নেব্রাস্কায় বন্যায় ক্ষতি ২৩ মিলিয়ন ডলার ছাড়াল, আট কাউন্টির জন্য কেন্দ্রীয় সহায়তা চাইলেন গভর্নর
নেব্রাস্কায় ভয়াবহ বন্যায় সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আট কাউন্টির পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় সহায়তা চেয়েছেন গভর্নর জিম পিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্গঠন এবং সরকারি অবকাঠামো মেরামতের ব্যয় সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা চেয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর জিম পিলেন। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আটটি কাউন্টির জন্য কেন্দ্রীয় দুর্যোগ সহায়তার আবেদন করেছেন তিনি। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব এবং সহায়তার পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।
নেব্রাস্কার জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই সময়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। দ্রুত পানি বেড়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে হয়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরও কয়েকটি এলাকায় কাদামাটি, আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর প্রয়োজন দেখা দেয়।
গভর্নরের আবেদনে অন্তর্ভুক্ত আটটি কাউন্টি হলো ডগলাস, ফিলমোর, ল্যাঙ্কাস্টার, স্যালাইন, সারপি, সন্ডার্স, সিওয়ার্ড ও থেয়ার। এসব এলাকায় সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা, বিদ্যালয়, সরকারি ভবন এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং স্থানীয় সরকারি পরিষেবা স্বাভাবিক করতে উল্লেখযোগ্য অর্থের প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গভর্নর জিম পিলেনের আবেদনের লক্ষ্য হলো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার ব্যয় কমানো। কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ঘোষণা অনুমোদিত হলে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের সহায়তা সড়ক ও সেতু মেরামত, সরকারি স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং জরুরি পরিষেবা সচল করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে অর্থ ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। আট কাউন্টির জন্য বৃহত্তর সহায়তার আবেদনটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া অনুমোদনের দাবি করা যাবে না।
বন্যার তীব্রতা বোঝাতে লিংকন শহরের বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যানও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর লিংকন বিমানবন্দরে এক দিনে ৬ দশমিক ১৫ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এতে শহরটির এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের আগের রেকর্ড ভেঙে যায়। আগের রেকর্ডটি ছিল ১৯১০ সালে নথিভুক্ত ৫ দশমিক ৪৫ ইঞ্চি। ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির কিছু এলাকায় ১০ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাতের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও সড়ক যোগাযোগের ওপর চাপ তৈরি হয়।
বন্যার প্রভাব শুধু সরকারি অবকাঠামোয় সীমাবদ্ধ ছিল না। ডগলাস কাউন্টিতে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ওই কাউন্টির জন্য ছোট ব্যবসায় সহায়তাকারী কেন্দ্রীয় সংস্থার পৃথক দুর্যোগ ঘোষণার আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। একই বন্যায় অন্তত ২৫টি বাড়ি অথবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। যোগ্য সম্পত্তির মালিকেরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে স্বল্প সুদের ঋণের জন্য আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে ঋণসহায়তা সরকারি অনুদানের সমান নয় এবং এর জন্য আলাদা যোগ্যতা যাচাই প্রয়োজন।
এর আগে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অঙ্গরাজ্য প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর মূল্যায়ন এবং পুনর্গঠনের প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তার জন্য আবেদন করা হয়। এখন স্থানীয় প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎব্যবস্থা এবং সরকারি পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করা।
কেন্দ্রীয় সহায়তা অনুমোদিত হলে পুনর্গঠনের আর্থিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, ক্ষয়ক্ষতির যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর। আট কাউন্টির জন্য আবেদন করা হয়েছে এ তথ্য নিশ্চিত হলেও বৃহত্তর সহায়তা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে বলে দাবি করার মতো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নেব্রাস্কার এই বন্যা আবারও দেখিয়েছে, অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে সড়ক যোগাযোগ, নগর অবকাঠামো ও জনসেবার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্গঠনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।