যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য সহায়তা কমেছে ৫৫ লাখ মানুষের, চাপে নিম্ন আয়ের পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে এক বছরে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ কমেছে। নতুন যোগ্যতার শর্ত ও কাজের নিয়মে সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশটির কৃষি বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে সুবিধা পাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ কমেছে। এই হ্রাস প্রায় ১৩ শতাংশ। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, কর্মসূচিটির আওতায় সুবিধা পাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬১ লাখে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই কর্মসূচি সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নামে পরিচিত। এর আওতায় যোগ্য নিম্ন আয়ের ব্যক্তি ও পরিবারকে খাবার কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সাধারণত বিশেষ ইলেকট্রনিক কার্ডের মাধ্যমে এই সহায়তা ব্যবহার করা যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কেনার খরচ সামলাতে অনেক পরিবার এই সহায়তার ওপর নির্ভর করে।
খাদ্য সহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা কমার পেছনে ২০২৫ সালে পাস হওয়া নতুন কর ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত আইনের পরিবর্তনগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আলোচনায় এসেছে। নতুন আইনে কিছু সুবিধাভোগীর জন্য কাজসংক্রান্ত শর্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আগের ছাড় সীমিত করা হয়েছে এবং কিছু শ্রেণির অভিবাসীর জন্য যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়স ও পরিস্থিতির আওতায় থাকা কিছু প্রাপ্তবয়স্ককে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা অথবা অনুমোদিত প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার শর্ত পূরণ করতে হতে পারে। শর্ত পূরণ না করলে নির্দিষ্ট সময়ের পর খাদ্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। তবে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ব্যক্তির বয়স, পারিবারিক অবস্থা, যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য ছাড়ের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।
সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে খাদ্য সহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা কমার চিত্র উঠে এসেছে। অ্যারিজোনা, টেক্সাস ও ফ্লোরিডাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমেছে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে পরিবর্তনের হার আলাদা এবং কিছু তথ্য পরবর্তী সময়ে সংশোধিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু কাজের শর্ত বা যোগ্যতার পরিবর্তন দিয়েই এই হ্রাসের সব কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না। আবেদন নবায়নের সময় অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া, আয় ও ব্যয়ের তথ্য যাচাই, প্রশাসনিক জটিলতা এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের মতো বিষয়ও যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। ফলে কেউ কেউ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সময়মতো সহায়তা নাও পেতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে শিশুদের ওপর প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত তথ্য পাওয়া ২৮টি অঙ্গরাজ্যে খাদ্য সহায়তা পাওয়া শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ কমেছে। তবে সব অঙ্গরাজ্যের শিশুদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য একই সময়ের জন্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়া মানেই মানুষের খাদ্যের প্রয়োজন কমেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে, কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া প্রত্যেক ব্যক্তি নতুন আইনের কারণেই বাদ পড়েছেন, এমন দাবিও নিশ্চিতভাবে করা যায় না। যোগ্যতার পরিবর্তন, ব্যক্তিগত আয়ের পরিস্থিতি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসহ একাধিক বিষয় এখানে ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ নিয়মিতভাবে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা ও সরকারি ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সংস্থা অঙ্গরাজ্যভিত্তিক পরিবর্তন তুলে ধরছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, খাদ্য সহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা কমার প্রবণতা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।