারা সমস্যায় পড়তে পারেন।
নতুন ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী, ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নির্দিষ্ট কিছু মেডিকেইড গ্রহীতাকে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ অথবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকার প্রমাণ দিতে হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে।
নিউইয়র্ক নগরীর স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে। বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য তা কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ মার্চ ২০২৭।
নিউইয়র্কে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি পরিবার চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভর করেন। নতুন নিয়ম সম্পর্কে না জানলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে দেরি হতে পারে এবং স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
নগর প্রশাসনের নতুন কর্মসূচিতে ১৩টি ভাষায় কথা বলতে সক্ষম প্রশিক্ষিত কর্মী রয়েছেন। তাঁরা বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যবিমা ছাড়াও খাদ্য সহায়তা, হাসপাতালের বিল কমানোর সুযোগ, আবাসন সহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধা পেতে সহযোগিতা করবেন।
তবে মনে রাখতে হবে, ৯ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিমা হারিয়েছেন—বিষয়টি এমন নয়। এটি নতুন নিয়মের কারণে ঝুঁকিতে থাকা সম্ভাব্য মানুষের সংখ্যা।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।