পুরস্কার জেতার মিথ্যা প্রলোভনে বৃদ্ধার ২৫ হাজার ডলার নেওয়ার অভিযোগে বিমানবালা গ্রেপ্তার
পুরস্কার জেতার মিথ্যা আশ্বাসে ফ্লোরিডার এক বৃদ্ধার অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার বিমানবালা; তদন্তকারীদের হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ডলার।
পুরস্কার জেতার মিথ্যা প্রলোভনে বৃদ্ধার ২৫ হাজার ডলার নেওয়ার অভিযোগে বিমানবালা গ্রেপ্তার
৯,৬৬১ বার পড়া হয়েছে ৮ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পুরস্কার জেতার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এক প্রবীণ নারীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ডেসটিনি ব্লেক নামের ২৪ বছর বয়সী এক বিমানবালা। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় বিমান সংস্থায় কর্মরত ছিলেন এবং চাকরির সুবাদে পাওয়া ভ্রমণসুবিধা ব্যবহার করে নিউইয়র্ক থেকে ফ্লোরিডায় গিয়ে ওই নারীর বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন। পরে ওই নারীর অর্থ ও ঋণপত্র ব্যবহার করে কেনাকাটার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ৩১০ ডলার। ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফ্ল্যাগলার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এলাকার বাসিন্দা ব্লেককে ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর শুক্রবার রাতে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁর বিরুদ্ধে ফ্ল্যাগলার কাউন্টিতে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে আটক করেন। তিনি বিদেশ থেকে একটি উড়োজাহাজে করে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে মায়ামি-ডেড কাউন্টির কারাগারে নেওয়া হয়। নির্ধারিত ৩০ হাজার ডলার জামিনে মুক্তি পাওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়া মানে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো বাকি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। তখন ৭৫ বছর বয়সী ওই নারী একটি ফোনকল পান। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পাবলিশার্স ক্লিয়ারিং হাউসের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁকে জানানো হয়, তিনি একটি পুরস্কার জিতেছেন। কিন্তু সেই পুরস্কার হাতে পেতে হলে আগে কিছু অর্থ পাঠাতে হবে বলে জানানো হয়। এরপর তাঁকে ৫০০ ডলারের একটি উপহার কার্ড কিনে সেটি ডেসটিনি ব্লেক নামের এক ব্যক্তির কাছে ব্রুকলিনের একটি ঠিকানায় পাঠাতে বলা হয়। পুরস্কার পাওয়ার আশায় নারীটি নির্দেশনা অনুসরণ করেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
এ ধরনের প্রতারণায় সাধারণত পুরস্কার জেতার খবরকে প্রলোভন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ভুক্তভোগীকে বোঝানো হয়, সামান্য অর্থ পাঠালেই তিনি বড় অঙ্কের পুরস্কার পাবেন। কখনো কর, নিবন্ধন খরচ, কাগজপত্র প্রস্তুত বা পুরস্কার পৌঁছে দেওয়ার ব্যয়ের কথা বলা হয়। কিন্তু প্রকৃত পুরস্কারের বদলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করাই প্রতারকদের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এই ঘটনায় তদন্তকারীদের দাবি, ৭৫ বছর বয়সী নারীকে একই ধরনের কৌশলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। তবে ফোনকলটি ঠিক কে করেছিলেন এবং কথোপকথনের প্রতিটি পর্যায়ে কার কী ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, একই সময়ে ওই নারীর ব্যক্তিগত ইমেইল হিসাবের নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে যায়। শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, তাঁর ইমেইলের গোপন সংকেত পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং বার্তা অন্য একটি ইমেইল ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হয়। ফলে নিজের যোগাযোগব্যবস্থার ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ কমে যায়। ব্যক্তিগত ইমেইল হিসাব অন্যের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে ব্যাংক, কেনাকাটা, অর্থ পাঠানো কিংবা ঋণপত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে ঠিক কীভাবে এই নারীর ইমেইল হিসাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তের নথি ও আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ থেকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে ওই নারী তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে ১৪ হাজার ডলারের বেশি অর্থ উত্তোলন করেন। তদন্তকারীদের দাবি, এর মধ্যে মোট ১৪ হাজার ২২০ ডলার নগদ অর্থ ও জেল নামের একটি ডিজিটাল অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্লেকের কাছে পৌঁছায়। এই অর্থ কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কোন সময়ে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিটি লেনদেনে কার ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হয়। প্রবীণ নারীর কাছ থেকে এত বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগটি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অভিযুক্তের ফ্লোরিডা সফর। তদন্তকারীদের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ব্লেক নিউইয়র্ক থেকে ফ্লোরিডার ডেটোনা বিচে যাওয়ার জন্য নিজের কর্মসংস্থানের সুবাদে পাওয়া অপেক্ষমাণ যাত্রী হিসেবে ভ্রমণের সুবিধা ব্যবহার করেন। এ ধরনের সুবিধায় কর্মীরা আসন খালি থাকা সাপেক্ষে তুলনামূলক কম খরচে বা বিশেষ শর্তে ভ্রমণ করতে পারেন। ডেটোনা বিচে পৌঁছে তিনি গাড়ি ভাড়ার একটি সেবার মাধ্যমে পাম কোস্ট এলাকার একটি আবাসনস্থলে যান বলে তদন্তকারীরা জানান। পরদিন সকালে তাঁকে ওই ৭৫ বছর বয়সী নারীর বাড়িতে যেতে দেখা যায় বলে তদন্তের বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ব্লেক ওই নারীর বাড়িতে প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতরে একটি হাতে লেখা নোট খুঁজে পান বলে শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটটিতে ঋণপত্র প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলার সময় ব্লেককে নিজের নাতনি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাঁকে ওই ঋণপত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা ছিল বলে অভিযোগ। এই তথ্য মামলাটিকে শুধু ফোনে অর্থ আদায়ের ঘটনা হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং ব্যক্তিগত পরিচয় ব্যবহার করে আর্থিক হিসাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও সামনে এনেছে। অবশ্য নোটটি কে লিখেছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে লেখা হয়েছিল, তার চূড়ান্ত বিচারিক মূল্যায়ন আদালতেই হবে।
এরপর ওই নারীর ঋণপত্রে একাধিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের হিসাবে, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৮৮টি লেনদেনে ১০ হাজার ৫৯০ ডলার ৩০ সেন্ট খরচ করা হয়েছিল। এসব লেনদেনের মধ্যে অ্যাপল পণ্যের জন্য ১ হাজার ৫২৩ ডলার ১৬ সেন্ট এবং ইবে থেকে কেনাকাটায় ১ হাজার ৭৪০ ডলার ৯১ সেন্ট ব্যয়ের তথ্য রয়েছে। ইবে থেকে কেনা পণ্যটি ব্রুকলিনে ব্লেকের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। এ ছাড়া টি-মোবাইল, উগ নামের পোশাক ও জুতার পণ্য, ব্রুকলিনের একটি চুল কাটার দোকান, গাড়ি ভাড়া এবং খাবার সরবরাহের সেবায়ও অর্থ খরচের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, অনলাইনে করা কিছু কেনাকাটায় ব্লেকের নিজের নাম, ইমেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার একটি বিপণিবিতানে ওই নারীর ঋণপত্র ব্যবহার করার সময় ব্লেককে দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। সংশ্লিষ্ট দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ধারণ করা দৃশ্য সংগ্রহ করা হয়। লেনদেনের দিনগুলোতে ব্লেকের মুঠোফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা বিভিন্ন কেনাকাটা ও অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র থাকার অভিযোগ সামনে আনেন। তবে কোনো প্রমাণের চূড়ান্ত গ্রহণযোগ্যতা এবং অপরাধের দায় নির্ধারণ আদালতের বিষয়। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির মোট পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ৩১০ ডলার। এর মধ্যে ৫০০ ডলারের উপহার কার্ড, ১৪ হাজার ২২০ ডলারের নগদ অর্থ ও ডিজিটাল লেনদেন এবং ঋণপত্রে ১০ হাজার ৫৯০ ডলার ৩০ সেন্টের অভিযোগযুক্ত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই হিসাব যোগ করলে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৩১০ ডলার ৩০ সেন্ট। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তা সংক্ষেপে ২৫ হাজার ৩১০ ডলার হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মূল হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে। তবে অর্থের কতটুকু উদ্ধার হয়েছে, ভুক্তভোগী কোনো অর্থ ফেরত পেয়েছেন কি না এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো লেনদেন বাতিল করেছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
ফ্ল্যাগলার কাউন্টির শেরিফ রিক স্ট্যালি এই ঘটনায় বিমান সংস্থার কর্মীদের ভ্রমণসুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হলো, অধিকাংশ বিমানবালা এই সুবিধা ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেন; কিন্তু ব্লেকের বিরুদ্ধে একজন প্রবীণ বাসিন্দাকে লক্ষ্য করে প্রতারণার কাজে সেই সুবিধা ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহের পর ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংগ্রহ করেন। পরে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্লেকের বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ প্রতারণার অভিযোগ, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ এবং ২০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ চুরির অভিযোগ। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। মামলার পরবর্তী ধাপে অভিযোগের বিবরণ, প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং অভিযুক্তের বক্তব্য বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে। প্রকাশিত আদালতসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এই ঘটনা প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে ফোনে পুরস্কার জেতার খবর পাওয়ার পর কাউকে উপহার কার্ড, নগদ অর্থ বা ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা পাঠানোর আগে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বৈধ পুরস্কার পাওয়ার জন্য সাধারণত অচেনা ব্যক্তিকে উপহার কার্ড কিনে পাঠানোর শর্ত থাকে না। কেউ যদি পুরস্কার দেওয়ার নামে আগে টাকা দাবি করেন, তাহলে সেটিকে সম্ভাব্য প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। ফোনে দেওয়া ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ও যাচাই করা যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তথ্য নিশ্চিত করা নিরাপদ। পরিবারের সদস্যদেরও প্রবীণ স্বজনদের ব্যাংক হিসাব, ইমেইল ও ঋণপত্রের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকা দরকার। অপরিচিত ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত তথ্য চান, হিসাবের গোপন সংকেত পরিবর্তন করতে বলেন কিংবা অন্য কাউকে নিজের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতে নির্দেশ দেন, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। কোনো হিসাবের ওপর অননুমোদিত প্রবেশের সন্দেহ হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ঋণপত্র প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ইমেইল সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। গোপন সংকেত পরিবর্তন, অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই চালু করা এবং সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করাও সহায়ক হতে পারে।
ফ্ল্যাগলার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা ব্লেকের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের যোগাযোগ করতে বলেছে। কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বর ৩৮৬-৩১৩-৪৯১১। প্রবীণ বা ঝুঁকিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আর্থিক শোষণের সন্দেহ হলে ফ্লোরিডার নির্ধারিত সহায়তা নম্বর ১-৮০০-৯৬২-২৮৭৩-এও জানানো যায়।
মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।