নিজের কষ্ট ভুলে গৃহহীনদের পাশে নিউইয়র্কের সাবেক গৃহহীনরা, বদলে দিচ্ছেন অন্যদের জীবন
একসময় নিজেরাই ছিলেন গৃহহীন। আজ তাঁরাই রাস্তায় থাকা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন জীবনের আশার আলো দেখাচ্ছেন।
নিউইয়র্কের রাস্তায় একসময় যাঁদের রাত কাটত, যাঁরা নিজেরাই খাবার, নিরাপদ আশ্রয় ও একটি স্থায়ী ঠিকানার জন্য সংগ্রাম করেছেন, আজ তাঁরাই অন্য গৃহহীন মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। নিজেদের কঠিন অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কয়েকজন সাবেক গৃহহীন ব্যক্তি।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে পরিচালিত হচ্ছে ‘নেইবারহুড নেভিগেটরস’ নামের একটি বিশেষ কর্মসূচি। এই উদ্যোগে এমন কর্মীদের যুক্ত করা হয়েছে, যাঁরা নিজেরাও জীবনের কোনো এক পর্যায়ে গৃহহীনতা, কারাবাস কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছেন।
কর্মসূচির অন্যতম কর্মী ফেলিপে রামোস। একসময় গৃহহীনতার অভিজ্ঞতা থাকা এই ব্যক্তি এখন প্রতিদিন ম্যানহাটনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে রাস্তায় বসবাসকারী মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে নেওয়া, চিকিৎসা পাওয়া এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেন।
এই কর্মসূচির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এখানে শুধু পরামর্শ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা হয় না। প্রয়োজন হলে কর্মীরা একজন মানুষের সঙ্গে পুরো দিন কাটান। সরকারি সুবিধা পাওয়ার আবেদন, চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কিংবা আবাসনের ব্যবস্থা—প্রতিটি ধাপে পাশে থাকেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১৭৫ জনের বেশি মানুষকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি প্রশাসন কর্মসূচিটির জন্য ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।
একটি ঘটনায় ৫৮ বছর বয়সী হারলেমের এক ব্যক্তির সরকারি ভাতা পুনরায় চালু করতে কর্মীরা সারাদিন তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবস্থান করেন। অন্যদিকে, লোয়ার ম্যানহাটনের ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে তিন সপ্তাহেরও কম সময়ে সহায়ক আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। তাঁর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হয়।
এই কর্মসূচি বর্তমানে সেন্ট্রাল ও ইস্ট হারলেম, চায়নাটাউন, লোয়ার ইস্ট সাইড, ওয়াশিংটন হাইটস, ইনউড, মিডটাউন ওয়েস্ট, হেলস কিচেন ও চেলসি এলাকায় কাজ করছে।
তবে সমস্যার ব্যাপ্তিও বড়। চলতি বছর নিউইয়র্কের পার্ক, সাবওয়ে স্টেশন ও রাস্তায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ রাত কাটিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা।
নিউইয়র্কের এই উদ্যোগের মূল শিক্ষা হলো, যাঁরা নিজেরা একই ধরনের কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁরা অনেক সময় অসহায় মানুষের পরিস্থিতি অন্যদের তুলনায় ভালোভাবে বুঝতে পারেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও আন্তরিক সহযোগিতা অনেক মানুষের জীবনে নতুনভাবে বেঁচে থাকার সাহস জোগাচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—একটি শহরকে মানবিক করে তুলতে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বিপদে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোও প্রয়োজন।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।